শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৩০০ পৃষ্ঠার রায় হিন্দিতে, ফের ষড়যন্ত্রের গন্ধ



নয়াদিল্লি­,৩ অক্টোবরঃ বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেবার ২৮ বছর পর সেই ধ্বংস ষড়যন্ত্র মামলার রায় বেরোলো বুধবার। ২৩০০ পৃষ্ঠার এই রায়ে অভিযুক্ত ৩২ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে যাদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি নেতা এল কে আদবানি, মুরলী মনোহর যোশি, সাক্ষী মহারাজ, বিনয় কাটিয়ার, উমা ভারতী, কল্যাণ সিংহ প্রমুখ। কংগ্রেস-টিএমসি- ডিএমকে সহ বিরোধী দলগুলি সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং একে ‘রাজনৈতিক রায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। 


২৩০০ পাতার এই রায় প্রদানের ভাষাটি আরেকটি ষড়যন্ত্র। এটি পুরোটাই হিন্দিতে লেখা ছিল, ইংরেজিতে নয়। দেশের বেশিরভাগ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মানুষের ভাষা মোটেও হিন্দি নয়। বাবরি মসজিদ ধ্বংস ষড়যন্ত্র মামলার একটি জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে। দেশের বৃহৎ অংশের মানুষের সঙ্গে এর অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে। অথচ এই বিচারের রায় দেওয়া হল হিন্দি ভাষাতে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই রায় পড়ে কিছুই বুঝতে পারবেন না, পড়তে পারবেন না। 


উদাহরণস্বর‍ূপ তামিলনাড়‍ু ও কর্নাটকে আদালতের প্রধান জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামিল ভাষাতেই কাজ চালান।  অনেক সময় ইংরেজিরও ব্যবহার করা হয়। সিবিআই, এনডিপিএস-এর মতো বিশেষ আদালতে সবসময়ই ইংরেজি ব্যবহার করা হয়। কারণ এদের মামলাগুলির একটি জাতীয় গুরুত্ব থাকে। যদি আমরা কেরলে যাই, সেখানে দেখব জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস কোর্ট থেকে পিডিজে, সবাই ইংরেজি ব্যবহার করছেন। 


যদিও আবেদন মারাঠি ভাষাতে করা হয় মহারাষ্ট্রে, কিন্তু রায় দেওয়া হয় ইংরেজিতে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানাতেও ইংরেজি ব্যবহার করা হয়। ইংরেজি ভাষাতেই সাধারণত রায় দেওয়া হয় সবার বোঝার সুবিধার্থে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাতেও রায় প্রদান করা হয়ে থাকে। উত্তরপ্রদেশে অফিসিয়াল ভাষা হিন্দি হলেও সেখানে যখন কোনও মামলার জাতীয় গুরুত্ব থাকে তখন সেটি ইংরেজিতে লিখিত দেওয়া হয়। 


দেশের সংবিধান অনুসারে, জনগণের সমস্ত তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। তাই বাবরি ধ্বংস মামলার কী রায় দেওয়া হচ্ছে, জনগণ সেটা যাতে পড়ে বুঝতে পারে, সে অধিকারও জনগণের রয়েছে। কিন্তু সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত বুধবার পুরো হিন্দিতে রায় ঘোষণা করে রীতিমতো বিতর্ক সৃষ্টি করল দেশে।  দেশের অধিকাংশ মানুষই হিন্দি জানে না। তারা কীভাবে রায় পড়বে যতক্ষণ না কোনও খবরের কাগজ,নিউজ চ্যানেল কিংবা কোনও ব্যক্তি একে ইংরেজিতে পরিণত করছে। 


অথচ কী ভিত্তিতে রায় দেওয়া হল, কোন প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেওয়া হল, এসব জানার অধিকার সবারই রয়েছে। এ থেকেই বিশ্লেষক মহল মনে করছে, এটি একটি ষড়যন্ত্র এবং পাশাপাশি পিছনের দরজা দিয়ে অহিন্দিভাষীদের উপরে হিন্দিকে চাপিয়ে দেওয়ার একটা সাম্রাজ্যবাদি পরিকল্পনাও বলা চলে। ইংরেজিতে রায় দিলে হয়তো সেটা নিয়ে বিতর্ক হত। হিন্দি রায় আন্তর্জাতিক মিডিয়া বুঝতে পারবে না। তাই বিতর্ক বা সমালোচনাও করা মুশকিল হবে। এজন্যও হিন্দিতে রায় দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only