শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০

চাঁদের বিকিরণ বেড়েছেঃ চিন



ক্যালিফোর্নিয়া, ৩ অক্টোবরঃ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ হওয়ায় চাঁদের রহস্য ভেদ করতে সুদীর্ঘকাল ধরেই গবেষণা চলছে। সম্প্রতি চ্যাং-ই-৪ নামে একটা রোবটকে চাঁদে পাঠিয়েছে চিন। উদ্দেশ্য হল চাঁদের বিকিরণের মাত্রা পরিমাপ করা। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে সেই চিনা রোবটের পাঠানো তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, চাঁদের বিকিরণ অনেক বেড়েছে। চিন ও জার্মান মহাকাশ বিজ্ঞানীদের সেই অংক দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাও। 


জার্মান মহাকাশ বিজ্ঞানী টমাস বার্জার বলেছেন, এই প্রথম চাঁদের বিকিরণ মাত্রা পরিমাপ করা সম্ভব হল। এটা খুব বড় একটা প্রাপ্তি। আগে কখনও ভাবাই হয়নি যে, চন্দ্রপৃষ্ঠ এতটা বিপজ্জনক। তিনি এও বলেন, চাঁদকে ঘিরে কোনও বায়ুমণ্ডল না থাকায় সৌর বিকিরণ সরাসরি চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ে। কোনও বাধা সৃষ্টি হয় না। এই বিকিরণের ঝড়ে ধীরে ধীরে চন্দ্রপৃষ্ঠও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্রমেই গহ্বরগুলো আরও প্রকট হচ্ছে।


রোবট থেকে আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তায় বলেছেন, মহাশূন্যে থাকা আন্তর্জাতিক স্পেসস্টেশনের নভোশ্চরদের সেই বিকিরণের ঝাপটা অল্প হলেও সহ্য করতে হয়। এমন কী আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে যেসব বিমান যাতায়াত করে– সেই অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠের থেকেও বেশি বিকিরণ হয়। 


২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে এই প্রথম মহিলা পাঠাচ্ছে নাসা। তাই তার আগে চিনা চন্দ্রাভিযানে যাওয়া রোবটের থেকে তথ্য সহায়তা নিয়েছে নাসা। কিন্তু সেই তথ্য পেয়ে বিজ্ঞানীদেরকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তাঁরা বলছেন, চন্দ্রপৃষ্ঠে কিছুক্ষণ থাকলে তীব্র তরঙ্গের বিকিরণ শরীরের ক্ষতি করবে। যা থেকে মারণরোগ ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। তাই নভোশ্চরদের পরিধানের জন্য ব্যবহ*ত স্পেসস্যুট আরও অনেক মোটা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কয়েকগুণ বেশি মোটা স্পেসস্যুট ভেদ করে সরাসরি মানবদেহে স্পর্শ করতে পারবে না চাঁদের তরঙ্গের শক্তিশালী বিকিরণ।   

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only