মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

চীন লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না: ঝাও লিজিয়ান



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  ভারত-চীন সীমান্তে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় ৪৪ টি নতুন সেতু উদ্বোধনের বিষয়ে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চীন বলেছে, তারা লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং এটি ভারত অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চীন আরও বলেছে, তারা ওই অঞ্চলে অবকাঠামো তৈরির বিরোধিতা করছে।


আজ মঙ্গলবার এনডিটিভি হিন্দি ওয়েবসাইটে প্রকাশ, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান সীমান্তে অবকাঠামোগত উন্নয়নকে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার প্রধান কারণ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, উভয়পক্ষেরই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয় যা উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।



গতকাল সোমবার ‘বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন’-এর তৈরি ৪৪ টি সেতু উদ্বোধন করেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এসময়ে তিনি  বলেন, ‘পাকিস্তান ও চীন মিলে সীমান্ত সমস্যা তৈরির চেষ্টা করছে। এই দুই দেশের সঙ্গে আমাদের ৭ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে।’


চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রথমেই আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে চীন, লাদাখকে কেন্দ্রীয়শাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এটি এবং অরুণাচল প্রদেশকে ভারত অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমরা  সামরিক উদ্দেশ্যে সীমান্তে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিরোধী। তিনি বলেন, ‘সহমতের ভিত্তিতে উভয়পক্ষেরই সীমান্তের আশেপাশে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ  করা উচিত নয় যার ফলে উত্তেজনা বাড়ে। এরফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উভয়পক্ষের প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে।’


চীনা মুখপাত্রের দাবি, সীমান্তে অবকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতীয় পক্ষ সেনাবাহিনী মোতায়েন করছে এবং এটিই উভয়পক্ষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মূল কারণ। তিনি বলেন, আমরা ভারতীয়পক্ষকে অনুরোধ  করছি উভয়পক্ষের পারস্পরিক সম্মতি অনুযায়ী কাজ করতে এবং পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার মতো কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ এড়িয়ে চলতে। ভারতের উচিত সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কংক্রিট ব্যবস্থা নেওয়া।


এদিকে, সীমান্তে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গতকাল সোমবার ভারত ও চীনা কর্মকর্তাদের মধ্যে সামরিক স্তরে বৈঠক হয়েছে। এনিয়ে সাত বার দু’দেশের মধ্যে সামরিক স্তরে বৈঠক হল। 


গণমাধ্যমে প্রকাশ, ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে চীনা সেনাদের সম্পূর্ণ পিছু হটার দাবি জানিয়েছে ভারত। এজন্য একটি পরিকল্পনার খসড়াও দেওয়া হয়েছে চীনা সেনার হাতে। প্রথমে গালওয়ান এলাকার ভূখণ্ড, তারপরে প্যাংগং লেকের উত্তর ভাগ এবং সবশেষে বর্তমান সংঘর্ষবিন্দু অর্থাৎ লেকের দক্ষিণভাগ থেকে সেনা সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।


আগেকার সংলাপের মতোই গতকালের বৈঠকেও সীমান্তে সেনা কমানোর  বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও উভয়পক্ষই নিশ্চিত যে,  আসন্ন শীতে  লাদাখ সীমান্তের সমস্যা মিটছে না। সেজন্য দু’পক্ষই লাদাখের প্রকৃত  নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর যথাসম্ভব সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। সীমান্তের কাছে আধুনিক অস্ত্র, সরঞ্জাম, ব্যারাক, সৌরশক্তির ব্যবস্থাসম্পন্ন তাঁবু, চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে আসছে চীনা সামরিক নেতৃত্ব। সেইমতো  প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতও।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only