শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০

জিএসটিঃ রাজ্যগুলিকে অন্ধকারে ঠেলছে কেন্দ্র‌: অর্থমন্ত্রী অমিত মিশ্র



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ জিএসটি কাউন্সিলের তিন-তিনটি বৈঠকে রাজ্যগুলিকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে গেল। বিজেপি বা তার বন্ধুভাবাপন্ন দলশাসিত একুশটি রাজ্য বাজার থেকে টাকা ধার করে ক্ষতিপূরণের বিষয়টির মীমাংসায় রাজি। কিন্তু অপর ৯টি রাজ্য জানিয়ে দিয়েছে জিএসটি ক্ষতিপূরণের টাকা যদি ধার করতে হয়, তবে তা কেন্দ্রীয় সরকারকে করতে হবে। দেনার দায় রাজ্যগুলির উপর চাপিয়ে দেওয়া চলবে না।

 
এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে ঠেলতে ঠেলতে দেওয়ালে গা লাগিয়ে দিয়েছে। ৫ অক্টোবর তারিূের বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন রাজ্যের পাওয়া আটকাচ্ছেন না বলে বোঝাতে চেয়েছিলেন। এই মর্মে তিনি ঘোষণা করেছিলেন এখনও পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ মেটাতে সেস থেকে আয়ের তহবিলে যে ২০ হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছে, তা রাজ্যগুলির মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হবে। সেই কথা মতো ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ হাজার কোটি টাকা রাজ্যগুলির মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে সাকুল্যে ১ হাজার কোটি টাকার চেয়ে কিছু কম। অথচ সিংহভাগ টাকা কবে পাওয়া যাবে সে বিষয়ে রাজ্য অন্ধকারে। অমিত মিত্র বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের ঠেলতে ঠেলতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়নি। অমিত মিত্র বলেন, জিএসটি ব্যবস্থা চালু করার সময় রাজ্যগুলি তাদের পরোক্ষ কর আদায়ের অধিকার ছেড়ে দিয়েছিল। 

রাজ্যগুলি কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতিতে ভরসা রেখেছিল যে, কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষতি পুষিয়ে দেবে। এটি কোনও সাধারণ চুক্তি ছিল না। এই বোঝাপড়ার ভিত্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রীয়তার প্রতি বিশ্বাস। কেন্দ্রীয় সরকার যদি সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, সেটা হবে যুক্তরাষ্ট্রীয়তার নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। অমিতবাবু বলেন, আমরা ভ্যাট প্রথার দিকেই চলে যেতে পারতাম। আমরা ৭০ শতাংশ কর আদায়ের অধিকার ছেড়ে দিয়েছিলাম। কারণ, কেন্দ্রীয় সরকারের শুধু একটি মাত্র বাক্যে বিশ্বাস করেছিলাম, যে পাঁচ বছর আমাদের ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যগুলি ক্ষতিপূরণ সেস আদায়ের সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর কেন্দ্রীয় প্রস্তাবে সায়ও দিয়েছিল। 


কেন্দ্রীয় সরকার জানতে চেয়েছিল এই সময়সীমা দুই, তিন, চার কিংবা পাঁচ বছর--- কত দিনের জন্য বাড়ানো হবে? আমি তখন কাউন্সিলের বৈঠকে বলেছিলাম যতদিন ঋণগ্রহিতা ঋণ শোধ করতে পারবেন না, ততদিনের জন্য বাড়ানো হোক। স্বভাবতই আমরা চেয়েছিলাম কেন্দ্রীয় সরকার ঋণ নিয়ে আমাদের বকেয়া চোকাবে। অমিত মিত্র এরপর জানান, যে রাজ্যগুলির ঋণ নিতে সমর্থ নয়। ঋণ নেওয়ার সামর্থ্য কার আছে? একমাত্র কেন্দ্রই পারে আরবিআই থেকে ঋণ নিতে, কারণ যে পদ্ধতিতে আরবিআই থেকে ঋণ নেওয়া হয় সেটা অনুসরণ করতে সমর্থ কেন্দ্রই। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only