শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০

অসমে ৬১৪টি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে, ডেটলাইন নভেম্বরে



প্রদীপ মজুমদার

দিন কয়েক আগে অসমের শিলচরে বেশ কয়েকটি মুসলিম সংগঠনের প্রতিনিধিদের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছিলেন, অসম সরকার পরিচালিত মাদ্রাসাগুলি নভেম্বর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে তিনি যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা কার্যকর করার আগে আলোচনা করা হবে। 


হিমন্তের সেদিনের বক্তব্য যে কেবলমাত্র ‘কথার কথা’ ছিল, তার প্রমাণ এখন পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি মাদ্রাসাগুলি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে যে অসমের বিজেপি সরকার নড়ছে না, তা একপ্রকার নিশ্চিত। কারণ, ইতিমধ্যে সরকারি মাদ্রাসা বন্ধের প্রক্রিয়ায় হাত লাগিয়েছে অসমের শিক্ষা দফতর। শিক্ষামন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা ফের বলেছেন, সরকারি খরচে ধর্মীয় শিক্ষানীতি কোনও মতেই মেনে নেবে না রাজ্য সরকার। খ‍ুব শীঘ্রই বন্ধ হতে চলেছে সরকারি মাদ্রাসাগুলি। 


গুয়াহাটিতে সাংবাদিক সম্মেলনে হিমন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্মীয় শিক্ষায় অর্থ খরচ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসম সরকার। নভেম্বরেই মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ রাজ্য শিক্ষা বিভাগ প্রকাশ করবে বলেও হিমন্ত এ দিন পুনরায় জানিয়ে দিয়েছেন। হিমন্তবিশ্ব শর্মার স্পষ্ট বক্তব্য, বিধানসভায় আমরা যা বলেছিলাম, সেটাই পালন করব। তবে বেসরকারি মাদ্রাসাগুলিতে সরকার নাক গলাবে না। কেন-না, সরকারের অর্থ ব্যয় না হলে, যে যা খ‍ুশি করুক, সেখানে সরকারের কিছুই বলার নেই। তবে সরকারি খরচে কোনও ধর্মের শিক্ষা দেওয়া যাতে না হয়, সেদিকটা আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব। 


বিষয়টি এখন আর অবশ্য মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার ম‍ুখের কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সরকারি এক চিঠিতেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, মাদ্রাসা বন্ধ করার বিষয়টি চূড়ান্ত করে ফেলেছে অসম সরকারের শিক্ষা বিভাগ। ৭ অক্টোবর বুধবার রাজ্যের মধ্যশিক্ষা বিভাগের ডিরেক্টরের কাছে চিঠি দিয়ে ওই বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি এস এন দাস জানিয়েছেন, রাজ্যের সব সরকারি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪৮ জন চুক্তিভিত্তিক মাদ্রাসা শিক্ষককে মধ্যশিক্ষার আওতাধীন সাধারণ স্কুলগুলিতে বদলি করা হবে।


ঘটনা হল, শিক্ষামন্ত্রী ম‍ুখে বলছেন, আগামী নভেম্বর মাসে সরকারি মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ জারি করা হবে। অথচ এর অনেক আগে থেকেই শিক্ষা বিভাগের চিঠিতেই প্রমাণিত নোটিশের আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই চিঠির কথা প্রকাশ হতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরাক উপত্যকার বিশিষ্ট আলেমরা। কারণ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, ইসলামি পণ্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা করেই মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। 


নদওয়াতুত তামীরের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান মাজারভুঁইয়া টেলিফোনে ‘পুবের কলম’কে বলেন, সরকার বলছে সরকারি খরচে কোনও ধর্মশিক্ষা হবে না। সরকার কি জানে না মাদ্রাসাগুলোর সিলেবাসে কী আছে? ভাষা, বিজ্ঞান, অঙ্ক, ইতিহাস, ভূগোল প্রভৃতি সাধারণ বিষয়গুলো যেমন মাদ্রাসায় পড়ানো হয় তার পাশাপাশি অতিরিক্ত যে বিষয়টি রয়েছে, তা হল--- আরবি ভাষাশিক্ষা। আরবি ভাষার সঙ্গে ধর্ম শিক্ষাকে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন? বরং আরবি জানলে স্বদেশে এবং বিদেশের বহু জায়গাতেই চাকরির সুবিধা পাওয়া যায়।


অসমের বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরি বলেন, সরকার অর্থ খরচ করে কোনও মাদ্রাসা গড়ে তোলেনি। প্রত্যেকটি মাদ্রাসা নির্মিত হয়েছে মুসলিমদের দানের অর্থে। পরবর্তীতে সরকার সেগুলোকে অধিগ্রহণ করে পরিচালনা করেছে মাত্র। সুতরাং মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করার কোনও অধিকার রাজ্য সরকারের নেই। নোটিফিকেশন জারি হলে আমরা অবশ্যই আদালতে যাব। এই মাদ্রাসাগুলি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও শিক্ষার উন্নতি এবং স্বাক্ষরতার প্রসারে যে বড় ভূমিকা পালন করে, তা সরকারি ও বেসরকারি মহলে অনেকেই স্বীকার করেছেন। 


উল্লেখ্য, অসমে ৬১৪টি সরকারি মাদ্রাসা রয়েছে যার বেশিরভাগই মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা দিয়ে থাকে। এই মাদ্রাসাগুলিতে  হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে এবং শিক্ষক-অশিক্ষক মিলিয়ে মাদ্রাসাসমূহে বহু স্টাফ যুক্ত রয়েছেন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only