বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০

বেশিরভাগ ইহুদিই চোর, বলেছিলেন ইসরাইলের প্রতিষ্ঠাতা বেন গুরিয়ন



বিশেষ প্রতিবেদক­‌: ফিলিস্তিনে যায়নবাদীদের অবৈধ দখল শুরু হয়েছিল ১৯৪৮ সালের পর থেকে। কিন্তু, এই দখলদাররা কারা ছিলেন? কী ছিল তাদের আসল উদ্দেশ্য? ইসরাইলের এক ঐতিহাসিক তাঁর লেখা বই (জিউয়িশ সোলজার্স অ্যান্ড সিভিলিয়ান্স লুটেড আরব নেবার্স প্রপার্টি এন মাস ইন ৪৮)-এ জানাচ্ছেন, ফিলিস্তিনের মাটিতে ঢুকে পড়ে যায়নবাদী দখলদাররা আসলে আরব দুনিয়ার সম্পদ চুরি করেছে। এবং এটি ‘দেখেও না দেখার ভান করে এসেছে কর্তৃপক্ষ।’ ইসরাইলের ইতিহাসবিদ অ্যাডাম রাজ তাঁর লেখা বইয়ে ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের অকথ্য অত্যাচার-নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেছেন। 


মূলত আরব বিশ্ব থেকে ইসরাইলি দখলদাররা কিভাবে ধন-সম্পদ লুঠ করে পালিয়েছিল এবং ফিলিস্তিনিদের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করে তাদের খুন করেছিল তা নিয়েই অ্যাডাম রাজের বই প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ১৯৪৮ সালের পর ইসরাইলের ভাঁড়াটে গুণ্ডাবাহিনী যখন তখন ফিলিস্তিনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ নিয়ে ইসরাইলের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেন গুরিয়ন যে মন্তব্য করেছিলেন সেটিকেও নিজের বইয়ে তুলে ধরেন ইতিহাসবিদ অ্যাডাম। গুরিয়ন বলেছিলেন, ‘বেশিরভাগ ইহুদিই চোর।’ 


অ্যাডামের লেখা বই নিয়ে ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজে ওফের আদেরেতের একটি পুনঃমূল্যায়ন বের হয়েছে। সেই প্রতিবেদনটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, ‘ইহুদি সেনা ও নাগরিকরা প্রতিবেশী আরবদের সম্পদ চুরি করেছে’ এবং তা দেখেও ‘মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ’। হারেৎজ সংবাদপত্রের শীর্ষ সাংবাদিক গিদিয়ন লেভির মতে, ‘বেশিরভাগ ইহুদিই চোর’ এই কথাটি আসলে একজন ইহুদি বিদ্বেষী বা নাৎসিবাদীর মুখ থেকে বের হয়নি, এটি বলেছিলেন খোদ ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড বেন গুরিয়ন। লেভি বলেন, লুঠতরাজ চলার সময় ইসরাইলি প্রশাসন ‘অন্ধ হওয়ার নাটক করছিল এবং এভাবেই তারা লুঠ-পাটকে প্রশ্রয় দিয়ে গিয়েছে।’ 


আরবভূমে ইসরাইলের নির্যাতন ও দিনে-দুপুরে ডাকাতি প্রসঙ্গে এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থরক্ষায় এই লুঠ চলেছে­ তড়িঘড়ি আরব রাষ্ট্রগুলিতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়েছে। এর ফলে অন্তত ৭ লক্ষ মানুষ নিজ ঘরে ফেরার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন।’ ইসরাইলি সাংবাদিক লেভি যোগ করেন, ‘ইসরাইল ফিলিস্তিনের ৪০০টি গ্রাম ধ্বংস করার আগেই ব্যাপক লুন্ঠন চালায়, যার ফলে উদ্বাস্তুদের আর নিজ ভূমিতে ফিরে আসার জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।’


 যায়নবাদীদের এই লুন্ঠন সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্যই প্রকাশ করে দিয়েছেন লেভি। বলেন, ‘যুদ্ধ শেষে শুধুমাত্র কুৎসিত লোভ থেকেই তারা সম্পদ চুরি করতে আসেনি বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের পরিচতদের সর্বস্ব নিয়ে পালিয়েছে, এগুলোর মধ্যে ছিল- বহুমূল্য অলঙ্কার ও ঘরের দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র। এর মাধ্যমে দখলদাররা জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের প্রোপাগাণ্ডাকে মান্যতা দিয়ে নিজেদের সজ্ঞানে বা অজান্তে প্রশাসনকে মদদ জুগিয়েছিল।’ ইসরাইল প্রশাসনের এই বঞ্চনা ও দমননীতির জন্যই ফিলিস্তিনের সম্পদে দেদার থাবা বসাতে পেরেছিল অবৈধ দখলদারশক্তি। তবে এ ছিল অতীতের কথা। বর্তমানে অবস্থার কতটা পরিবর্তন হয়েছে? বিশেষজ্ঞদের কাছে এই প্রশ্ন করা হলে তাঁরা বলেন, কোনও পরিবর্তন হয়নি। ফিলিস্তিনে এর আগেও প্রকাশ্যে লুঠ চলত, সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only