মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০

সিএএ ‍খ‍ুব শীঘ্রই কার্যকর করা হবে‌, উত্তরবঙ্গের দলীয় বৈঠক থেকে হ‍ুংকার নাড্ডার



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ একুশের বিধানসভা ভোটে যে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকেই মূল অস্ত্র করে ভোটে লড়বে পদ্ম শিবির, সোমবার একদিনের ঝটিকা সফরে উত্তরবঙ্গে এসে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। উত্তরবঙ্গের দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি হুংকার ছেড়েছেন, ‘করোনা মহামারির কারণে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করা যায়নি। খ‍ুব শীঘ্রই তা কার্যকর করা হবে।’ একইসঙ্গে পরোক্ষে গোর্খাল্যান্ডের দাবি মেনে নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির কথায়, ‘গোর্খাদের সমস্যার সমাধানে বদ্ধপরিকর মোদি সরকার।’


যদিও এ দিনের ঝটিকা সফরে দলের গোষ্ঠীকোন্দলের তেতো স্বাদ হজম করতে হয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতিকে। বাগডোগরা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন না বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের অনুগামী কোনও নেতা। দলের জাতীয় সম্পাদকের পদ হারানো রাহুল সিনহাও দলের সর্বভারতীয় সভাপতির বৈঠক বয়কট করেছেন। শুধুমাত্র কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায় ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ নেতাদেরই দেূা গিয়েছে নাড্ডার আশপাশে। রাজ্যে দলীয় নেতাদের শিকড় কতটা গভীরে পৌঁছেছে তা নিজের চোখে দেখে গেলেন পদ্ম শিবিরের প্রধান সেনাপতি। 

একুশের বিধানসভা ভোটে লড়াইয়ের ঘুঁটি সাজাতে উত্তরবঙ্গের নেতাদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসার কথা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। কিন্তু তিনি জরুরি কাজে আটকে পড়ায় তাঁর পরিবর্তে এ দিন উত্তরবঙ্গে এসেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। কিন্তু অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে উত্তরবঙ্গের বিজেপি নেতাদের মধ্যে যে উৎসাহ দেখা গিয়েছিল, তা অনেকটাই ম্রিয়মান হয়ে পড়েছিল। এ দিন সকাল এগারোটা নাগাদ দিল্লি থেকে সোজা বাগডোগরা পৌঁছন নাড্ডা। বাগডোগরায় নেমেই সোজা শিলিগুড়ির নৌকাঘাট মোড়ে পৌঁছন তিনি। সেখানে পৌঁছে ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার মূর্তিতে মাল্যদান করার পর আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দিরে পুজো দেন। সেখানে থেকে সেবক রোডের হোটেলে পৌঁছন। 

ওই হোটেলেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে মিলিত হন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। ওই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় থাকা হিন্দুদের বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী হিন্দুদের ভোটব্যাঙ্ক কবজা করতে ফের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করার হুংকার ছুড়েছেন নাড্ডা। তাঁর কথায়, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন চালু হবেই। এ রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুরা অবশ্যই নাগরিকত্ব পাবেন। করোনার কারণে আইনের নিয়ম ও ধারাগুলি তৈরি করতে সময় লাগছে। দ্রুত গতিতে কাজ শুরু হয়েছে।’

হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতির অন্যতম হোতা বিজেপির সর্বভারতীয় এ দিন অবশ্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করার ‘হাস্যকর’ অভিযোগ তুলেছেন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only