শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বাহরাইনে টানা ষষ্ঠ দিনেও বিক্ষোভ ! কিন্তু কেন ?


 

মানামা, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ ইসরাইলের সঙ্গে বাহরাইন সরকারের শান্তি চুক্তি স্থাপনের পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে বাহরাইনের সাধারণ মানুষ। বাহরাইনের রাজতন্ত্রী শাসকদের বিরুদ্ধে টানা ৬ দিনের মতো পথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষুব্ধ জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনসমাবেশ দেখা গিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মুখে মুখে স্লোগান উঠছে, হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘ইসরাইল ও আমেরিকাকে মানি না।’ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলের কোনও রকম দখলদারি ও হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আওয়াজ তুলছেন সকলে। অনেকের হাতে ফিলিস্তিনি পতাকাও দেখা গিয়েছে। বাহরাইনবাসীর বক্তব্য জাতীয় মিডিয়া শুধু সরকারের কথাই বলছে আম আদমির মতামত নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য ‘সব বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে থেকে আমরা ফিলিস্তিনের সঙ্গে আছি।’ মঙ্গলবারই ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমরশাহী একটি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তিতে সই করে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ভাগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সংক্রান্ত কিছু ঘোষণা করেছিলেন। সেসময় তিনি বলেছিলেন আরও পাঁচ থেকে ছয়টি আরব রাষ্ট্র হাত মেলাতে পারে ইসরাইলের সঙ্গে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, আমিরশাহীর বিদেশমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ এবং বাহরাইনের বিদেশমন্ত্রী আবদুললতিফ বিন রাশিদকে সামনে নিয়েই তিনি বলেছিলেন ‘পাঁচটি দেশের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে।’ ট্রাম্পের এরকম ষড়যন্ত্রী নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছে ফিলিস্তিনের সব রাজনৈতিক দল বাহরাইনের বিরোধী দলসহ বিশ্বের বহু ইসলামি জোট, দেশ ও প্রতিষ্ঠান। জায়নবাদীদের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে সকলেই বলছেন ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করা হয়েছে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে ইসরাইলের আগ্রাসন ও দখলদারিকে মান্যতা দেওয়াটা অগ্রহণযোগ্য বলেই মতামত প্রকাশ করছে বিশ্লেষকমহল। গবেষকরা বলছেন এর পেছনে কাজ করছে ট্রাম্পের স্বার্থ। আসন্ন নির্বাচনে ইসরাইলি লবিকে কাজে লাগিয়ে ভোট আদায়ের কৌশল নিয়েছেন ট্রাম্প।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only