শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

এরতুগরুলে মোহাচ্ছন্ন সব ভারতীয়



বিশেষ প্রতিবেদনঃ তুরস্ক সফর করায় বলিউডি সুপারস্টার আমির খানকে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়া হযেছে। কিন্তু তুরস্কের মেগা সিরিয়াল ‘এরতুগরুল’ যেভাবে ভারতীয়দের মনে জায়গা করে নিয়েছে, তা অনস্বীকার্য। তাই মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে আপামর ভারতবাসীর তুর্কি সিরিয়ালপ্রেম নিয়ে ফুঁসছে জাফরান শিবির। কাশ্মিরের পুলওয়ামা, সোপোর, বারামুলা, রাজৌরিতে বছর তিনেক আগেও ‘এরতুগরুল’ নামে কেউ ছিল না। 


কিন্তু গত দু-তিন বছরে উপত্যকায় জন্মানো শিশুদের অনেকেরই নাম রাখা হয়েছে এরতুগরুল। খোলাবাজারে পাওয়া যাচ্ছে এরতুগরুল স্টাইলের টুপি। তুরস্কে খুবই জনপ্রিয় কানঢাকা এই পশমী টুপির প্রচলন কাশ্মির তথা ভূ-ভারতে কস্মিনকালেও ছিল না। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে দুনিয়া কাঁপানো তুর্কি মেগা সিরিয়াল দিরিলিস এরতুগরুল-এর অসম্ভব জনপ্রিয়তা।


দিরিলিস শ‍ব্দের মানে হল পুনর্জন্ম। ত্রয়োদশ শতকের ওঘুজ তুর্কি নেতা, কিংবদন্তি নায়ক এরতুগরুলের জীবনী নির্ভর এই সিরিয়াল। এরতুগরুল ছিলেন উসমানীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা ওসমানের আব্বা। অর্থাৎ, তুরস্কে উসমানীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠার আগের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে তৈরি টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এরতুগরুল মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গোগ্রাসে গিলছেন কাশ্মিরের তরুণ প্রজন্ম। 


৫টা বিভাগে ৪৪৮ এপিসোড বা পর্বজুড়ে তৈরি এই ঐতিহাসিক উপাখ্যান মাত্র এক দেড় মাসেই হৃদয়ঙ্গম করে ফেলেছেন অনেকে। উচ্চশিক্ষিত, মুক্তমনা, সিনেমা-সিরিয়াল, নাটকের সঙ্গে যুক্ত সংস্কৃতিবান অমুসলিমদের একাংশও এরতুগরুলের প্রেমে পড়েছেন। যদিও গেরুয়া শিবির এখনও একে লাভ জিহাদ তকমা দেয়নি।


কিন্তু আসমুদ্র হিমাচল আর অবরুদ্ধ কশ্মির উপত্যকায় এরতুগরুল-এর জনপ্রিয়তা গেরুয়া শিবিরকে ভাবতে বাধ্য করেছে। কারণ, গতবছর ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা তুলে নিয়ে কাশ্মিরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে নো-ম্যানসল্যান্ডে পরিণত করা হয় উপত্যকাকে। 


তারপরেও অবরুদ্ধ কাশ্মিরে কীভাবে এরতুগরুল এত জনপ্রিয় হল, সেই কারণ খুঁজতে গিয়ে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে জাফরান শিবিরের আইটি সেলের। সবরকম ব্যস্ততা দূরে সরিয়ে রেখে তুর্কি সিরিয়ালের জন্য সময় বের করে নেন ভক্তরা। এরতুগরুলের নেশায় বুঁদ তারা। একটাও এপিসোড ছাড়ার কথা ভাবতেই পারে না তারা। অক্টোবর ২০১৭ ভার্চুয়াল জগতে এরতুগরুল পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই ভাইরাল হয়ে যায় সারা বিশ্বে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় মুসলিমরা যখন আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগছেন, তখন সেই শূন্যস্থান পূরণে এরতুগরুলের সঙ্গে নিজেদেরকে অবস্থান ও পরিস্থিতিকে মেলাতে পারছেন অনেকে। তাই পাকিস্তানের পাশাপাশি ভারতেও এই তুর্কি ইতিহাস নির্ভর উপাখ্যান এত অল্প সময়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যে কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে, সেই কাশ্মিরবাসীর মনে গেঁথে গিয়েছে এরতুগরুল।


দর্শকদের ফিডব্যাক হল, এর কাহিনি এতটাই টানটান নাটকীয়তায় ভরা যে চোখের পলক ফেলার উপায় নেই। দেখা শুরু করলে নিদেনপক্ষে একটা পর্ব শেষ না করে মোবাইল স্ক্রিন থেকে চোখ ফেরানো সম্ভব নয়।  যদিও এই সিরিয়ালকে এরদোগানের প্রভাব বলয় বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে বব্যহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে দিরিলিস এরতুগরুল নিষিদ্ধ করেছে সউদি, আমিরশাহী, মিশর।


তবে এরতুগরুল নিয়ে সবথেকে বেশি উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানে। সিরিয়ালটির লেখক ও প্রযোজক মেহমেত বোজদাগ হলেন তুরস্কের ক্ষমতাসীন একেপার্টির ঘনিষ্ঠ। প্রেসিডেন্ট এরদোগান এই সিরিয়ালের প্রশংসা একাধিকবার করেছেন। তাঁর কথায়, এরতুগরুল অপ্রতিরোধ্য। এর জয়যাত্রা কেউ ঠেকাতে পারবে না।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only