বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরএসএস পরিচালিত প্রতিষ্ঠান থেকে এবার সিভিল সার্ভিসে উত্তীর্ণ হলেন ৫০ শতাংশেরও বেশি প্রার্থী



 পুবের কলম প্রতিবেদকঃবিচারবিভাগ থেকে প্রশাসনিক। শিক্ষা থেকে আর্মি সার্ভিস। দেশের যেকোনও ধরনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে ‘নিজেদের লোক’ বসানোর কাজ বহুদিন ধরে করে আসছে রাষ্ট্রীয়  স্বয়ংসেবক সংঘ। এই কাজে আরএসএসের ‘দক্ষতা’ সর্বজনবিদিত। সামরিক,প্রশাসনিক এমনকী বিচারবিভাগীয় স্তরেও সময়-সুযোগ বুঝে ‘কাছের লোক’ কিংবা অনুগামীদের বসিয়ে দেওয়ার কাজেও সমান পারদর্শী সংঘ বাহিনী। এসব চলছে অনেকদিন ধরেই চুপিসারে, লোকচক্ষুর আড়ালেই। কিন্তু এবারে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফলাফল দেখলে চোখ  অবশ্যই ছানাবড়া হওয়ার জোগাড় হবে। চলতি বছর যত জন আইএএস হচ্ছেন তার অর্ধেকের বেশিই আরএসএস মতাদর্শের অনুসারি,যাঁরা সংঘের প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রশিক্ষিত।

সম্পূর্ণভাবে আরএসএস-এর মতাদর্শের অনুসারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘সংকল্প ফাউন্ডেশন’ থেকে এবার সিভিল সার্ভিসের চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট উত্তীর্ণদের সিংহভাগই। ২০২০-র আইএএস পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮২৯ জন। তার মধ্যে ৪৭৬ জনই আরএসএস পরিচালিত সংকল্প থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। সাংবাদিক বিজয়েতা সিং মঙ্গলবার টু্যইট করে এই তথ্য সামনে এনেছেন। তিনিই জানিয়েছেন আরএসএস অনুমোদিত সংকল্প ফাউন্ডেশন থেকে কোচিং নিয়ে ৮২৯ জনের মধ্যে সিভিল সার্ভিসে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৭৬ জন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় আবার সফল প্রার্থীদের অভিনন্দন জানানোর আয়োজন করছে সংকল্প ফাউন্ডেশন এবং জনকল্যাণ শিক্ষা সমিতি যৌথভাবে। ভার্চুয়াল ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র সিং এবং প্রধান বক্তা থাকবেন নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল আর এন রবি। এ ছাড়া থাকবেন আরও কয়েকজন সংঘ-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।

 আবার কেউ কেউ মজা করে সোশ্যাল সাইটে ঠুকেছেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। মহামারিতে দেশের অর্থনীতির বেহাল দশার দায় ‘ভগবানের ঘাড়ে’ চাপিয়ে দায় মুক্ত হতে চেয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। সেই মন্তব্যকেই ব্যহার করে আকাশ ব্যানার্জি নামে একজন লিখেছেন ‘একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান থেকে এতজন উত্তীর্ণ? দেশের আরও হাজার হাজার সিভিল সার্ভিসে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো গেল কোথায়? এ নিশ্চয়ই ‘ভগবানের কাজ’।’ আবার চেতন গহ্ নামে একজন মন্তব্য করেছেন– ‘এটা নিশ্চয়ই সিভিল সার্ভিসে সংঘের অনুপ্রবেশ।’ কেউ আবার লিখেছেন ‘ভাগ্য জেহাদ’।

অনেকেরই ধারণা, সংঘ কেবলমাত্র ‘দেশভক্ত’ স্বয়ংসেবক দক্ষিণপন্থী নেতা তৈরি করে। অনেকেরই এই ধারণা নেই যে আরএসসে তাদের পৃষ্ঠপোষক প্রশিক্ষণ প্রতিস্থানগুলোর মাধ্যমে বড়মাপের প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাও তৈরি করে।

১৯৮৬ সালে সংকল্প ফাউন্ডেশন তৈরি করা হয়। লক্ষ্য আইএএস,আইএফএস-সহ সিভিল সার্ভিসের অন্যান্য স্তরের অনুসারী আধিকারিক বানানো। সংকল্প থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবার উত্তীর্ণ ৪৭৬ জন  এটা এখন  জানা তথ্য। ইতিপূর্বে এমন কতজন এই প্রতিষ্ঠান থেকে অফিসার হয়েছেন তাঁরা কোন কোন দফতর বা মন্ত্রক সামলাচ্ছেন তার হিসেব নেই। কিন্তু এই পরিসংখ্যান  সামনে আসা দরকার। আগে কেবল নয়া দিল্লিতেই ছিল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। চলতি বছরে আগ্রাতেও একটি শাখা খোলা  হয়েছে। যোগী সরকারের সহায়তায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই আগ্রায় সংকল্পের আবসিক প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। আরএসএস-এর একটি সূত্র মারফত জানা গেছে কেবল সিভিল সার্ভিস নয়,উচ্চ পর্যায়ের ২৪টি নানা ধরনের পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য সংকল্প প্রশিক্ষণ দেয়। ইতিপূর্বে এখান থেকে চার হাজার অফিসার হয়েছে। আরএসএস-এর দাবি তাঁদের প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র খরচে  প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে অধিক সংখ্যক  মেধাবীরা এখানে ট্রেনিং নিতে আসেন। আর সাফল্যও পান।

জানা গেছে সংকল্পের প্রধান পৃষ্ঠপোষকের তালিকায় রয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল জগমোহন, শিল্পপতি জয়প্রকাশ আগরওয়াল ছাড়াও বেশ কয়েকজন অবসর প্রাপ্ত আইএসএস ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল। বিরোধীরা এখন বলতে শুরু করেছেন কেন্দ্রে বিজেপির সরকার থাকার সুবাদে আরএসএস-এর অফিসার তৈরির ‘কারূানা’র অর্ধেকের বেশি ‘সেবক’কে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উতরে দেওয়া হল।

প্রসঙ্গত সাম্প্রতিককালে কিছু সংখ্যক  মুসলিম নিজ যোগ্যতাবলে সিভিল সার্ভিসে সাফল্য পেয়েছেন। যদিও তাঁদের সাফল্যের হার মাত্র ৫ শতাংশ। এই নিয়েও সংঘ অনুসারি ‘সুদর্শন নিউজ’ চ্যানেল উচ্চকণ্ঠে প্রশ্ন তুলেছিল যে  কী করে মুসলমানরা সিভিল সার্ভিসে ঢুকে যাচ্ছে? এটাকে তারা ‘প্রশাসনে অনুপ্রবেশের জেহাদ’ বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। পরে অবশ্য বোম্বে হাইকোর্ট চ্যানেলকে বিদ্বেষ প্রচার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। অথচ এইভাবে ব্যাপক হারে প্রশাসনের উচ্চস্তরে সংঘপন্থীদের অনুপ্রবেশ নিয়ে কারও কোনও প্রশ্ন নেই।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only