সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

"সফটওয়্যার ডেভেলপার টু জয়েন্ট বিডিও " পড়ুন WBCS - 2018, Group - C ; Joint BDO সোমনাথ সাহু- এর ফেসবুক ভাইরাল কথোপকথন



বিশেষ প্রতিবেদন: আমি সোমনাথ সাহু, WBCS - 2018, Group - C তে Joint BDO হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। কাল থেকে যাঁরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন, তাঁদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। অসংখ্য ধন্যবাদ সেই সব ব্যক্তিদের যারা আমার এই সাফল্যের পেছনে কোন না কোনো ভাবে জড়িত। অনেকেই আমার অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছেন ইনবক্সে। তো সেবিষয়ে দুচার কথা।


শুরু করেছিলাম অনেক দেরী করে। 2017 সালে। আসলে তার আগে কাজ করতাম Software Developer হিসেবে। 2016 সালের শেষের দিকে অপ্রত্যাশিত ভাবে গ্রাম পঞ্চায়েতের নীর্বাহী সহায়ক (Executive Assistant ) রূপে যোগদান করি। তারপরেই এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু। আমি Academic Association এর ছাত্র । 2017 সালে প্রিলিমস্ পাশ করতে পারিনি। 2018 সালে পাশ এবং এই সাফল্য লাভ। এই 2017 - 2020 এই কয় বছরের চলার পথ যে মসৃন ছিলনা তা বলাই বাহুল্য। তাই এই কবছর কি হয়েছে তা নিয়ে বেশী কিছু বকব না। ওই, সবাই যা করে, পরিশ্রম , আমিও তাই করেছি।  কারন পরিশ্রমের বিকল্প কিছু নেই।


অনেকেই আমার strategy জানতে চেয়েছেন। তাদেরকে জানাই, আমি পড়ার জন্য খুব বেশি সময় ব্যয় করতে পারিনি। তার কারন আমি এমন একটি সরকারি চাকরিতে যুক্ত ছিলাম যেখানে "ফটাফট এ কাম করোগে তো তুরন্ত দুসরা কাম দুঙ্গা" এই নীতির প্রয়োগ হত। এ বিষয়টা আমরা যারা Joint BDO হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি তারা আগামী দিনে বুঝতে পারব। তো যাইহোক, যেহেতু সময় কম তাই আমি বিষয় অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক পড়ার চাইতে প্রচুর MCQ অভ্যাস করতাম। কোন বিষয় অজানা হলে, Wikiতে সেবিষয়ে বিশদে জেনে নিতাম। একটা উদাহরন দেই, বিম্বিসারকে শ্রেনিক বলা হয়, অজাতশত্রুকে কুনিক বলা হয়। কিন্তু কেন বলা হয়? শ্রেনিক আর কুনিক মানে কি? এসব নিয়ে উইকিপিডিয়াতে সার্চ করতে করতে অনেক কিছুই জানা হয়ে যায়। ইউটিউব থেকে প্রচুর ভিডিও দেখতাম বিভিন্ন বিষয়ের। অনেক ভালো ইউটিউবার আছেন যারা এতো ভালো ধারনা অতি অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি করে দেন যে, তা বই পড়ে হতনা বলে আমার মনে হয়েছে। আমি প্রচুর বই কিনেছিলাম। যখন শুরু করেছিলাম তখন তোমাদের মত আমার ও প্রচুর প্রশ্ন ছিল মনে। যখন যে বইএর নাম শুনেছি, কিনে নিয়েছি। কিন্তু সত্যি কথা বলতেকি তার অধিকাংশই পড়া হয়নি।


এখন তোমাদের জন্য কিছু পরামর্শ-

এই পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করার জন্য কিছু কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে।

1. সরকারি চাকরি কখনও পয়সার বিনিময়ে হয়না, হলেও একটি স্থান আমার জন্য নির্ধারিত আছে।

এবিষয়ে অনেক বিতর্ক হতে পারে। বিগত বছরের WBCS এর ফলাফল নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের সবার আছে। কিন্তু তার মানে ঐ বছরের সাফল্য লাভকারীর সবাই অযোগ্য এটা ভাবা কখনোই যুক্তি সঙ্গত হবে না। আমি বলছি যে যদি 100 জনকে নেয়, তার মধ্যে 99 জনের অসদুপায়ে হলেও একটা স্থান আমার জন্য থাকবে, এটা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করব। তাই অন্যের কথা না ভেবে বড়-মন এবং স্থির সংকল্প নিয়ে সাফল্য লাভের চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। 


