শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০

'ধন্যি ছেলে!' বোনের পড়াশোনার খরচ চালাতে চা বিক্রির সিদ্ধান্ত কিশোরের

 



 

মুম্বই, ৩০ অক্টোবর: ১২ বছর আগের কথা একরত্তি বয়সে সুভানের মাথার ওপর থেকে উঠে যায় বাবার স্নেহের ছাতা সংসারের সব দায় দায়িত্ব এসে পড়ে তার মায়ের ওপর এতোদিন কোনও কষ্ট বুঝতে দেননি তিনি কোভিড পরিস্থিতি লকডাউনের গেরোয় সব উলটপালট এখন সুভানের মায়ের আর কাজ নেই তাই উপার্জনও নেই এই অবস্থায় বোনের অনলাইনের ক্লাসের খরচ সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সুভান নিজের লেখাপড়ায় ইতি টেনে এখন তার স্বপ্ন, বোনের অনলাইন ক্লাস যেন চালু থাকে

প্রশ্ন হল, এতোটুকু ছেলে সে রোজগার করবে কীভাবে? মুম্বইয়ের ভেন্ডি বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকান খোলে সে তারপর চা তৈরি করে তা বিক্রি করতে কখনও ভেন্ডিবাজার, নাগপাড়া অন্যান্য এলাকায় যাওয়া শুরু করে ১৪ বছরের ওই কিশোর বাবা চলে যাওয়ার পর মা সংসার চালাতেন স্কুলের বাস অ্যাটেনডেন্টের কাজ করে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, তাদের পড়াশোনা, স্কুলের পড়ার খরচ সবই করতেন এভাবে কোনও ক্রমে সংসার চলে যাচ্ছিল কিন্তু সেই মার্চ থেকে স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ বন্ধ স্কুল বাস তাই রোজগারও বন্ধ হয়ে যায় সুভানের মায়ের  

ভেন্ডিবাজার এলাকায় চা বিক্রি করে রোজ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করে সুভান যা পায়, তা তুলে দেয় মায়ের হাতে সেই টাকা থেকে সংসার খরচের পাশাপাশি বোনের অনলাইন পড়াশোনার জন্য ব্যয় করা হয় সুভান জানিয়েছে, 'যা উপার্জন করি, তার সবটাই মায়ের হাতে তুলে দিই মা সেই টাকা থেকে সংসার খরচের পাশাপাশি  কিছুটা টাকা জমিয়ে রেখে দেন' আর এইভাবেই দিনগুজরান হচ্ছে সুভান তার পরিবারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মা আবার কাজ শুরু করবেন আর তখন নিজের পড়াশোনা ফের শুরু করবে বলে জানিয়েছে সুভান

সম্প্রতি এই ধরণের অনেক ঘটনায় ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া কিছুদিন আগে দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় ৮০ বছরের এক দম্পতির কাহিনি ভাইরাল হয় বেঙ্গালুরুর কনকপুরা রোডে ফুটপাতের উপর বসে ঔষধি গাছের চারা বিক্রি করা ৭৯ বছরের বৃদ্ধ রেবান্না সিড়াপ্পার পাশে দাঁড়িয়েছে মানুষ এমন আরও নজির দেখা গিয়েছে এবার জোর চর্চা চলছে সুভানকে নিয়েছোট্ট বয়সে এতো দায়িত্ব নিজে থেকেই নিতে দেখে কেউ তাকে দিয়েছে 'সাবাসি' আবার কেউ বলছে 'ধন্যি ছেলে'!

 

 

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only