বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

লাদাখ প্রসঙ্গে কী বললেন রাজনাথ সিং ? কংগ্রেসের তরফে কেনইবা করা হল ওয়াক আউট ? পড়ুন লাদাখ আপডেট



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ নরেন্দ্র মোদির সরকার গত চার মাসে এই প্রথমবার লাদাখের  ভারত-চিন সীমান্ত বিবাদ নিয়ে জানাল দেশবাসীকে। মঙ্গলবার সংসদে ভারত-চিন বিবাদ নিয়ে একটি লিখিত বিবৃতি পড়েন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এদিন স্বীকার করে নিয়েছেন ‘লাদাখে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ’ হয়েছে ভারত। কিন্তু চিন ভারতের কতটা জমি দখল করেছে সে ব্যাপারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোনও কথা বলেননি। চিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় এলাকায় আগ্রাসনের অভিযোগ এনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন লাদাখ  সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা মানছে না চিন। কিন্তু চিনের জবাবে ভারতীয় সেনাদেরও সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য।



প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন  আমি বিশ্বাস করি আমাদের সীমান্তরক্ষার কাজে আমাদের বীর জওয়ানরা সজাগ। তাদের সমর্থনে আমাদের একজোট হতে হবে। মোদি চিন কিংবা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেূার (এলএসি) নাম উচ্চারণ করেননি। সোমবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা কংগ্রেস দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরিকে ভারত-চিন সীমান্ত বিবাদ নিয়ে বলার অনুমতি দেননি। অধীর চৌধুরিকে চিন নিয়ে বলার চেষ্টা করলে ওম বিড়লা আঁতকে উঠে বলেন ‘নো– নো’ এবং তারপরেই অধীরবাবুর মাউথপিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই ভারত-চিন সীমান্ত বিবাদ নিয়ে রাজনাথ সিং সংসদে বিবৃতি দেবেন এই খবর  চাউর হতেই সবাই হতচকিত হয়ে যান। কিন্তু সোমবারই চিনা রাষ্ট্রদূত (ভারতে) প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা  লঙ্ঘনের বৃত্তান্ত নিয়ে যূন চিনের বয়ান সংবাদ মাধ্যমে জানান  চাপ পড়ে মোদি সরকারের উপর। এরপর ভারতের পক্ষ সংসদে রাূার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মতো মঙ্গলবার সংসদে রাজনাথ সিং লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন। রাজনাথ বলেন চিনা সেনার হিংস্রতা আসলে উভয়পক্ষে সম্মতিতে নির্ধারিত রীতির বিরোধী। সিং বলেন সংসদে আমার বলতে দ্বিধা নেই যে আমরা লাদাখে একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। এর আগেও সীমান্ত নিয়ে চিনের সঙ্গে বিবাদ হয়েছে ভারতের। কিন্তু পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে ভারত ও চিন সেই বিবাদ মিটিয়ে নিয়েছে। কিন্তু চলতি বছরে পরিস্থিতি একটু ঘোরাল। এবার সীমান্তে বহু জায়গায় বিবাদ হয়েছে এবং অভূতপূর্ব সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে দুটি দেশ। কিন্তু ভারত যাবতীয় সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে চায়। কিন্তু সংসদকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই যে কোনও চ্যালেঞ্জের মুূোমুূি হতে ভারত প্রস্তুত।


লাদাখ সীমান্তে কীভাবে ভারত-চিনের মদ্যে উত্তেজনা বাড়ল তার বৃত্তান্ত জানান রাজনাথ সিং তিনি বলেন গত এপ্রিল মাস থেকে চিন সীমান্তে সেনা সমাবেশ শুরু করে। এই সেনা সমাবেশ করা হয় পূর্ব লাদাখ। তারপর মে মাসের শুরুতেই গালওয়ান ভ্যালিতে ভারতীয় সেনাকে প্যাট্রলিং করতে বাধা দেয় চিনের সেনা। ফলে দু’দেশের সেনার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এই উত্তেজনা কমাতে দু’দেশের কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে বলবৎ করার বিষয়ে ঐক্যমত্য হয়। কিন্তু মে মাসের মাঝামাঝি ফের চিনের সেনা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেূা ভেঙে ভারতের মাটিতে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু ভারতীয় সেনা তৎপরতার সঙ্গে চিনের সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করে। পরে আবার চিনা সেনা পশ্চিম লাদাখের কোঙ্গালা গোগরা এবং প্যাংগং লেকের উত্তর দিক থেকে অনুপ্রবেমের চেষ্টা করে। কিন্তু ভারতের বীর সেনা বীরত্বের সঙ্গে চিনের সেই প্রয়াসও সফল হতে দেয়নি। রাজনাথ সিং এরপর বলেন চিন সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ভারত যে আমরা সমস্যার সমাধান করতে সব দিক থেকে প্রস্তুত। চিন যদি কূটনৈতিক আলোচনার পথে সমস্যার সমাধান চায় তাহলে ভারত প্রস্তুত। চিন যদি যুদ্ধের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায় তা হলেও আমাদের সেনারা প্রস্তুত। কিন্তু কোনওভাবেই চিনকে ভারত একতরফা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেূা পরিবর্তন করতে দেবে না। এলএসিতে উত্তেজনা কমাতে ৬ ই জুন ফের বৈঠক হয় দু’পক্ষের। কিন্তু তারপর চিন কথার খেলাপ করে হিংসায় জড়িয়ে পড়ে। ১৫ জুন গালওয়ানে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হন কিন্তু তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় নিহত হয় চিন সেনা। ভারতের সেনা শান্তির সময় শান্ত থাকে কিন্তু প্রয়োজন হলে তাদের বীরত্বের সামনে শত্রুপক্ষ টিকতে পারে না। আমাদের সেনা দেশের সার্বভৌমত্বের রক্ষায় প্রাণ দিতেও প্রস্তুত। রাজনাথ বলেন চিন ক্রমাগত অস্ত্র ও সৈন্য সমাবেশ করে চলেছে সীমান্তে কিন্তু ভারতও তার যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত। রাজনাথ সাংসদকে জানান সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা রয়েছে লাদাখে  পূর্ব দিকে গোগরা,কোঙ্গকা এবং প্যাংগং সো-র উত্তর ও দক্ষিণ দিকে। এইসব এলাকায় চিন প্রচুর সেনা সমাবেশ করেছে। ভারতও সেইভাবেই এইসব এলাকায় সৈন্য সমাবেশ গটিয়েছে। এরপর রাজনাথ সিং বলেন এছাড়া নিরাপত্তার তাগিদে সংসদে আর কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।


কংগ্রেস রাজনাথের ভাষণ শেষ হওয়ার সঙ্গেই ভারত-চিন সীশান্ত বিবাদ নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি জানায়। কিন্তু সে দাবি নাকচ করে দেন অধ্যক্ষ। ফলে প্রতিবাদে কংগ্রেস এদিন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only