2. কখনও কোন নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা করব না।

 আমি খুব ভাগ্যে বিশ্বাস করি। একটু সেকেলে মানসিকতার মনে হলেও, আমি মনে করি চেষ্টা + ভাগ্য = সাফল্য। তাই আপনারা যাঁরা বার বার ব্যর্থ হচ্ছেন, তাদেরকে বলি, ব্যর্থতাই সাফল্যের সিঁড়ি। তাই প্রতিবারের ব্যর্থতা থেকে নতুন অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে প্রবল উদ্যমে বারবার সাফল্যলাভের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। প্রেমিক/প্রেমিকার প্রত্যাখ্যান, আত্মীয়দের অনাত্মীয় সুলভ ব্যবহার, বেকারত্বের জ্বালা এগুলোই হবে আমার অনুপ্রেরণা, জীবনযুদ্ধের হাতিয়ার। তাই কোন নেগেটিভ চিন্তা করা যাবেনা , এবং যে করে তার সংসর্গ সম্পূর্ন পরিত্যাগ করতে হবে। বন্ধুরা "শাদি মে জরুর আনা" বইটি দেখতে পারেন। অনেক অনুপ্রেরণা পাবেন। 


3. আমি সবার সেরা। তাই আমার বানানো strategyই best. 

হ্যাঁ বন্ধু I am the best, we all are the best. যাঁরা নতুন শুরু করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলি, - একটা ভালো স্ট্র্যাটেজিই যেকোন বিষয়ে সাফল্য লাভের একমাত্র উপায়। এখন এই স্ট্র্যাটেজি বানানোর জন্য যেটা অপরিহার্য সেটা হল SWOT analysis. আপনারা অনেকেই হয়তো বিষয় টা জানেন। তাও একটু বলি। 

S - Strength: প্রথমেই জানতে হবে আপনার কোন বিষয় সবচেয়ে ভালো লাগে, বা কোন বিষয়ে আপনি বেশি স্কোর করতে পারবেন । তাহলে সেই বিষয় টাতে সবচেয়ে বেশী জোর দিতে হবে । অর্থাৎ আমার ধারালো অস্ত্রটাকে আরও বেশী ধারালো করতে হবে । সাফল্য লাভের যুদ্ধে এটাই আপনাকে রক্ষা করবে। আপনার দুর্বল বিষয় গুলোর রক্ষাকর্তা। 

W - Weakness : এর পর জানতে হবে আপনার দুর্বল বিষয় গুলোর সম্বন্ধে। ধরুন আপনার অংক খুব ভালো হয়, কিন্তু পলিটি-ইকোনমিক্স ভালো হয়না। তাহলে  কিন্তু অংককে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে এবং পলিটি-ইকোনমিক্স এর খামতি অংকের নাম্বার দিয়ে পুর্ন করতে হবে । তার মানে এই নয় যে পলিটি-ইকোনমিক্স একেবারে পড়তে হবে না। তুলনামূলক ভাবে কম সময় দিতে হবে। 

O - Opportunity : আমার কাছে কি কি সুবিধা আছে যেগুলোকে আমি কাজে লাগাতে পারি। বর্তমানে আমাদের সবার কাছেই স্মার্টফোন আছে। এর যদি সঠিক ব্যবহার করা যায় তাহলে বই পড়ার আর কোন দরকার পড়ে না। এছাড়া ও অনেকে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করেন। সেখানকার বিভিন্ন শিক্ষক বা মেন্টরদের মূল্যবান উপদেশ মেনে চলা দরকার। মনে রাখতে হবে যে opportunity জীবনে খুব বেশি আসেনা। তাই যখনই আসুক আর যতটুকুই আসুক তার সঠিক ব্যবহারই সাফল্য লাভের একমাত্র উপায় । 

T - Threat : অর্থাৎ আমার সাফল্য লাভের পথের কাঁটা। প্রেম হতে পারে যদি স্বার্থ সর্বস্ব হয়, সব সময় নেগেটিভ চিন্তা করা সঙ্গী হতে পারে, কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবার ও হতে পারে। আর সর্বোপরি আমি নিজে। "দুনিয়া হাসিনোকি মেলা" , কিন্তু এই হাসিনাকে পেতে গেলে অনেক পসিনা ঝরাতে হবে। নাহলে "মেলেমে এ দিল আকেলা" হয়েই থেকে যাবে। এই পৃথিবী ব্যর্থদের কোন খবর রাখেনা। "রাম যদি হেরে যেত, রামায়ন লেখা হত, রাবন দেবতা হত সেখানে"। কাজেই লক্ষ্যে স্হির থাকতে হবে এবং যে সমস্ত বাহ্যিক বিষয় গুলি আপনার সাফল্য লাভের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে তা চিহ্নিত করে নিজেকেই তার সুরাহা করতে হবে। 


এর পরেও যে বিষয়টি স্ট্র্যাটেজি নির্ধারনে সাহায্য করে সেটি হল। 

আমার হাতে কতটা সময় আছে বা কতটা সময় আমি প্রতিদিন পড়াশোনার জন্য ব্যয় করতে পারব? যাঁরা কোন চাকরির সঙ্গে যুক্ত, তাদের ক্ষেত্রে সময় যেহেতু কম তাই বিশদে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। আর ডিজিটাল মাধ্যমকে যতটা বেশি সম্ভব কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিৎ। স্মার্টফোন তো সব সময়ই কাছে আছে। 

