রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

যারা মন্দির-মসজিদ নিয়ে বিবাদ করছেন তারা দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করছেন : ইকবাল আনসারী

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  উত্তর প্রদেশের মথুরায় এবার শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান পুনরুদ্ধারের নামে সেখানকার শাহী মসজিদ অপসারণের দাবি ওঠায় বাবরী মসজিদ  মামলার সাবেক বাদী ইকবাল আনসারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যারা মন্দির-মসজিদ নিয়ে বিবাদ করছেন তারা দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করছেন। হিন্দু-মুসলিমের রাজনীতি করা লোকেরা এই বিষয়টি বাড়িয়ে যাচ্ছেন। এরা  হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে লড়াই বাধিয়ে দিতে চায়।    

আজ রবিবার গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে ইকবাল আনসারী বলেন,  আমরা হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে বিবাদ চাই না।এমন কিছু লোক আছেন যারা মন্দির এবং মসজিদ বিরোধ চালিয়ে যেতে চান যাতে তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। 

তিনি বলেন, ‘যেদিন আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিরোধ থাকবে না, তখন বিশ্বের মধ্যে ভারতের নাম শীর্ষে থাকবে।  বাবরী মসজিদ মামলা ৫০ বছর ধরে আদালতে ছিল। এবার কিছু লোক মথুরা ও কাশীর কথা বলতে শুরু করেছে। এই লোকেরা হিন্দু ও মুসলিমকে নিজেদের মধ্যে লড়িয়ে দিতে চায়। এই লোকেরা জানে না যে তারা ভারতের অগ্রগতি বন্ধ করছে। জাতি ও ধর্মের রাজনীতি করা লোকেদের   অন্তত দেশ সম্পর্কে চিন্তা করা উচিত। হিন্দু-মুসলিমের বিবাদ শেষ করুন, সবাইকে আল্লাহ্র কাছে ফিরে যেতে হবে।’

১৯৮৪ সালে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিতে প্রথম অযোধ্যায় বাবরী   মসজিদ, কাশীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ এবং মথুরায় শাহী ঈদগাহ  সরিয়ে মন্দির স্থাপনের প্রস্তাব ওঠে। ১৯৮৯ সালে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপরে  বিজেপি’র সিনিয়র নেতা এলকে আদবানীর রথযাত্রা এবং ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর  বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ঘটে। ‘করসেবক’ নামধারী উগ্রধর্মান্ধ জনতা প্রকাশ্য দিবালোকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় কয়েকশো বছরের পুরোনো বাবরী মসজিদ। তাদের দাবি ওই স্থানটি ভগবান রামের জন্মস্থান। দীর্ঘকাল ধরে আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট সেই জমিতে বহুলালোচিত ‘রাম মন্দির’ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। সেই নির্মাণ কাজ এরইমধ্যে শুরুও হয়ে গেছে।
এবার নতুনভাবে হিন্দুত্ববাদীরা  শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান নিয়ে মাঠে নেমেছেন। শনিবার  মথুরার আদালতে ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান’-এর নামে মামলা হয়েছে।  তাদের দাবি, মথুরায় ‘শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি’র ১৩.৩৭ একরের অধিকার এবং শাহী ইদগাহ মসজিদ সরাতে হবে। শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমানের হয়ে মামলা করেছেন রঞ্জনা অগ্নিহোত্রী ও ছ’জন ভক্ত। তাদের আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন ও বিষ্ণু জৈনদের   বক্তব্য, সুন্নী ওয়াকফ বোর্ডের সম্মতিতে ঈদগাহ পরিচালন কমিটি বেআইনিভাবে মসজিদের কাঠামো খাড়া করেছে। মথুরার কাটরা কেশব দেবের ওই জমি আসলে শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমানের।  শ্রীকৃষ্ণের জমিতে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড বা মসজিদ কমিটির অধিকার থাকতে পারে না।  মথুরায় শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের পাশেই শাহী ঈদগাহ মসজিদ অবস্থিত।
এদিকে, আজ রবিবার বিজেপি’র ফায়ারব্র্যান্ড নেতা ও সাবেক এমপি বিনয়  কাটিয়ার বলেছেন, যারা আদালতে মামলা করেছে তারা খুব ভালো কাজ করেছেন। এটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। তার দাবি, যেখানে কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল সেই গর্ভগৃহে মসজিদ আছে, যার রাস্তা কৃষ্ণ জন্মভূমির ওপর দিয়ে গেছে। ওই ইস্যুতে আদালতে লড়াই থেকে শুরু করে আন্দোলন অথবা যা যা প্রয়োজন হবে তা করা হবে বলেও বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়ার মন্তব্য করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only