বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

'এনইপি’কে সমর্থনের পাশাপাশি সেটা নিয়ে দেশব্যাপী প্রচার চালাবে আরএসএস

 

 
পুবের কলম প্রতিবেদকঃ নরেন্দ্র মোদি সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতিতে (এনইপি) পূর্ণ সমর্থন জানাল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বা আরএসএস। কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে সংঘের আদর্শের ভিত্তিতে বলে মনে করেন রাজনৈতিক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞের একাংশ। আরএসএস শুধু এনইপি-কে সমর্থনই করছে না  তারা তাদের শিক্ষা সংগঠন বিদ্যাভারতীয় অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থানকে নির্দেশ দিয়েছে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী এনইপি সচেতনতা আন্দোলন শুরু করার। এই আন্দোলনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় আলোচনাসভার আয়োজন করা হবে। সেই আলোচনায় সমাজের শিক্ষিত অংশকে শিক্ষাক্ষেত্রে মোদি সরকারের সংস্কারের খুঁটিনাটি বোঝানো হবে। বিদ্যাভারতী ‘মাই এনইপি’ নামক একটি প্রতিযোগিতাও চলবে ২ অক্টোবর পর্যন্ত। এনইপি’র যাবতীয বিষয় নিয়ে এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষক ও ছাত্র সমাজের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপিত হবে বলে মনে করছেন সংঘ কর্তারা। বিদ্যাভারতীর সাধারণ সম্পাদক শ্রীরাম আরোকার জানিয়ে দেন আমরা স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের জানাব মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব কতটা।
প্রসঙ্গত নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির চূড়ান্ত হওয়ার আগ সংঘ প্রভাবিত একাধিক নেতা অভিযোগ জানিয়েছিলেন আধুনিক টেক্সট বই চালু করতে গিয়ে বিগত সরকারগুলি প্রাচীন ভারতীয় পুঁথিকে বাদ দিয়েছিল। ২০১৯ সালের জানুয়ারি সালে এইমএইচআরডি (মিনিস্ট্রি অব হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট) একটি নতুন জাতীয় শিক্ষা বোর্ড গঠনের অনুমতি দিয়েছিল যার নামকরণ করা হয়েছিল ভারতীয় শিক্ষাবোর্ড বা বিএসবি। এই বোর্ডের স্বাধীনতা ছিল নিজের সিলেবাস ঠিক করার। তারা নিজেরাই পরীক্ষা নিয়ে সার্টিফিকেটও নিত। তখন আরএসএস-এর আরও একটি শিক্ষা সংগঠন শিক্ষা সংস্টৃñতি উতত্থান ন্যাস বা এসএসইউ এক প্রস্তাব দিয়েছিল স্কুল সিলেবাসে ‘বৈদিক অঙ্ক’কে অন্তর্ভুক্ত করার। তখন এসএসইউএন-এর সম্পাদক অতুল কোঠারি বলেছিলেন ‘বৈদিক অংশ’ যদি সিলেবাসে রাখা হয় তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যালকুলেটরের প্রয়োজন হবে না। জাতীয় শিক্ষা নীতির যখন খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল তখনই কিন্তু এ ধরনের একাধিক প্রস্তাব জমা পড়েছিল সরকারের কাছে। সেখানে এমন খবরও পাওয়া গিয়েছিল যে ইসরো (ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন) পুরীর শহকরাচার্য নিশ্চলানন্দ সরস্বতীর গকাছেও চন্দ্রায়ন-২ এর সকল অভিযানের আগে পরামর্শ দিয়েছিল। কারণ তিনি একজন বৈদিক অঙ্ক বিশেষক। অবশ্য এই খবর একটি অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া।
প্রসঙ্গত, গতকালই নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ধ্রপদী ভাষার (ক্ল্যাসিক্যাল) সূচিতে বাংলাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন পার্থবাবু। শিক্ষানীতি নিয়ে রাজ্যগুলির স্বার্থে আলোচনা কেন করেনি কেন্দ্র বলে প্রশ্নও তুলেছিলেন পার্থবাবু। তবে নতুন শিক্ষানীতির কি সংঘ পরিবারের আদর্শে রচিত হয়েছে একথা জানা যাবে যখন শীঘ্রই প্রত্যেক রাজ্যকে পাঠানো হবে ৩০০টি বিষয়ের তালিকা। যার ভিত্তিতে আলোচনার পরে তৈরি করা হবে বাস্তবায়নের চূড়ান্ত নির্দেশিকা। কিন্তু জাতীয় শিক্ষানীতিতে যেভাবে সমর্থন দিতে এগিয়ে এসেছে আরএসএস তাতে নীল নকশা তৈরির সময় সংঘ প্রভাব যে কার্যকারী ছিল এটা বলাই যায় বলে মনে করছে শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only