বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

৩৫ বছর বিধানসভা ভোটে লড়েননি মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার!



পটনা, ৭ অক্টোবরঃ একটি বিষয়ে নীতীশ কুমার, যোগী আদিত্যনাথ ও উদ্ধব ঠাকরে--- এই তিন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে মিল রয়েছে। এঁরা সকলেই বিধান কাউন্সিলের সদস্য। কেউই বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেননি। একমাত্র নীতীশ কুমার একবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন। তাও ৩৫ বছর আগে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পর পর পাঁচ বছর লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন গোরক্ষপুর থেকে। 


১৯৯৮ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে তাঁর প্রথম জয়যাত্রা শুরু হয়। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে কখনও সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেননি। ঠাকরে ও যোগী দু’জনেই প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী। এ দিকে নীতীশ কুমার বিহারের পাঁচ বারের মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৮৫ সালে শেষবার বিহার বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন নীতীশ। প্রথমবার অংশ নিয়েছিলেন ১৯৭৭ সালে। যদিও সেবার হেরে গিয়েছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি ভোটে জয়ী হন প্রথমবার এবং এটাই শেষবার। এরপর আর তিনি ভোটে দাঁড়াননি। ৬ বার লোকসভা ভোটে জয় লাভ করেছেন নীতীশ কুমার। ২০০৪ সালে শেষবার তিনি লোকসভা ভোটে লড়েন নালন্দা থেকে এবং জয়ী হন। 


২০০৫ সালে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রাজনৈতিক মত পার্থক্যের কারণে নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করেছিলেন ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপির জয়ের পর। জিতন রাম মাঝি তাঁর জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। পরে লালুপ্রসাদের আরজেডির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিপুল ভোটে জয় পান নীতীশ। ২০১৭ সালে এনডিএ-তে আসেন তিনি। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি যখন শপথ গ্রহণ করেন তখন তিনি বিহার আইনসভার কোনও কক্ষেরই সদস্য ছিলেন না। 


আট দিনের মেয়াদ ছিল সেই মুখ্যমন্ত্রিত্বের। পরে তিনি বিধান পরিষদের সদস্য হন। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক ও তেলেঙ্গানাতে উচ্চকক্ষ হিসাবে বিধান কাউন্সিল রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী হতে গেলে রাজ্য বিধানসভার সদস্য হতে হয়। এমএলসি হিসাবে নীতীশের মেয়াদ ছিল ২০১২ সাল পর্যন্ত। তিনি উচ্চকক্ষে পুনরায় নির্বাচিত হন। এই সময় তিনি ব্যাখ্যা দেন যে কেন তিনি সরাসরি সাধারণ নির্বাচন এড়িয়ে এমএলসির পথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বাধ্য হয়ে নয়, নিজের পছন্দে আমি এমএলসি হতে চেয়েছি।’ 


২০১৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে নীতীশ কুমার বলেছিলেন, তিনি রাজ্যভোটে লড়বেন না কারণ তিনি একটি মাত্র আসনে নিজের লক্ষ্য স্থির করতে চান না। ২০১৮ সালে বিধান পরিষদে তিনি নির্বাচিত হন। সেবার নিয়ে পর পর তিনবার। ২০২৪ সালে তাঁর মেয়াদ শেষ হবে। তাঁর তখন বয়স হবে ৭৪ বছর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ওই বয়সে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরের পরিকল্পনা করতে পারেন নীতীশ কুমার। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only