বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রাজ্যে কর্মী-সমর্থকদের চাগাতে পরিযায়ী ইস্যুই ভরসা কংগ্রেসের



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ  প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির চেয়ারে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বসার পরেই জেলায় জেলায় সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে রাজ্যের কংগ্রেসকর্মীদের। মূলত নবীন প্রজন্মের ওপর ভরসা রেখেই কংগ্রেস হাইকমান্ড বহরমপুরের সাংসদকে প্রদেশ সভাপতির দয়িত্ব দিয়েছে। তার ডাকাবুকো ইমেজই কংগ্রেস কর্মী- সমর্থকদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে খবর। বাংলার মানুষের কাছে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুরবস্থার বিষয়টি খুবই সেন্সেটিভ হয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় পরিযায়ী শ্রমিকের ইস্যুটিকে দুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।  জানা যাচ্ছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে একাধিক ইস্যুর মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের ইস্যুটিকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে কংগ্রেস। এই মর্মে পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে, কর্মীদের রাজ্যব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। 

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নির্দেশে এদিন প্রত্যেক জেলায় ব্লক প্রশাসনিক দফতরে বা জেলাশাসকের দফতরে ডেপুটেশন জমা দেন কংগ্রেস কর্মীরা। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভারত সরকারের সাহায্য অর্থ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্য সরকার। দেড় লক্ষের বেশি পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম ঠিকানা সহ ফোন নাম্বার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠালেও, তা কেন্দ্রের কাছে পাঠায়নি রাজ্য সরকার। রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের সাথে এই অবিচারের প্রতিবাদে রাজ্যব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

ইতিমধ্যেই পরিযায়ীদের দুর্ভোগের প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি লিখেছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এছাড়াও রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ প্রত্যেক জেলা শাসকের কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

উল্লেখ্য, পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে ইতিমধ্যেই সরগরম জাতীয় রাজনীতি। সোমবার বাদল অধিবেশনে, কেন্দ্রের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, লকডাউন চলাকালীন কতজন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে তার হিসেব কেন্দ্রীয় সরকার রাখেনি। কংগ্রেস এই ইস্যুকেই তৃণমূল স্তরের মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চায়। অন্যদিকে, ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ রোজগার অভিযানে। বলা হয়েছিল, যে জেলায় লকডাউনে কাজ খুইয়ে ২৫ হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ফেরত এসেছে, রাজ্য গুলো যাতে সেই সব জেলার নাম পাঠায়, তা নিয়েও জোরালো দাবি তোলা হবে।  কংগ্রেসের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছেন, রাজ্যে ১১ লাখেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ফেরত এসেছে। এদিকে ১১৬ টি জেলা এই সাহায্য পেলেও, পশ্চিমবঙ্গ ভারত সরকারের এই সাহায্য থেকে বঞ্চিত থেকে গিয়েছে। রাজ্যের তরফ থেকে কেন্দ্রের কাছে কেন এই তালিকা পাঠানো হচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলেই প্রত্যেক জেলায় ডেপুটেশনও দেবে কংগ্রেস কংগ্রেস।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only