সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

জান্নাতবাসি হউন করোনায় মৃত অ্যাম্বুলেন্স চালক আরিফ খান, প্রার্থনা অধীরের



পুবের কলম প্রতিবেদক: করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছে গোটা দুনিয়া। আমাদের দেশও সেই লড়াইয়ের ময়দানে। একথা ঠিক যে, ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সেই লড়াইয়ের প্রথম সারিতে তবে অ্যাম্বুলেন্স চালকদেরও কম ঝক্কি পোহাতে হয় না। তাঁরাও জাত-পাতের পরিচয় ভুলে সেবা করে যাচ্ছে মানুষের। প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটছে। এমনই একজন অ্যাম্বুলেন্স চালকের নাম আরিফ খান। করোনা রোগীদের বহন করতে করতে নিজেই আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন তিনি। তাঁরই স্মরণে সোমবার ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও লোকসভায় কংগ্রসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরি। তিনি প্রার্থনা করেছেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক আরিফ খান জান্নাতবাসী হউন।


এ দিন অধীর চৌধুরি লিখেছেন, আরিফ খান একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক, শহীদ ভগৎ সিং সেবা দলের একজন করোনাযোদ্ধা। গত ৬ মাস বাড়ি যায়নি। দিনের পর দিন করোনা সংক্রমিত ও করোনায় মৃত মানুষকে নিয়ে দিল্লির এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা দিয়েছেন। নিজেকে রক্ষা করতে পারলেন না। করোনা তাঁকে আক্রমণ করল ও জীবনটা তাঁর কেড়ে নিল। আরিফ খান করোনা সংক্রামিত হয়ে মারা গেলেন। এর পরেই অধীরবাবু লিখেছেন, মানুষের সেবার থেকে বড় ধর্ম আর কি হতে পারে? আরিফ ভাই আমাদের শেখালেন- সব ধর্ম আমাদের মানুষের সেবার জন্য শিক্ষা দিয়েছে। আরিফ খান জান্নাতবাসি হউন। 


প্রসঙ্গত, কর্তব্য পালন করতে গিয়ে নিজের প্রাণ দিয়েছেন অ্যাম্বুলেন্স চালক আরিফ খান। তিনি ২০০-র বেশি করোনা রোগীর দেহ বহন করেছেন। করোনা আক্রান্তের পরিবার যখন সৎকার কিংবা দাফন করতে অস্বীকার করেছে তখন কর্তব্যে অবিচল ছিলেন আরিফ। নিজের এই কর্তব্য পালনের জন্য প্রায় ৬ মাস পরিবার পরিজন ছেড়ে ২৮ কিলোমিটার দূরে অ্যাম্বুলেন্সের গ্যারেজেই থাকতেন তিনি। শেষপর্যন্ত করোনা প্রাণ কেড়ে নিল তাঁর। গত শনিবার দিল্লির হিন্দু রাও হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন বছর ৪৮-এর আরিফ। জানা গিয়েছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির সিলামপুরের বাসিন্দা তিনি। বেতনের বেশিরভাগ টাকা তিনি খরচ করে দিতেন। যাঁদের টাকা নেই তাঁদের নিজের টাকা খরচ করেই দাফন বা সৎকার করতেন তিনি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only