বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নিষিদ্ধ মঙ্গোলিয়ান ভাষা ? চিনের নয়া ফরমানের প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন আদিবাসীরা



পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ র্মের পর এবার ভাষাগত আগ্রাসনের দিকে এগোচ্ছে চিনের কমিউনিস্ট সরকার। দেশটির উত্তরাঞ্চলের মঙ্গোলিয়া সীমান্তে সুদীর্ঘকাল যাবৎ বসবাসরত আদিবাসীদের ওপর এবার চিনা খড়গ নেমে এল। চিনের নাগরিক হলেও এতকাল তারা মাতৃভাষা মঙ্গোলিয়ানেই পড়াশোনা করত। এবার তাদেরকে মাতৃভাষা বিসর্জন দিয়ে চিনের রাষ্ট্রভাষা মান্দারিনে পড়াশোনা করতে হবে। এভাবেই মঙ্গোলিয়ান সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের মাতৃভাষায় পড়াশোনার অধিকারও কেড়ে নিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হল ভিন্ন ভাষা। উল্লেখ্য যে বিশ্বে সবথেকে বেশি প্রায় ১০৫ কোটি মানুষ মান্দারিন ভাষায় কথা বলেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইংরেজি ভাষা। সরকারি নির্দেশিকা জারি করে রীতিমতো স্কুল-কলেজের সিলেবাস থেকে মঙ্গোলিয়ান ভাষাকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা চিনের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে বলেছেন একটা ভাষাকে মুছে দিয়ে মঙ্গোলিয়ান  সংস্কৃতিকে উৎখাত করতে চায় চিন। ভাষাগত অধিকার হরণ করে অন্য ভাষা চাপিয়ে দেওয়া একবিংশ শতকে বেমানান। জানা গিয়েছে যে আদিবাসীদের পাঠ্যসূচি থেকে মঙ্গোলিয়ান বিদায় করে চিনা মান্দারিন ভাষার তিনটি বিষয় যোগ করা হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে পুরোপুরি মঙ্গোলিয়ানকে বিলুপ্ত করে দেওয়ার ছক কষেছে চিন। তখন সিলেবাসে সবটাই থাকবে শুধুমাত্র মান্দারিনে। স্বভাবতই চিনা মঙ্গোলিয়ান আদিবাসী ও উপজাতিরা প্রতিবাদ-বিক্ষোভে গর্জে উঠেছেন। তাদের বক্তব্য যেএভাবে ভাষিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বরদাস্ত করা হবে না। উল্লেখ্য যে গতকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে উহান সহ চিনের অধিকাংশ জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে গিয়েছে। করোনার কারণে দেশটির নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে আগামী জুন থেকে।এমনিতেই হংকং,তাইওয়ান,শিনজিয়াং, তিব্বত প্রভৃতি আভ্যন্তরীন সমস্যায় জেরবার চিন। তার ওপর স্বশাসিত মঙ্গোলিয়ান অঞ্চল যাতে গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে না ওঠে সে জন্য সুর কিছুটা নরম করে চিন বলেছে, আপাতত মঙ্গোলিয়ান এবং কোরিয়ান ভাষাকে রেখেই পর্যায়ক্রমে মান্দারিন ভাষা চালু হবে। একে চাপিয়ে দেওয়া নীতি বা ভাষাগত আগ্রাসন না বলে বেজিংয়ের সাফাই হল ওয়ান চায়না পলিসি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only