বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

‘ঘৃণা বেচে লাভ করছে ফেসবুক’ সংস্থার অমুসলিম সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের পদত্যাগ



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় সংস্থা ফেসবুকের একজন অমুসলিম সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অশোক চাঁদওয়ানি সংস্থার চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর ইস্তফার কারণ হিসেবে তিনি সমাজে ঘৃণা ছড়িয়ে ব্যবসায় লাভ করার অভিযোগ এনেছেন ফেসবুকের বিরুদ্ধে। এই খবর জানিয়েছে আমেরিকার প্রথম সারির এক সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট। অশোর তাঁর ইস্তফাপত্রে লিখেছেন যাঁরা এই সংস্থায় (ফেসবুক) চাকরি করেন তাঁদের অধিকাংশই ফেসবুকে এই পরিবর্তনের আভাস পেয়েছেন। ফেসবুক ইতিহাসের ভুল জায়গায় নিজেকে স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন চাঁদওয়ানি। ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে তাঁর ইস্তফাপত্রটি এসেছে। তাঁকে উদ্ধৃত করে সংবাদপত্রটি জানাচ্ছে যে ৪টি মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ফেসবুক। তার সবকটি আজ বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ ছিল গ্রাহকের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্ছতা। ফেসবুক প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল যে তারা মানবাধিকার সংস্থাগুলির পরামর্শে কাজ করবে। কিন্তু সবকিছুই আজ ত্যাগ করা হয়েছে। জনসংযোগ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়েছে এই সংস্থা। চাঁদওয়ানি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে লিখেছেন ঘৃণা ছড়ায় যে গোষ্ঠিগুলি তারাই আজ ফেসবুক ব্যবহার করছে। এবং মানুষের মধ্যে হিংসা প্রবৃত্তি জাগিয়ে তুলছে। এর ফলে সমাজে হিংসার ঘটনা বাড়ছে। ফেসবুকের বিরুদ্ধে ঘৃণার অভিযোগ ছড়ানোর একাধিক মামলা ঝুলে রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সে ব্যাপারে উদাসীন। চাঁদওয়ানি আরও লিখেছেন চরম দক্ষিণপন্থী সংস্থাগুলি ফেসবুকে জায়গা করে নিচ্ছে। ফেসবুকে এইসব থামাতে কোনও বিশ্বাসযোগ্য কৌশল প্রয়োগ করেনি। মানবাধিকার সংগঠন এবং ফেসবুকের কর্মীদের ক্রমাগত চাপ সত্ত্বেও ঘণা ছড়ানোর বার্তা বহন করতে ফেসবুককে ব্যবহার হতে দেওয়া হয়েছে।


যদিও ফেসবুক চাঁদওয়ানির সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছে তারা ঘৃণা ছড়ায় এমন বক্তব্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই খবরও জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের এই সাফাই কেউ মানতে রাজি নয়। ফেসবুকের একাধিক কর্মী ঘৃণা ছড়ানোর দায়ে দায়ি করেছে এই সোশ্যাল মিডিয়াকে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে– তারা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ফেসবুক রাশিয়ার ভুয়ো খবরকে ব্যবহার করে নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয় সুনিশ্চিত করেছিল। গত ১৪ আগস্ট মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের একটি প্রতিবেদনে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির সঙ্গে ফেসবুকের আতাতের কথা জানিয়েছিল। সংবাদপত্র দাবি করেছিল বিজেপি নেতাদের একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বার্তা তুলে (ডিলিট) দিতে অস্বীকার করেছিল ফেসবুক। কারণ বিজেপি নেতাদের বিদ্বেষমূলক বার্তা তুলে দিলে ফেসবুকের ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে। সংস্থার পাবলিক পলিসি ডাইরেক্টর আঁখিদাসের নামে এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ করেছিল ফেসবুকের কর্মীরাই। ফেসবুকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগও করা হয়েছিল যে– রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচারের আগে তারা বিষয়বস্তুও যাচাই করে দেখার প্রয়োজন মনে করে না। তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো রাজনীতিকদের ভুয়ো তথ্য প্রচার করতেও পিছুপা হয় না। এই সব অভিযোগ নিয়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের সংসদীয় প্যানেলের চেয়ারম্যান কংগ্রেস নেতা শশী থারুর ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে প্যানেলের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সংসদীয় প্যানেল ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে একাধিক অপ্রীতিকর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। ফেসবুকের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো নিয়ে সংস্থার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার চাঁদওয়ানির অভিযোগ সেই তালিকায় এক নতুন সংযোজন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only