বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ফের লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা, চিনা আগ্রাসন প্রতিহত করলেন ভারতীয় জওয়ানরা

 


পুবের কলম ডেস্কঃ চিনের প্ররোচনার ফাঁদে পা দিচ্ছে না ভারত। এবার গুলি চালিয়ে প্ররোচনা,উল্টে ভারতকে দুষল বেজিং। যদিও ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর চিনের লাল ফৌজই প্রথম শূন্যে গুলি চালিয়েছে। ভারত কেবল তার জবাব দিয়েছে। এরপরই প্যাংগং লেক সহ পূর্ব লাদাখে বিপুল সংখ্যায় সেনা মজুত করতে শুরু করেছে ভারত।
প্রসঙ্গত, ভারত-চিন সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল ৪৫ বছর পর। ১৯৭৫ সালে শেষবার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেূা বরাবর গুলি চলেছিল। সেবার অরুণাচলে সীমান্ত অতিক্রম করে তুলুংলা এলাকায় ভারতীয় সেনা টলহলদারি বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছিল চিনের সেনা। সেই ঘটনায় চার ভারতীয় জওয়ানের মৃতু্য হয়েছিল।
সোমবার বেশি রাতে ফের একবার লাদাখের প্যাংগং লেকের দক্ষিণ তট নিয়ে ভারতীয় এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করে চিনের ফৌজ। তারা হাওয়ায় গুলিও ছোঁড়ে। ভারতীয় সেনার তরফে এক বিবৃতি দিয়ে মঙ্গলবার এই খবর জানানো হয়েছে। চিনা ফৌজের সেই দুরভিসন্ধি বুঝতে পেরে ভারতীয় জওয়ানরা কিন্তু ড্রাগনের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। ভারতীয় সেনার তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে চিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলা হয়েছে যে বেজিং তাদের দেশের মানুষের কাছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কিন্তু ভারতীয় সেনা কূনই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) অতিক্রম করেনি এবং গুলিও ছোঁড়েনি। ভারত আগ্রসন নীতিতে বিশ্বাস করে না। ভারতীয় সেনা কূনও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করেনি ও চিনের প্ররোচনাতেও সংযত থেকেছে। ভারতীয় সেনার বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে ভারত আলোচনার মাধ্যমে লাদাখ সীমান্তে সেনা সরানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। কিন্তু অপর দিকে চিন ক্রমাগত প্ররোচনা দিয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় সেনার তরফে সোমবার রাতের ঘটনার যে বিবরণ পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় সেনার নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি পাহাড়ের চূড়া দখল নিতেই চিনের সেনা উঠে পড়ে লেগেছে। কারণ গুরুং পাহাড় ও রাজাংলা পাহাড়ের মাঝামাঝি সেই চূড়া দখল রয়েছে ভারতীয় সেনার। সেূান থেকে নিচে চিনা সৈন্যের গতিবিধির উপর নজর রাূছে ভারতীয় জওয়ানরা। তাতে অসুবিধায় পড়েছে চিন। সোমবার রাতে চিনের সেনা দক্ষিণ প্যাংগং লেকে ভারতের ফরওয়ার্ড পোস্টের কাছাকাছি চলে আসে। ভারতীয় সেনার বক্তব্য অনুযায়ী চিনা সৈন্য আসলে ওই এলাকার গুরুং পাহাড় ও তাজাংলা পাহাড়ের মাঝামাঝি চূড়ার দখল নিতে এসে ছিল। তাদের এই চেষ্টাকে প্রতিহত করে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। পরে চিনা ফৌজ গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ওই জায়গা ছেড়ে চলে যায়। চিনের গুলি ছোঁড়ার ঘটনাটি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ভারত সরকার। ইতিমধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে গোটা ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন ভারতের সেনা প্রধান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানান বলে খবর । সরকারি সূত্রের খবর  ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য মঙ্গলবার বৈঠকে বসেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) বিপিন রাওয়াত তিন বাহিনীর প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সোমবার রাতের ঘটনার পর ওই এলাকায় ৭ হাজার ভারতীয় সেনা মোতায়ের করা হয়েছে। পাঠানো হয়েছে আরও ট্যাঙ্ক।
অপর দিকে আবার চিন অভিযোগ করেছে যে সোমবার রাতে ভারতীয় সেনারা বিনা প্ররোচনায় গুলি ছুঁড়েছে। তার উত্তরে গুলি ছুঁড়তে হয়েছে চিনা বাহিনীকে। চিনের ওয়েস্টার্ন কমান্ড থিয়েটারের মুূপাত্র ঝাং শুলি একটি বিবৃতিতে ভারতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তারা যেন ভারতীয় সেনাকে এই বিপজ্জনক কাজ করা থেকে বিরত করে। প্রসঙ্গত ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংয়ের মস্কোতে দীর্ঘ বৈঠক হয়। সেখানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা কমানো নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের তিন দিনের মাথায় ফের লাদাূে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সোমবার রাতে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মঙ্গলবার মস্কো উড়ে গেছেন সাংঘাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে যোগ দিতে। তার আগে বুধবার চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। মস্কো উড়ে যাওয়ার আগে জয়শঙ্কর লাদাূে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেূার অবস্থা ‘অত্যন্ত গুরুতর ’ বলে মন্তব্য করেছেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রী মনে করেন সীমান্তে উত্তেজনার প্রভাব পড়বে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর। উত্তেজনা কমাতে গভীর আলোচনা প্রয়োজন দু’দেশের মধ্যে বলে মনে করে এস জয়শঙ্কর। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only