সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০

মাদ্রাসা নিয়ে অসম সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা সংখ্যালঘু মুসলিম নেতাদের



জ্যোৎস্না বেগম:

পরের মাস থেকে সরকার পোষিত মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন অসমের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেইসঙ্গে এ সকল মাদ্রাসায় আর্থিক সহায়তা বন্ধের কথাও তিনি বলেছেন। মাদ্রাসা নিয়ে অসম সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেন সংখ্যালঘু মুসলিম নেতারা। তাদের মতে, সংবিধান অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা নিজেদের সংস্কৃতি রক্ষা করে নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে পারে, সেক্ষেত্রে সরকার সব রকম সহযোগিতা করবে। এদেশে খ্রিস্টান পরিচালিত, মুসলিম পরিচালিত বহু প্রতিষ্ঠান আছে যেটা সংখ্যালঘু মর্যাদাপ্রাপ্ত এবং সরকার শিক্ষকদের বেতন দেয়।


আসাম সরকারের মাদ্রাসা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানার পর ওই রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী হিন্দের কেন্দ্রীয় শিক্ষা পর্ষদ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিবৃতিতে নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। পর্ষদের চেয়ারম্যান নুসরাত আলি বলেন, একদিকে জাতীয় শিক্ষানীতির অধীনে শিক্ষার সার্বজনীনতা এবং সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে পশ্চাদপদ শ্রেণির সঙ্গে সংযুক্ত করার কথা সরকার বলছে। অন্যদিকে আসামের বিজেপি সরকার মাদ্রাসাগুলিতে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মুসলিম বিরোধী নীতিকে গ্রহণ করছে। করোনো মহামারীর সময় কেন্দ্র সরকার একটার পর একটা জনস্বার্থ বিরোধী আইন পাশ করার পদক্ষেপ নিয়েছে, একইভাবে আসামের বিজেপি সরকার জনস্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।


এটিকে সরকারের নিন্দনীয় কার্যকলাপ বলে অভিহিত করে নুসরাত আলি রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্তের জন্য হাজার হাজার মাদ্রাসা পড়ুয়াদের পড়াশোনায় ছেদ পড়বে । সেইসঙ্গে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা চাকরি বিহীন হয়ে পড়বেন। এই প্রসঙ্গে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের উচিত আসাম সরকারের এই ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only