রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

উত্তর প্রদেশের হাথরাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দাবি করলেন ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  উত্তর প্রদেশের হাথরাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা  দেওয়ার দাবি জানালেন ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ। উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের অনুমতি পাওয়ার পরে হাথরাস গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়া তরুণীর বাড়িতে বিভিন্ন রাজনৈতিক  দলের নেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। রবিবার ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ ক্ষতিগ্রস্ত ওই পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করেন। তিনি পরিবারের জন্য ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা ও একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্ত দাবি করেছেন।    


চন্দ্রশেখর বলেন,  ‘আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য 'ওয়াই' ক্যাটেগরির নিরাপত্তা চাই। কঙ্গনা রানাউত যদি নিরাপত্তা পেতে পারেন, তখন ওই  ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তা পাবে না কেন? ওই পরিবারটি এখানে নিরাপদ নয়। আমি ওঁদেরকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাব। সেই কর্তৃত্ব দেওয়া হোক, আমি নিরাপত্তা দেবো।’   


সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে চন্দ্রশেখর বলেন, যেভাবে এই সরকারের আমলে বিভিন্ন এজেন্সির অপব্যবহার হচ্ছে তা আমরা দেখেছি। এজন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে গোটা ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত।    


উত্তর প্রদেশ সরকার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও  চন্দ্রশেখর আজাদ অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি লুকোনোর প্রচেষ্টা না হবে তাহলে চোরের মত ওই কিশোরীর লাশকে যা নিয়ে গোটা দেশ উত্তাল তাঁকে এভাবে জ্বালিয়ে দেওয়া হতো না। উত্তর প্রদেশ সরকার যেনতেন প্রকারে অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। কয়েকজন আধিকারিক ও কর্মীকে সাসপেন্ড করে কিছুই হবে না। কারণ তাঁরা সেটাই করেছিলেন যা মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের করতে বলেছিলেন।’ 


বাল্মীকি সম্প্রদায়ের দলিত ওই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আগেই ওই ঘটনার এসআইটি তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রবল জনমতের চাপের মুখে অবশেষে রাজ্যের যোগী আদিত্যনাথ সরকার সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করেছে। 


শনিবার কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী ও দলটির মহাসচিব প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সুবিচার না পাওয়া পর্যন্ত ওই ইস্যুতে আন্দোলন চলবে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। প্রায় একঘণ্টা ধরে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে তাঁদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। পরে ওই ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা দু’জনেই যোগী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। 


রাহুল বলেন, আমি হাথরাসের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে দেখা করে তাদের বেদনা অনুভব করেছি। আমি তাদের আশ্বাস দিয়েছি যে, আমরা এই কঠিন দুঃসময়ে সময়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং ন্যায়বিচার পেতে তাদের সম্পূর্ণ সহায়তা করব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only