বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শেষ অবধি ‘তর্পণ’ রাজনীতি নিয়ে পিছু হটল বিজেপি

পুবের কলম প্রতিবেদক:­ একুশের বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই ‘হিন্দুত্বকে’ গভীরভাবে আঁকড়ে ধরছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। ধর্মীয় আচারে রাজনীতির রং লাগিয়ে ফায়দা তোলার কোনও সুযোগই হাতছাড়া করতে চাইছেন না। বুধবারও মহালয়ার আগের দিন হিন্দুদের পবিত্র ধর্মীয় আচার ‘তর্পণ’কে রাজনীতির রঙে রাঙাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশি বাধায় বাগবাজারে বিজেপির ‘তর্পণ-রাজনীতি’ কর্মসূচি ভেস্তে গিয়েছে। অবশ্য পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বাগবাজারের পাশের এক ঘাটে অবশ্য গুটিকয়েক শহিদ পরিবারের লোকদের নিয়ে তর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। কিন্তু রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। 

গতবছর থেকেই ‘তর্পণ’ রাজনীতি শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। গতবছর বাগবাজার ঘাটে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার কারণে মারা যাওয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তর্পণে শামিল হয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। এবারেও দক্ষিণবঙ্গের ২২ বিজেপি কর্মীর পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে তর্পণ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু করোনা আবহে এ বছর আর রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। মঙ্গলবার রাতেই বিনা অনুমতিতে বাগবাজার ঘাটে তর্পণ রাজনীতির জন্য বাঁধা মঞ্চ খুলে দিয়েছিল পুলিশ। এ দিন সকালে বাগবাজার ঘাটে তর্পণের জন্য বিজেপি নেতা-কর্মীরা হাজির হলে বাধা দেয় পুলিশ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফিরে আসেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়,অরবিন্দ মেনন,রাহুল সিনহা,মুকুল রায়রা। তবে বেশ কিছু বীরপুঙ্গব বিজেপি কর্মীরা ‘তর্পণ’ করতে দেওয়ার দাবি জানিয়ে রাস্তায় বসে পড়ে অবরোধের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। পুলিশ সক্রিয় হতেই বিপ্লব শেষ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।  

‘তর্পণ’কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে না পেরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অবশ্য তোপ দেগেছেন বঙ্গ বিজেপির ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। হিন্দুত্বের আবেগে সুড়সুড়ি দিতে তিনি অভিযোগ করেন ‘রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের ৭০ শতাংশ মানুষের তর্পণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তর্পণ করার অধিকার সবার রয়েছে। অথচ তৃণমূল জমানায় রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা ধর্মীয় আচরণ পালন করতে পারছেন না।’ এখানেই থামেননি বঙ্গ বিজেপির ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক। সংখ্যালঘুদের পরোক্ষে নিশানা করে তিনি বলেন ‘সংখ্যালঘুদের তোষণে ব্যস্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই মুহররম আর শুক্রবার (জুম্মা বার) বাঁচিয়ে লকডাউন ঘোষণা করেছেন। অথচ রাম মন্দিরের ভূমিপুজোর দিনে হিন্দুরা যাতে আনন্দোৎসবে মেতে উঠতে না পারেন তার জন্য লকডাউন করেছিলেন।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only