বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০

দুঃস্থ ও প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের স্বার্থে বীরভূমের দুই কলেজে পরীক্ষা



দেবশ্রী মজুমদার, বীরভূম: দুঃস্থ ও প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের আবেদনের ভিত্তিতে বীরভূমের লাভপুর শম্ভুনাথ কলেজ ও পূর্ণীদেবী কলেজে স্নাতক স্তরের শেষ সেমেস্টারের পরীক্ষা হয়। উদ্ভুত কোভিড পরিস্থিতিতে সরকার আগেই আজ থেকে অনলাইনে পরীক্ষার ঘোষণা করে। কিন্তু বোলপুর ও লাভপুরের দুই কলেজের দুঃস্থ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পড়ুয়ারা কলেজের অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করে জানায় যে তাদের এণ্ড্রয়েড ফোন নেই এবং প্রত্যন্ত এলাকায় নেই ক্যাফে। তাই তাদের এই সীমিত সংখ্যক পড়ুয়াদের কলেজে পরীক্ষা নেওয়া হোক। তার ভিত্তিতে এদিন পরীক্ষা নেওয়া হয়। 


এদিকে কোভিড পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের কলেজে আসা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ, এই সময়ে কলেজ বন্ধ। তাহলে এত সংখ্যক পড়ুয়াদের উপস্থিতি কেন কলেজে? গোটা বিষয়টিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের গোপনীয়তা কেন? যদি সঙ্ক্রমণ হয় তার দায় কে নেবে? 


পড়ুয়ারা অবশ্য জানান, তাঁরা নিজেরাই ছাত্র সংসদ ও কলেজের অধ্যক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিল এই মর্মে যে তারা কলেজে পরীক্ষা দিয়ে খাতা জমা দিতে চায়। কারণ তাদের এণ্ড্রয়েড ফোন নেই এবং এলাকায় ক্যাফে নেই। এর ফলে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হলে কে দায়িত্ব নেবে? শম্ভুনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের তরফে বলা হয়, অনলাইন পরীক্ষা চলছে। কলেজে পরীক্ষা হয় নি। অন লাইনে পরীক্ষার বিষয় জানতে ছাত্র সংসদ ও কলেজে আসে। ওই কলেজের অধ্যক্ষ একবার বলেন, পরীক্ষা চলছে। আরেকবার বলেন অনলাইন পরীক্ষা চলছে। এদিকে পরীক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁরা পরীক্ষা দিয়েছেন।

 

এ ব্যাপারে পূর্ণীদেবী কলেজের অধ্যক্ষ সুনীল বরণ মণ্ডল বলেন, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২০-২৫ জন। তাদের এক একজনকে একটি বেঞ্চে বসানো হয় সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনেই। তার আগে কলেজ স্যানিটাইজড করা হয়। সকলের মুখে মাস্ক ছিল। আর যাদের এণ্ড্রয়েড ফোন আছে বা এলাকায় ক্যাফে আছে তাদের অনলাইনে পরীক্ষা দিতে কোন অসুবিধা হয় নি। কিন্তু, এদিন যে স্বল্প সংখ্যক পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের এই আধুনিক সুবিধা নেই। তাই তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only