শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অনলাইন নয়, দেওয়ালে ছবি এঁকে চলছে ক্লাস! কী ভাবতে অবাক লাগছে ?

 


মুম্বই, সেপ্টেম্বর: দেয়ালে লেখা বীজগণিতের নানা সূত্র গলিতে দাঁড়ানো ছাত্রছাত্রীদের সেগুলোই বুঝিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষিকা মহারাষ্ট্রের সোলাপুরের নীলমনগরের আশা মারাঠি বিদ্যালয়ের প্রধান তাসলিমা বানু হারুন পাঠান করোনাভাইরাসের মধ্যে স্মার্টফোনের অভাবে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের এভাবে পড়াচ্ছেন তিনি

দেয়ালে নানা জিনিস জ্যামিতির চিত্র এঁকে গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন আশা মারাঠি বিদ্যালয়ের আরও এক শিক্ষক ওই স্কুলের শিক্ষক রাম গায়কোয়াড় জানিয়েছেন, যেহেতু স্কুলের অধিকাংশ পড়ুয়াই অত্যন্ত গরিব পরিবারের, তাই তাদের পক্ষে অনলাইন ক্লাস করা সম্ভব নয়৷ তাঁর কথায়, 'করোনার কারণে এখন অনলাইনে পড়াশোনাই একমাত্র বিকল্প৷ কিন্তু তার জন্য স্মার্টফোন এবং ভাল ইন্টারনেট পরিষেবা প্রয়োজন৷ কিন্তু এই ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের বেশিরভাগেরই স্মার্টফোন বা অন্য কোনও গেজেট নেই৷ ফলে অনলাইন ক্লাস করাটা তাদের কাছে অবাস্তব স্বপ্নের মতোই বিষয়৷' ওই শিক্ষক জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের অধিকাংশের বাবা- মা এলাকার বিভিন্ন বস্ত্র কারখানার শ্রমিক৷

এই কারণেই স্কুলের আশেপাশের বিভিন্ন বাড়ির দেওয়ালে ছবি এঁকে ক্লাস নেওয়ার ভাবনা আসে স্কুল কর্তৃপক্ষের মাথায়৷ সেই মতো এলাকার বাড়ির দেওয়ালগুলিতে প্রাথমিক স্তরে অক্ষর বা সংখ্যার সঙ্গে পরিচয় করানো, ছোট ছোট অঙ্ক এবং বাকিদের জন্য ব্যাকারণ, অঙ্কের ফর্মুলা, সাধারণ জ্ঞানের মতো বিভিন্ন বিষয় সহজ সরল ভাবে ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যাতে সেগুলি শিখতে পড়ুয়ারাও কৌতূহলী হয়৷ এই ব্যবস্থার ফলে নিজেদের সুবিধে এবং প্রয়োজন মতো দেওয়ালে আঁকা ছবি দেখে পড়া তৈরি করে নিতে পারছে ছাত্রছাত্রীরা৷ যার যে ক্লাস করা প্রয়োজন, সে সেই দেওয়ালের সামনে গিয়ে হাজির হচ্ছে৷

শুধু ওই স্কুলই নয়, ওই এলাকার আরও দু' -তিনটি স্কুলের পড়ুয়ারাও এর ফলে উপকৃত হচ্ছে৷ তবে দেওয়ালের ছবি দেখে পড়াশোনা করার সময়ও মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে পড়ুয়ারা৷ এর পাশাপাশি অবশ্য যে পড়ুয়াদের স্মার্টফোন রয়েছে, তাদের জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only