ব্যস এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে বানিয়ে ফেলুন আপনার স্ট্র্যাটেজি। 

4. জানার কোন শেষ নেই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই।

প্রস্তুতির শুরুতে আমাদের সবার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরতে থাকে, সেটি হল। কি পড়ব বা কোন কোন বই পড়ব? এখন মনে রাখতে হবে যে আমরা সবাই কোন না কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলেও এই পরীক্ষার জন্য আমাদের এমন কিছু বিষয়ের সামনা করতে হয় যার সঙ্গে কোনদিন আলাপই হয়নি বা শেষ আলাপ হয়েছে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের সময়। তাই এই বিষয় গুলো পড়ার সময় ঝামেলায় পড়তে হয়। তো মাথায় রাখতে হবে যে কতটা পড়ব। 

কারন এখানে আমাকে প্রত্যেকটা বিষয়ে এক্সপার্ট হতে বলা হয়নি। সমস্ত বিষয়ে সম্যক জ্ঞান রাখলেই চলে। একবার চাকরী পেয়ে গেলে, হরপ্পা সভ্যতার পতন আপনা আপনিই ঘটে যায়, অর্থনীতির ও হাঁড়ির হাল হতে বেশী সময় লাগেনা। তাই গাদা গাদা বই না কিনে বুদ্ধি করে বই বাছতে হবে। কারন সত্যিই জানার কোন শেষ নেই। যত জানব তত মাথা ভর্তি হবে, তত পরীক্ষায় ভুল হবে। এবিষয়ে আমার পরামর্শ হল প্রতি বিষয়ের যে কোন একটা বই ফলো করতে হবে যেটা আমার কাছে বোধগম্য এবং সহজপাঠ্য।


নীচে কিছু বই ও ইউটিউব চ্যানেল-এর তালিকা দিচ্ছি।

PRELIMINARY পাশ করার জন্য Crack WBCS চোখ বন্ধ করে। ‌

প্রাচীন যুগের ইতিহাস - সুনীল সিং ইউটিউব চ্যানেল, প্রতিযোগিতা দর্পন। 

মধ্য যুগের ইতিহাস - প্রশান্ত স্যার ইউটিউব চ্যানেল,

প্রতিযোগিতা দর্পন, পুনম দালাল দাহিয়া। 

আধুনিক ভারতের ইতিহাস - প্রশান্ত স্যার ইউটিউব চ্যানেল, রাজীব আহির। 

ভুগোল - ছায়া প্রকাশনী, পেরিযার, মহেশ কুমার বার্নওয়াল। যেকোন একটা। 

GK & Science, Current affairs - প্রতিযোগিতা দর্পন, খান স্যার ইউটিউব চ্যানেল। 

Economics - Mrunal Patel ইউটিউব চ্যানেল ।

Polity- Lakshmikant. (অপরিহার্য )

Mathematics - R. S. Agarwal 

English essay on Current topic : https://www.civilserviceindia.com/subject/Essay/Contest.html

History MCQ practice: https://www.gatecseit.in/indian-and-world-history/

বাংলা আর ইংরেজী র জন্য প্রত্যেক দিনের খবরের কাগজ পড়া খুবই ভালো। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, বাংলায় যদি কেউ ভালো বাক্য গঠন করতে পারে সে অবশ্যই ইংরেজিতে ও বাক্য গঠন করতে পারবে। হয়ত একটু সময় লাগবে, কিন্তু প্রতিদিন কোন বিষয়ে বাংলাতে লিখে ইংলিশে অনুবাদ করার অভ্যাস আপনাকে ইংরেজিতে ও দক্ষ করবে। প্রথম প্রথম গ্রামারের কথা মাথায় রাখা চলবে না। আস্তে আস্তে গ্রামার বিষয়ক ত্রুটির সংশোধন হয়ে যাবে। 


আমি Online Taiyari app ব্যবহার করতাম। 

ইন্টারনেটে অনেক পিডিএফ পাওয়া যায়, যা আবার অনেক সময় কিনতে ও হয়। তা ডাউনলোড না করাই ভালো। খামোখা Source of knowledge না বাড়ানোই ভালো ।


অনেক বলে ফেললাম, হয়ত কিছু ক্ষেত্রে কিছুটা বেশিই বলে ফেললাম। কাল অবধি আমিও আপনাদের মত WBCS হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। তাতে সাফল্য পেয়েছি, আপনারও আপনাদের কাঙ্খিত লক্ষ্য এবং সাফল্য লাভ করুন তার শুভকামনা রইল। 


সব শেষে, APJ Abdul Kalam স্যারের সেই অমোঘ উক্তি, - 

“Dream is not that which you see while sleeping, it is something that does not let you sleep.”


(   ২০১৮ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস গ্রুপ সি পরীক্ষায় জয়েন্ট বিডিও হিসেবে  উত্তীর্ণ একজন তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নিলেন , লেখকের মতামত কিংবা পরামর্শ অপরিবর্তিত রইলো  ) 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only