শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

করোনা সংক্রমনের জেরে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রেলের হকারির কাজ ! কেমন আছেন রেল হকাররা ? পড়ুন বিস্তারিত

 



 মালদা , ০৪ সেপ্টেম্বর :  করোনা সংক্রমনের জেরে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রেলের হকারির কাজ আর এখন কাজ হারিয়ে প্রায় অর্ধাহারে দিন কাটছে পুরাতন মালদার পুরসভার নম্বর ওয়ার্ডের তুঁতবাড়ি এলাকার কয়েকজন হকারের পেশা বদলিয়ে বাধ্য হয়েছেন রাস্তার ধারে আলু এবং সবজি বিক্রি করতে আবার কেউ ঠেলা গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবজি ফল বিক্রি করছেন এইসব হকারদের রেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া সরকারি রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত আইডেন্টি কার্ডও রয়েছে কিন্তু এখন করোনা সংক্রমণর জেরে বন্ধ রেল চলাচল তাই পরিবারে দুই মুঠো অন্ন তুলে দিতেই রাস্তায় বসে আলু, সবজি বিক্রি করায় এখন মূল পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওইসব হকারদের তাঁদের বক্তব্য, চরম সমস্যায় দিন কাটছে এক পেশা থেকে আরেক দেশে যাওয়া এবং রোজগার করা চটজলদি হয়ে ওঠে না আলু সবজি বিক্রি করতে গেলে মোটা টাকার প্রয়োজন সে টাকা জোগারের জন্য মহাজনদের চড়া সুদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় তাই এরকম বেকার অবস্থায় থাকা হকারদের যাতে সরকারি ভাবে সহযোগিতা করা হয় তার জন্য পুরসভা এবং প্রশাসনের কাছেও দরবার করেছেন তাঁরা

পুরাতন মালদা পৌরসভার নম্বর ওয়ার্ডের তুঁতবাড়ি এলাকার রয়েছে বেশ কয়েকজন হকার যারা নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেনে হকারি করতেন কেউ চিড়া ভাজা, চানাচুর বিক্রি করতেন আবার কেউ চা, মালদার রসগোল্লা আমসত্ত্ব আচার এবং অন্যান্য মুখরোচক খাবার বিক্রি করতেন এজন্য তাদের কাছে রেলের যাওয়া হকারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডও রয়েছে কিন্তু গত পাঁচ মাস ধরে করোণা সংক্রমণে বন্ধ রয়েছে রেল পরিষেবা যার কারণেই এখন পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন ওই হকারেরা যে অভ্যাস তাদের এতদিন ছিল না, এখন রুজি-রোজগারের টানে সেই অভ্যাস তাদেরকে বাধ্য হয়ে বেছে নিতে হয়েছে

তুঁতবাড়ি এলাকার এক হকার শ্যামল পাল বলেন, পরিবারে স্ত্রী-সন্তান বাবা-মা সকলেই রয়েছেন  যাত্রীবাহী ট্রেনে মুখরোচক খাবার বিক্রি করে দিনে অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা রোজগার হতো কিন্তু এখন বাড়িতে বেকার বসে রয়েছি কেউ কেউ বাজারে আলু সবজি বিক্রি করছে ঠিকই কিন্তু আমি সেটা করতে পারছি না এর জন্য আরতে অগ্রিম টাকা দিতে হবে ধারে এই ধরনের খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায় না তার ওপর বাজারে নতুন করে বসার জায়গা পাওয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে রোজগার হারিয়ে সম্পূর্ণ বেকার অবস্থায় রয়েছি পুরসভা এবং প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি যাতে করে আমাদের মতোন হকারদের পরিবারকে সাহায্য করা হয়

তুঁতবাড়ি এলাকার আরেক হকার সঞ্জীব কুমার হালদার জানিয়েছেন, করোনার প্রভাবে ব্যবসা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছি আমরা   আলু , সবজি বিক্রির অভ্যাস নেই কিন্তু মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিয়ে এই ব্যবসা করতে হচ্ছে সব দিনই যে সবজি ,আলু, পিঁয়াজ বিক্রি হবে এমনটা নয় বাজারে নতুন করে জায়গা পাওয়ার সমস্যা রয়েছে তাই বাড়ির সামনে রাস্তার ধারে একাই আলু , পিয়াজ, সবজি নিয়ে বসে থাকছি লাভ হওয়া তো দূরের কথা, বিক্রি তেমন হয় না ট্রেনে হকারী করে যে রোজগার হতো, তার সিকিভাগও এখন সবজি বিক্রি করে মিলছে না কাজেই পরিবার নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো কিছুই বুঝতে পারছি না কবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, আর ট্রেন চালু হবে কবে , সেই আশায় দিন গুনছি

পুরাতন মালদা পুরসভার প্রশাসক কার্তিক ঘোষ জানিয়েছেন , রাজ্য সরকারের উদ্যোগে দিনমজুরদের জন্য নানান প্রকল্প রয়েছে এক্ষেত্রে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুরসভা থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে এরকম মানুষদের সমস্যার কথা যদিও আমি জানতাম না তবে বিষয়টি শোনার পর তাদের সরকারি প্রকল্পে কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only