শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০

মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত রমেশ উপাধ্যায়কে বিশেষ পদে বসালো জেডিইউ



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  মহারাষ্ট্রের বহুলালোচিত মালেগাঁও বোমা বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত রমেশ উপাধ্যায়কে বিশেষ পদে বসালো জনতা দল ইউনাইটেড ‘জেডি(ইউ)’। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রমেশ উপাধ্যায়কে দলটি উত্তর প্রদেশের এক্স-সার্ভিস ম্যান সেলের রাজ্য আহ্বায়ক হিসাবে নিযুক্ত করেছে। উত্তর প্রদেশ জেডি(ইউ)-এর সভাপতি অনুপ সিং প্যাটেল গত ১২ অক্টোবর তার নিয়োগপত্র ইস্যু করেছেন।  


২০০৮ সালে মালেগাঁও মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং  ঠাকুর ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিতসহ মহারাষ্ট্র পুলিশের সন্ত্রাস দমন বাহিনী ‘এটিএস’  অবসরপ্রাপ্ত মেজর রমেশ উপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল। তিনি ২০১৭ সালে জামিনে মুক্তি পান। মুম্বইয়ের একটি বিশেষ  জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) আদালতে তার বিচার চলছে।


২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও শহরে মসজিদ লাগোয়া এক কবরস্থানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সাত জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। অভিযুক্ত ১২ জনের সকলেই ছিলেন হিন্দু। যাদের অনেকের সঙ্গেই আরএসএস, সঙ্ঘ-পরিবারের যোগাযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ ছিল, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা বলেই মালেগাঁওকে বেছে নেওয়া হয়। ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে উঠে আসে ‘অভিনব ভারত’ নামে একটি কট্টর হিন্দুগোষ্ঠীর নাম। 


জেডিইউ’তে যোগদান প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রমেশ উপাধ্যায় বলেন, ‘উত্তর প্রদেশের জেডিইউ নেতারা আমাকে প্রস্তাব দেন। আলোচনার পরে স্থির করি যে, দলের হয়ে কাজ করবো। এখনই নির্বাচনের লড়ার পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে পুনেতে আছি। দলের কাজের জন্য উত্তর প্রদেশে যাব।


তার দাবি, তিনি নির্দোষ, জাতীয়তাবাদী, দেশপ্রেমিক এবং অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি। তাকে মালেগাঁও বোমা বিস্ফোরণ মামলায় মিথ্যেভাবে জড়িত করা হয়েছে।


উত্তর প্রদেশের জেডি (ইউ)-এর সাধারণ সম্পাদক হরি শঙ্কর প্যাটেল বলেছেন,  ‘মেজর উপাধ্যায় অতীতে দু'বার উত্তর প্রদেশ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। আমাদের বালিয়া জেলা প্রধান উপাধ্যায়কে চিনতেন এবং তাকে দলে যোগ দিতে বলেছিলেন। আমরা আদালত এবং আইনকে সম্মান করি। উপাধ্যায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


মহারাষ্ট্রের পুনের বাসিন্দা রমেশ উপাধ্যায়ের আদি বাড়ি উত্তর প্রদেশের বালিয়ায়। তিনি ১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে তার নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এরআগে, ২০১২ সালে, তিনি উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ‘হিন্দু মহাসভা’র টিকিটে বালিয়া জেলার বৈড়িয়া থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।   


২০০৮ সালের মালেগাঁও বোমা বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মধ্য প্রদেশের ভোপাল থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং জিতেছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only