শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০

সংখ্যালঘু সেলকে চাঙ্গা করতে বর্ধমানে মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহর বৈঠক



এস জে আব্বাস, শক্তিগড়: বর্ধমান সার্কিট হাউসে বৃহস্পতিবার  রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী মৌলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। জানা গেছে, আগামী দিনে জেলা জুড়ে সংখ্যালঘু সেলকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে একাধিক কর্মসুচী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সেখানে। উল্লেখ্য, সদ্য  তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। এদিন একাধিক ইস্যুতে কার্যত দলীয় বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্নও তুলে ধরেন তিনি। বৈঠকে হাজির ছিলেন সংখ্যালঘু সেলের জেলা চেয়ারম্যান ডা. ইন্তেখাব আলম সহ জেলা পরিষদ সদস্য নুরুল হাসান, জেলা নেতা আব্দুর রব, আইএনটিটিইউসি সভাপতি ইফতিকার আহমেদ(পাপ্পু), প্রাক্তন কাউন্সিলার সাহাবুদ্দিন খান প্রমুখ। 


সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী জানান, সাম্প্রদায়িক শক্তির মোকাবিলা করতে  দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সর্বাত্মকভাবে সংখ্যালঘু সেলকে কাজে লাগানো হবে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে একটি ভোটও যেন অন্য কোথাও না যায় সেটা দেখাই তাঁর দায়িত্ব। সে জন্য চলতি অক্টোবর মাস থেকে জানুয়ারী মাসের মধ্যে গোটা রাজ্য জুড়েই সংখ্যালঘু সেলকে চাঙ্গা করে সংখ্যালঘু সেলকে ঢেলে সাজানো হবে।ধাপে ধাপে প্রতিনিধি সম্মেলন করে মহকুমা স্তর থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত শক্তিশালী কমিটিও গঠন করা হবে। 


এদিন তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া ভাষায় জানান, কেউ কারও বিরুদ্ধে যাচ্ছে - এই ধরণের হীন মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে যেখানে আছেন  তাঁদের প্রতিটি কাজই শেষ পর্যন্ত দলের জন্য। তাই কেউ কারও বিরুদ্ধে নয়। সিদ্দিকুল্লাহ কী - সেটা কাউকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না- তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমেই সেটা করে দেখাবেন।

 

অন্যদিকে, দলীয় সাংগঠনিক বিন্যাসের বিরুদ্ধে এক রাশ ক্ষোভ উগরে বলেন, আউশগ্রাম, মঙ্গলকোট, কেতুগ্রামের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অফিস আদালত সবকিছুই বর্ধমানে - কেন বীরভূমকে তা নিয়ে ভাবতে হবে? জানা গেছে,এই তিনটি বিধানসভাকে দলীয়ভাবে পূর্ব বর্ধমানেই রাখার জন্য ইতিমধ্যেই তিনি দলনেত্রী সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন। তাছাড়া, নাম না করে এদিন তিনি কার্যত দলের এক বিশেষ নেতার উদ্দেশ্যে খোঁচা দিয়ে বলেন, বর্ধমানে খাবো আর বীরভূমে গিয়ে মুখ ধোবো - এটা হয় নাকি !


ভোট আসতেই সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন নিয়ে লাফিয়ে পড়া দীর্ঘদিনের ট্রাডিশন সমস্ত রাজনৈতিক দলেরই। এব্যাপারে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন,'আসলে সংখ্যালঘুরা যাঁরা নেতৃত্ব দেন তাঁদের কিছু শেখানো হয়না - কী করা উচিত,কিভাবে করা উচিত -  এসব বিষয়ে। তিনি দায়িত্ব পাওয়ায় এসব বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নেতৃত্বদের। এজন্য নেতৃত্বের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ তৈরী করা হবে। আর মূলত সেই নিয়েই এদিনের বৈঠক।' তাঁর আশা, সংখ্যালঘু সেলের বলিষ্ঠ কার্যকলাপের ফলে তাঁরা মূল সংগঠনের কাছে গুরুত্ব পাবেন।একদিকে উন্নয়ন যজ্ঞ চলবে অন্যদিকে, সংগঠনকে মজবুত করার কাজও সমান তালে চলবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only