বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কৃতী মুসলিমদের সম্পর্কে বিদ্বেষ মন্তব্য ‘সুদর্শন টিভি’র শো নিয়ে সুপ্রিম শুনানি কবে ? জানুন

 


পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ  তথ্য বলছে দেশে মোট আইএএস ও আইপিএস অফিসার রয়েছেন ৮ হাজার ৪১৭ জন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ৩.৪৬ শতাংশ অর্থাৎ ২৯২ জন মুসলিম। এই ২৯২ জনের মধ্যে ১৬০ জন ইউপিএসসি পরিচালিত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকি ১৩২ জন তাঁদের পারফরম্যান্স ও সিনিয়ারিটির ভিত্তিতে স্টেট সিভিল সার্ভিল সার্ভিস থেকে আইএএস বা আইপিএসে উন্নীত হয়েছেন। এই স্টেট সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাও পরিচালনা করে থাকে ইউপিএসসি। উল্লেখ্য দেশের এই মোট ৮ হাজার ৪১৭ জন আইএএস, আইপিএসের মধ্যে ৫ হাজার ৮৬২জনই সরাসরি সিভিল সার্ভিসে উত্তীর্ণ।  বাকি ২ হাজার ৫৫৫ জন স্টেট সিভিল সার্ভিল সার্ভিস থেকে আইএএস বা আইপিএসে উন্নীত হয়েছেন পারফরম্যান্স ও সিনিয়ারিটির ভিত্তিতে।  অন্য একটি তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮২৯জনের ৩৫ জন (৪.২২ শতাংশ) মুসলিম। ২০১৮ সালে সফল ৭৫৯জনের মধ্যে মুসলিম মাত্র ২০জন (২.৪৬ শতাংশ)। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে সফল ৮১০জনের মধ্যে মুসলিম ছিল ৪১ জন (৫.০৬ শতাংশ)।  প্রসঙ্গত ২০১১ সালের সেনসাস অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ১৪.২ শতাংশ মুসলিম। সেই হিসেবে বিগত কয়েক বছরে সিভিল সার্ভিসে মুসলিম উপস্থিতি চমকপ্রদ কিছু নয়। তারপর যেভাবে ‘সুদর্শন টিভি’ নামে একটি বৈদ্যুতিন চ্যানেল  সিভিল সার্ভিসে মুসলিমদের এই যৎসামান্য উপস্থিতিতেও ‘ঈর্ষান্বিত’ হয়ে উঠেছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সিভিল সার্ভিসে মুসলিমদের এই  নামমাত্র উপস্থিতিকে তারা রীতিমতো ‘জেহাদ’ বলে মন্তব্য করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন  টিভি চ্যানেলগুলির নিরপেক্ষ থাকাই নীতি। কিন্তু ‘সুদর্শন টিভি’ যা করছে তা চূড়ান্ত মুসলিম বিদ্বেষ ছাড়া আর কিছুই নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মুসলিম পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত একটি অনুষ্ঠানের সম্প্রচার চূড়ান্ত করে ফেলেছিল ‘সুদর্শন টিভি’। তাদের মতে  ইউপিএসসিতে নাকি মুসলিমরা জেহাদ চালাচ্ছে। আর এটাই ছিল তাদের শো’য়ের মূল বিষয়। সেইমতো তারা মূল অনুষ্ঠানের প্রমো দেখানোও শুরু করেছিল। প্রমোটি নজরে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মুসলিম সমাজ। অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয় দিল্লি হাইকোর্টে। আদালত অনুষ্ঠান সম্প্রচারের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। উল্লেখ্য যে  প্রমোটি দেখার পরই গত ২৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে ওই টিভি অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠায় দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এই ধরনের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের চেষ্টা করার জন্য সুর্দশন টিভির প্রধান সুরেশ ছাভাঙ্কের প্রবল সমালোচনা করা হয় ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসের পক্ষ থেকেও। তারপরও অনুষ্ঠান বন্ধ না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সুর্দশন টিভি কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়েই তখন আদালতের দ্বারস্থ হয় জামিয়া মিল্লিয়া। হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিলেও তা অবশ্য বহাল রাখতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত বিষয়টি খতিয়ে দেখার আদেশ দিয়েছে কেন্দ্র  প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া এবং সুদর্শন টিভিকে। ১৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।  দেশের কঠিনতম সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কীভাবে পাশ করছে জামিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোচিং নেওয়া মুসলিমরা তা নিয়ে খুব মাথাব্যাথ্যা বেড়েছে সুদর্শন নিউজের। তারা সিভিল সার্ভিস উত্তীর্ণ কৃতি মুসলিমদের ‘দেশদ্রোহী’,‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়েছে। চ্যানেলের প্রমোতে বলা হয়েছে ‘একবার ভাবুন জামিয়ার জেহাদিরা যদি আপনাদের জেলার ম্যাজিস্ট্রেট বা বড় অফিসার হয় তাহলে কি হবে ?’ এই ধরনের প্রমো দেখার পরই চ্যানেলের বিরুদ্ধে মামলা করে জামিয়া মিল্লিয়া। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only