বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শিক্ষারত্ন পুরস্কার পাচ্ছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিত প্রামানিক


 
সামিম আহমেদ, রায়দিঘি : রাজ্য সরকারের শিক্ষারত্ন পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হলেন গিরিবালা আদর্শ অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিত প্রামানিক মথুরাপুর দু নম্বর ব্লকের উত্তর কাশীনগর গ্রামের বাসিন্দা বছর একান্নর প্রসেনজিত প্রামানিক বরাবরই প্রচারবিমুখ লাজুক প্রকৃতির এই মানুষটির সম্মানে গর্বিত এলাকাবাসী, স্কুলের ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষক মন্ডলী, স্কুল পরিচালন কমিটি এই স্কুলটি মথুরাপুর নম্বর ব্লকের রায়দিঘি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে অবস্থিত রাজ্যের মধ্যে মোট ৪০ জন শিক্ষককে এই সম্মানে সম্মানিত করা হচ্ছে তারমধ্যে প্রাথমিক স্তরে আছেন ১০ জন শিক্ষক দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতার খান্ডালিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ভোলানাথ প্রামানিক, বাসন্তী হাই স্কুলের সহকারি শিক্ষক অমল নায়েক, বাসন্তী নীলকন্ঠ পুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিবেকানন্দ পাল মথুরাপুর নম্বর ব্লকের গিরিবালা আদর্শ অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিত প্রামানিক শিক্ষারত্ন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন এক সাক্ষাৎকারে রাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রসেনজিত প্রামানিক বলেন, শিক্ষারত্ন সম্মানে সম্মানিত হওয়ায় তিনি আপ্লুত গর্বিত বটে প্রথমেই তিনি কৃতজ্ঞতা জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশাপাশি তিনি এই শিক্ষারত্ন সম্মানটি ছাত্রছাত্রী শিক্ষকদের প্রতি উৎসর্গ করেন ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে সুন্দরবনের পিছিয়ে পড়া প্রত্যন্ত এলাকার এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি সেই সময় এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩৭ জন এখানে শিক্ষার পরিকাঠামো ছিলনা এখানকার ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার জন্য প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে যেতে হতো এই বিষয়টি তার মনকে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছিল এখানে শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য তিনি উদ্যোগ নিতে শুরু করেন পরবর্তী সময়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে এই স্কুলের ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নজর দেন স্কুলটাকে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করেন ভি সি কমিটি, গ্রাম পঞ্চায়েত সর্বশিক্ষাকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেন সেই প্রচেষ্টায় তিনি সফল ২০১৩ সালে আসে নির্মল পুরস্কার ২০১৫ সালে শিশু মিত্র বিদ্যালয় পুরস্কার পায় এই স্কুল

বর্তমানে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ১৮৪ জন শিক্ষক সংখ্যা জন এর পরেও তিনি থেমে থাকেননি শুরু করে দিয়েছিলেন স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন মিড ডে মিলের রান্নার সুব্যবস্থা, মিড ডে মিল খাবার জন্য আলাদা ঘর, কমিউনিটি হল, ট্যাপ ওয়াটার, প্রজেক্টরের মাধ্যমে বাচ্চাদের ক্লাসের ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, মার্বেল পাথর বসানো ঝকঝকে অফিস, লাইব্রেরী, খেলার মাঠ, উন্নত মানের কম্পিউটার রুম ফুলের বাগান, সবজি বাগান, ঔষধি গাছ এছাড়া বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এলাকাতে বৃক্ষরোপণ, জল সচেতনতা সেমিনার, প্লাস্টিক বর্জন পদযাত্রা, জঞ্জাল সাফাই অভিযান কোভিড ১৯ লকডাউনের জেরে অভিভাবকদের খাদ্য দান শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কে সঙ্গে নিয়ে করা হয়েছে মরণোত্তর দেহদান সচেতনতা, রক্তদান শিবির আম্ফান ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রিপল খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যায়, মনীষীদের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষকে যাতে তাদের নামের পাশাপাশি তাদের নীতি আদর্শ ছাত্র ছাত্রীদের মনে সঞ্চালিত হয় চিহ্নিত করা হয়েছে শিক্ষকতার পাশাপাশি দিনরাত মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায় কিভাবে স্কুলটাকে আরও ভালো করে গড়ে তোলা যায় তার বিশ্বাস সরকারি সাহায্য পেলে বিদ্যালয় বাকি অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে স্কুলের ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা সব সময় তার পাশে সহকর্মী বরুণ কুমার হালদার রামকৃষ্ণ হালদাররা বলেন, স্যার শিক্ষারত্ন পাওয়ায় আমরা সকলে গর্বিত স্কুলটিকে আরও উন্নতি করতে গেলে যা যা করা দরকার আমরা সমবেতভাবে স্যারের পাশে আছি

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only