মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০

কিরগিজস্তানে বাতিল নির্বাচন



বিশকেক, ৬ অক্টোবরঃ দেশজোড়া প্রতিবাদ-বিক্ষোভের জেরে চাপে পড়ে অবশেষে নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করেছে কমিশন। রবিবার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মধ্য এশিয়ার দেশ কিরঘিজস্তান। রিগিং ও কারচুপির অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই রাস্তায় নেমে নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও গণআন্দোলন শুরু হয়। পার্লামেন্ট ঘেরাও করে দখল নেয় বিক্ষোভকারীরা। দফায় দফায় সংঘর্ষ ঠেকাতে কারফিউ, জলকামান, রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে পুলিশ। 


তবুও একসময় পুলিশকে হারিয়ে পার্লামেন্টের ঢুকে তাণ্ডব চালায় উন্মত্ত জনতা। রাজধানী বিশকেকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও ঘিরে ফেলেছে তারা। একইসঙ্গে দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অ্যালমাজবেক অটমবায়েভ’কে মুক্ত করে দিয়েছে তারা। তাই একে গণঅভু্যত্থান বলে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা। রুশ অনুগত বর্তমান প্রেসিডেন্ট সোরোনবে জিনবেকভ-এর বিরাগভাজন হওয়ায় বন্দি করা হয় অ্যালমাজবেককে। পরে সন্ত্রাসযোগের অভিযোগে ১১ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


জানা গিয়েছে, রাজধানী বিশকেক ছাড়াও বিভিন্ন শহরে মারমুখি জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে রক্তপাত হয়েছে। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫০জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে রয়েছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। তাদের দাবি, পদত্যাগ করতে হবে প্রেসিডেন্ট জিনবেকভকে। অন্য একদলের দাবি, নতুন করে নির্বাচন করে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। 


উল্লেখ্য, রুশপন্থী ক্ষমতাসীন দুই দল ২৬ ও ২৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাতে সরকার গড়তে না পেরে ঘোড়া কেনাবেচার খেলায় নেমেছে সরকার। এই অভিযোগ তুলে পার্লামেন্টে ভাঙচুর এবং প্রেসিডেন্ট ভবন চত্বরে আগুন লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ১৬টা দল অংশ নেয় এবার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only