শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

যাতায়াতের সুবিধায় বাইকই এখন ভরসা অফিস যাত্রীদের , বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুন



 আসলাম হোসেন, কলকাতাঃ এক টানা লক ডাউনের পর পুনরায় চালু হয়েছে বাস, অটো বা ট্যাক্সি। তবে তুলনামূলকভাবে রাস্তায় এই সমস্ত যান বাহনের সংখ্যা অনেকটাই কম। তার ওপর ভাড়াও বেড়েছে অনেকই। সেইসঙ্গে মানুষের ভিড়ে করোনা সংক্রমণের ভয় তো রয়েইয়ে। কিন্তু উপায় নেই অফিস হোক বা হাসপাতাল যে করেই হোক গন্তব্যস্থলে যে পৌঁছাতেই হবে। এক টানা লক ডাউন শেষ হওয়ার পর প্রথমদিকে সাইকেলকেই বেছে নিয়েছিলেন শহর ও শহরতলির অফিস যাত্রীরা। কিন্তু অনেকটা পথ অতিক্রম করে একটানা সাইকেল চালিয়ে রোজ গন্তব্যস্থলে যাওয়াটাও সম্ভব নয়। শরীর দেয়। তাই প্রতিদিন যাতায়াতের সুবিধার জন্য এখন বাইককেই বেছে নিচ্ছেন শহর ও শহরতলির সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত চাকুরিজীবী মানুষ। আর যারফলে এখন শহরের রাস্তায় অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় বাইকই বেশি চোখে পড়ছে। আর এই সুযোগে দেদার বিকোচ্ছে স্কুটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের বাইক। 

বারাসতের বাসিন্দা তপন বিশ্বাস। আগে ট্রেনে করেই ডালহৌসির অফিসে যাতায়াত করতেন। কিন্তু লক ডাউনের পর করোনা সংক্রমণের ভয়ে প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে ডালহৌসির অফিসে যাতায়াত করতেন । রাস্তায় বাসের সংখ্যা কম। ট্যাক্সি বা অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া খরচও প্রতিদিন বহন করা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই সাইকেল চালিয়েই অফিসে যেতেন। কিন্তু প্রতিদিন প্রায় ২০ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা সাইকেলে যাতায়াত করাটাও সম্ভব নয়। তাই অফিসে যাতায়াতের জন্য শেষে মোটরবাইক কিনে ফেললেন। 

কোভিড পরিস্থিতিতে একইভাবে অফিসে যাতায়াতের সুবিধার বাইক কিনেছেন মুহাম্মদ ইকবাল,রিন্টু সরকার সহ এরকম অধিকাংশ মানুষই টানা লক ডাউনের পরেই যাতায়াতের সুবিধার জন্য এবং করোনা থেকে বাঁচতে এখন বাইকেই বেছে নিচ্ছেন । বিশেষ করে অফিস কর্মীদের মধ্যে বাইক কেনার ঝোঁক এখন বেশি। আর এরমধ্যে স্কুটিকেই প্রথম তালিকায় রাখছেন আরোহীরা। যারফলে শহরের রাস্তার মোড়ে মোড়ে, সিগন্যালে অন্যান্য গাড়ির তুলনায় এখনই বাইকই বেশি চোখে পড়ছে। 

সাধারণত কলকাতার রাস্তায় ৬০০০ টি বাস চলে। কিন্তু লক ডাউন এবং কোভিডের কারণে বতর্মানে সেই সংখ্যা নেমে হয়েছে ১২০০ টি। আর যার ফলে রাস্তায় বেড়িয়ে বাস না পেয়ে চড়ম হয়রানি হতে হচ্ছে যাত্রীদের। সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি হয় রাতে অফিস থেকে ফেরার সময়। তখন বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া দিয়ে একবারের জায়গায় তিন থেকে চারবার কাটা রুটে  বাড়ি ফিরতে হচ্ছে যাত্রীদের। তাই দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে এখন বাইকই একমাত্র ভরসা। রাস্তায় এতসংখ্যক বাইক দেখে কোনও কোনও যাত্রী বলেই ফেলছেন ‘যে মনে হচ্ছে বাইক ম্যারাথন হচ্ছে।’

বাইক বিক্রেতা সংস্থাগুলি জানাচ্ছে  টানা লক ডাউনের পর বাইকের বিক্রি সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুন থেকে তিনগুন বেড়েছে। রাজারহাটের বাইক বিক্রেতা সংস্থা ইয়ামাহা তনুস্কা অটো শোরুমের সুভাশিষ গুহ বলেন সাধারণত বাইকের বিক্রি বেশি হয় বিশ্বকর্মা পূজো থেকে ছট পূজো পর্যন্ত। এই সময় গড়ে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ টি বাইক বিক্রি হতো। কিন্তু বতর্মানে বাইকের বিক্রি উৎসবের সময়কে ছাপিয়ে গিয়ে দিনে গড়ে ৬ থেকে ৭ টি বিক্রি হচ্ছে। 

উত্তর ২৪ পরগণার নিমতার টিভিএস বাইক বিক্রি সংস্থা বেঙ্গল টিভিএস এর সুভাশিষ গুহর কথায় করোনা পরিস্থিতিতে এখন সবাই চাইছে নিজেকে এবং পরিবারকে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে। সেইকারণে এখন প্রতিদিনই বাইক কেনার জন্য শোরুমে খোঁজ নিতে আসছেন দৈনিক গড়ে ৮-৯ জন। সেইসঙ্গে বাইকও কিনছেন অধিকাংশ মানুষ। আগে এই সংখ্যা ছিল দৈনিক গড়ে ২-৩ জন। তিনি জানান এখন যে সমস্ত মানুষ বাইক কেনার জন্য শোরুমে যাচ্ছেন তাদের ৯০ শতাংশ মানুষই চাকুরিজীবী। এই সমস্ত বাইকের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষই স্কুটির চাহিদা বেশি। জানিয়েছেন কলকাতার  বাজাজ বাইকের শোরুম রোলটা বাজারের সুব্রত চৌধূরী । তিনি বলেন যে এখন বাইকের চাহিদা এতটাই বেশি যে কেনার জন্য আগে অর্ডার দিতে হচ্ছে।  


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only