রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রায় দিনই ঘটতে পারে, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আর কী কী জানালেন নির্ভয়ার মা, পড়‍ুন বিস্তারিত



নয়াদিল্লি, ৪ অক্টোবরঃ এই বিজেপি আর আগের বিজেপি নেই। ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বদলে গিয়েছে বিজেপি। স্পষ্ট জানালেন দিল্লির নির্ভয়ার মা। উল্লেখ্য– ২০১২ সালের ডিসেম্বরে তাঁর প্যারা মেডিক্যাল পড়‍ুয়া মেয়েকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও নৃশংস নির্যাতন করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তাঁর মৃত্য‍ু হয়। সেই ঘটনা নিয়েও গোটা দেশ উত্তাল হয়েছিল।


হাথরসের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খবরটা শুনে আমি মোটেই হতবাক হয়নি। কারণ, এই ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই আমাদের দেশে ঘটবে। তবে আমি অবাক হচ্ছি আমাদের দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখে। দেশে এতগুলো মর্মান্তিক ও নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর দেশের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কোনও শিক্ষাই নেয়নি। পুলিশের ব্যবহারই দেখুন না! ১৯ বছরের মেয়েটিকে গণধর্ষণের পর ১৫ দিন হয়ে গেল, এখনও পুলিশ এই ঘটনাকে ধর্ষণ বলতে রাজি নয়। এফআইআর বারবার বদলে যাচ্ছে। এসব থেকেই বোঝা যায় আমাদের বর্তমান প্রশাসনিক পদ্ধতিতে কত ফাঁকফোঁকর রয়েছে।


হাথরসের মৃত নির্যাতিতার দেওয়া শেষ জবানবন্দির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়েটি যখন বলেছেন তাঁকে দু’জন ধর্ষণ করেছে আর দু’জন পালিয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে আমি বলব একমাত্র মেয়েটির কথা ছাড়া আর কারও কথা এখানে বিশ্বাস করা উচিত নয়। মৃত্য‍ুর বিছানায় শুয়ে জীবন-মৃত্য‍ুর মাঝে দাঁড়িয়ে কেউ মিথ্যা বলে না। মেয়েটি যদি সত্যিই মিথ্যা বলতে চাইতেন তাহলে তিনি বলতেই পারতেন, ৪ জনই তাঁকে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু মেয়েটি তা বলেননি। 


আমার মনে হয়, মেয়েটির মৃত্য‍ুকালীন দেওয়া জবানবন্দিকেই সত্য হিসেবে ধরা উচিত। উত্তরপ্রদেশ সরকার কি হাথরসের ঘটনা নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করছে না? প্রশ্নের জবাবে নির্ভয়ার মা বলেন, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা দেখে আমি মর্মাহত। তবে এটা শুধু ইউপির সমস্যা নয়, এটা দেশের সব রাজ্যের সমস্যা। সব রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনই এরকমই। সব রাজ্যেরই পুলিশ ও সরকার সবসময় অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে এবং মামলাগুলি দুর্বল করার চেষ্টা করে।


বিরোধী নেতাদের হাথরসে ঢুকতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকেরই অধিকার রয়েছে মৃতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানানোর। মিডিয়াকে কেন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না? কারণ, সেক্ষেত্রে সত্য বেরিয়ে আসতে পারে। আমি সরকারকে প্রশ্ন করতে চাই সবকিছুই যদি ঠিকঠাক থাকে তাহলে তারা রাজনৈতিক নেতা ও মিডিয়াকে মৃতার বাড়িতে যেতে দেওয়া নিয়ে এত ভয় পাচ্ছে কেন? 


জাত-পাত প্রসঙ্গে নির্ভয়ার মা বলেন, দলিত পরিচয়কে কেন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর সবথেকে বড় পরিচয় তিনি ভারতের কন্যা। জাত-পাতকে গুরুত্ব দিয়ে আসলে প্রকৃত সত্যকেই কার্পেটের নীচে ঠেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মৃতার দলিত পরিচয়কে প্রচারে আনা হচ্ছে। কারণ, পরিবারটি সমাজের পিছিয়েপড়া গোষ্ঠীর বলে তাকে সহজেই হুমকি দেওয়া যায়। হাথরসের মৃতা আমাদের দেশের মেয়ে। ‘ভারত-কন্যা’। তাঁর এই পরিচয়কেই সবথেকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only