বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

ভয়ে গ্রাম ছাড়ছে হাথরসের মৃতার পরিবার?



পুবের কলম, লখনউ‌: উত্তরপ্রদেশের হাথরসে ১৯ বছরের এক দলিত তরুণীকে নৃশংসভাবে নির্যাতন ও মৃত্য‍ুর ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন পড়ে যায়। মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি, ভীম আর্মি প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ প্রম‍ুখ। সেখানে আজাদ দাবি করেন, মৃতার পরিবারকে নিরাপত্তা দিক সরকার। এমনকী সুপ্রিম কোর্টও এই পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের কাছে জবাব তলব করেছে। তা সত্ত্বেও রাজ্যের যোগী সরকারের প্রশাসনের উপর ভরসা করতে পারছেন না মৃতার পরিবারের সদস্যরা। 


প্রবল আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তাঁরা। বুধবার ‘ইন্ডিয়া টু-ডে’ নামে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, গ্রামে থাকতে তাঁরা এখন ভয় পাচ্ছেন। তাঁরা খ‍ুব শীঘ্রই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সংবাদমাধ্যমকে মৃতার পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, যেভাবে তাঁদের পরিবারের প্রতি দোষারোপ করা হচ্ছে, তাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁরা হাথরসের ভুলগড়ি গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চান। 


মৃতার বাবা ও ভাই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে গত কয়েক সপ্তাহ তাঁরা গ্রামের মধ্যে অত্যন্ত আতঙ্কের সঙ্গে কাটিয়েছেন। রীতিমতো আক্ষেপ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, এতবড় এক মর্মান্তিক ঘটনার পর গ্রামের একজনও তাঁদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। স্বাভাবিকভাবেই গ্রামবাসীদের এই আচরণ অত্যন্ত বেদনা দিয়েছে তাঁদের। তার উপর যেভাবে গ্রামের উচ্চবর্ণের লোকরা সরাসরি অভিযুক্তদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তাতে তাঁরা রীতিমতো ভয়ে রয়েছেন।


এই প্রসঙ্গে মৃতার বাবা বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে এখন আর আমাদের গ্রামে থাকার কোনও মানেই হয় না। আমরা আমাদের কোনও আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে আপাতত উঠতে চাই। কারণ, এখন যা পরিস্থিতি তাতে আমরা গ্রামে অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমরা যেকোনও জায়গাতেই চলে যাব। আমরা এখানে জীবিকার জন্য খ‍ুব কঠিন পরিশ্রম করেছিলাম। অন্য কোথাও গিয়েও আমরা ফের সেটাই করব।’ 


মৃতার বড় ভাই বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন এখানে এতটাই খারাপ এবং চাপ এতটাই বেশি যে আমাদের গ্রাম ছেড়ে চলে যেতেই হবে। আমাদের বিরুদ্ধে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এমনকী আমার ছোট ভাইকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’ মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নির্মম এই ঘটনার পর থেকে যেভাবে গ্রামের লোকজন তাঁদের থেকে দূরে-দূরে থাকছেন তাতে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়াই তাঁদের কাছে একমাত্র রাস্তা। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only