বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

প্রণবদার সঙ্গে কিছ‍ু স্মৃতি


আহমদ হাসান ইমরান

প্রণব ম‍ুখোপাধ্যায়কে আমি যখন প্রথম দেখেছি, তখন পশ্চিমবাংলায় বামফ্রন্টের শাসন চলছে। সেই সময় আমি কলকাতার ‘কুষ্টিয়া হাউজিং এস্টেট’-এ থাকি। রাত তখন ৮টা হবে। ঘরে ফেরার সময় দেখলাম, কুষ্টিয়া হাউজিংয়ের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় ছোট একটা মঞ্চ বেঁধে সভা হচ্ছে। তাতে বড়জোর ৩০০ জন শ্রোতা। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। কংগ্রেসের নেতা হিসাবে হাউজিংয়ে প্রণব ম‍ুখোপাধ্যায় সভা করতে এসেছেন। প্রণব ম‍ুখোপাধ্যায়ের নাম শুনেছিলাম। তাই দাঁড়িয়ে গেলাম। দেখলাম ধুতি পাঞ্জাবি পরা প্রণববাবু বক্তব্য রাখছেন। ধীর-স্থির বক্তব্য তথ্য ও পাণ্ডিত্যে ভরা। কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা যেভাবে ভোটারদের গরম করার জন্য, তাদের মন জয় করার জন্য জোরালো বক্তব্য রাখেন, প্রণববাবুর ভাষণে তার কোনও রেশ নেই। বলতে গেলে খানিকটা হতাশই হয়েছিলাম। এই ধরনের ভাষণে সিপিএমের ঝাঁঝালো স্লোগানে অভ্যস্ত শ্রোতাদের মন জয় করা বেশ কঠিন।  


এরপর প্রণবদাকে নানা স্থানে দেখেছি। দিল্লিতে একটি সর্বভারতীয় মুসলিম ডেলিগেশনকে প্রণবদা তাঁর বাড়িতে সময় দিয়েছিলেন। আমিও তাতে শামিল ছিলাম। প্রণবদার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়, যখন তিনি ২০০৪ সালে জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী হন। আমি তখন সাপ্তাহিক কলম প্রকাশ করি। সম্ভবত কংগ্রেস নেতা মুহাম্মদ সোহরাব সাহেব আমাকে বলেছিলেন, প্রণববাবু যোগাযোগ করতে বলেছেন। আমি একদিন সন্ধেবেলা তাঁর ঢাকুরিয়ার বাড়িতে দেখা করতে গেলাম। যতদূর মনে পড়ে, কংগ্রেস নেতা মান্নান হোসেন সেখানে ছিলেন। তিনি কোনও রাখঢাক না রেখে বললেন, ‘তুমি তো জানো জঙ্গিপুর মুসলিম প্রধান এলাকা। মান্নান হোসেন বললেন, প্রণবদা, জঙ্গিপুর শুধু মুসলিম প্রধান নয়। এখানকার ৭৫ শতাংশেরও বেশি ভোটার মুসলিম।

 

প্রণবদা বললেন, ইমরান তোমার সম্পর্কে শুনেছি, কলমের সম্পাদক হিসাবে মুসলিমদের বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে তোমার ভালো যোগাযোগ রয়েছে। তুমি যদি এদের সঙ্গে কথা বলো, তাহলে ভালো হয়।’ আমিও তাঁকে বললাম, দীর্ঘদিন ধরে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় রয়েছে। জঙ্গিপুরে বেশিরভাগই বামফ্রন্টের সাংসদই জিতে আসছেন। কিন্তু জেলার বা জঙ্গিপুরের কোনও উন্নতিই হয়নি। জঙ্গিপুর থেকে সিপিএমের টিকিটে জেতা আবুল হাসনাত খান সাহেব দু’বার সাংসদ হয়েছিলেন, কিন্তু এই এলাকার উন্নয়নে কোনও ভূমিকা রাখেননি। শোনা যায়, একটি গরিব এলাকার সাংসদ হলেও এমপি কোটার টাকাও খরচ করেন সিপিএমের অন্য কর্তা-ব্যক্তিরা। তাদের অঙ্গুলিহেলন ছাড়া তিনি কিছুই করতে পারেন না।’ আমি আরও বললাম, ‘সর্বভারতীয় রাজনীতিতে আপনার প্রভাব রয়েছে। 


আপনি এখান থেকে জয়ী হলে জঙ্গিপুরের কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।’ প্রণবদা বললেন, ‘দোয়া করো’।  


স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, প্রণবদা যাতে জেতেন, সেজন্য আমি যতটা পারি চেষ্টা করেছিলাম। বিভিন্ন মুসলিম সংস্থার সঙ্গে প্রণবদার যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছিলাম। মুর্শিদাবাদে সক্রিয় মুসলিম সমাজকর্মী ও কিছু প্রভাবশালী আলেমের সঙ্গে নিজে কথা বলেছি। 


জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রচার শুরু হবার পর আমি একদিন প্রণবদাকে বললাম, ‘আমি চাই আমাদের সাপ্তাহিক কলমে আপনার একটি বড় সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হোক। জঙ্গিপুরের মানুষরা অবশ্যই আপনার নাম জানে, কিন্তু এখানকার বাসিন্দাদের জন্য আপনার বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা  প্রচারিত হলে  ভালো হবে। প্রণবদা একটি তারিখ দিয়ে বললেন, ‘‘ওই দিন তুমি চলে এসো। দিনের বেলা হবে না। রাতের দিকে তোমাকে সাক্ষাৎকার দেব। জি নিউজের একজন সাংবাদিক ইউসুফকেও সময় দিয়েছি। তাহলে তোমরা দু’জনেই একসঙ্গে আমার ইন্টারভিও নিও।’’ (চলবে)


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only