শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০

বাস্তব অবস্থার ভিত্তিতেই বাম-কংগ্রেসের আসনরফা চান অধীর

 


আগেই দুই দলের তরফে ঘোষণা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জোট করেই লড়াই করবে বাম-কংগ্রেস। কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দলের অন্দরে স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন,বামেদের কাছে আত্ম সমর্পন করে কোনও জোট নয়। তিনি দলের নেতাদের সাফ জানিয়ে দেন জোট গড়ে লড়াই হবে। কিন্তু বামেদের এটাও বুঝতে হবে তাঁরা দাবি করলেই আসন ছাড়া যাবে না। দাবির সঙ্গে এটাও দেখাতে হবে সেই আসনে বামেদের অস্তিত্ব কতখানি রয়েছে।


অধীর চৌধুরীর এই ব্যক্তব্য বামেদের কানে গিয়েছে। তবে প্রকাশ্যে এই নিয়ে কিছু না বললেও অধীরবাবুর মন্তব্যে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন বাম নেতারা। তাঁরা কিছুটা অপমানিত বোধও করছেন। ৩৪ বছর বাংলা শাসন করার পরে এখন যদি তাঁদের অস্বস্তিতের পরীক্ষা দিতে হয় জোট গঠনের প্রাক্কালে তাহলে তা বাস্তবিক অর্থেই চূড়ান্ত অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাম নেতা জানিয়েছেন, বামেদের আসন দাবি করার জন্য সেই আসন এলাকায় অস্তিত্ব প্রমাণের যে কথা বা প্রস্তাব শোনা যাচ্ছে সেটা যদি কংগ্রেসকেও বলা হয় তাহলে তাঁদের অবস্থাও খুব একটা ভালো কিন্তু দেখাবে না। যদিনি এই কথাটি বলেছেন বা এই মনোভাব দেখিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে তাঁর নিজের জেলায় কংগ্রেসের পায়ের নীচের মাটি বলেই তো আর কিছু অবশিষ্ট নেই। তাহলে তাঁরা কী সেখানে প্রার্থী দেবেন না! আর যেভাবে এই প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে তাতে দেখে মনে হচ্ছে কংগ্রেস মালিক আর বামেরা ভৃত্য। এটা চূড়ান্ত অপমানজনক। প্রয়োজনে বামফ্রন্ট একাই লড়বে।


এদিকে প্রদেশ কংগ্রেসের কিছু কিছু নেতা চাইছেন রাজ্যের ১৭৬টি আসনে প্রার্থী দিতে। বাকি আসন বামেদের ছাড়তে। সেই ভাগ নিয়েও আপত্তি রয়েছে বামেদের। তাঁদের সাফ বক্তব্য, কংগ্রেস কী এটা মনে করছে যে বামশিবির তাঁদের দয়াপ্রার্থী। কংগ্রেস কী জোট গড়তে চেয়ে বামেদের দয়া করছে! যদি সেটা না হয় তাহলে আলোচনা শুরুর আগেই কেন এইসব কথাবার্তা উঠে আসছে। বাম নেতারা বলছেন, কংগ্রেসের এটা মনে রাখা উচিত যে বামফ্রন্টে এখনও ৯-১০টি দল রয়েছে। তাঁদের সম্মিলিত ভোট কিন্তু যে কোনও প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে। তাঁরা বলছেন এর উপর ভিত্তি করেই জোটের ভাগ্য নির্ধারণ হওয়া উচিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only