সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

টিআরপি দুর্নীতিঃ রিপাবলিক টিভির সিইওকে জেরা করল মুম্বই পুলিশ



মুম্বই, ১২ অক্টোবর‌: রবিবার টেলিভিশনের টিআরপি (টেলিভিশন রেটিং পয়েন্টস) জালিয়াতি মামলায় রিপাবলিক টিভি’র সিইও বিকাশ খানচান্দানীকে জেরা করল মুম্বই পুলিশ। এ দিন সকালেই মুম্বই পুলিশের সদর দফতরে হাজির হয়েছিলেন খানচান্দানী। মুম্বই পুলিশের তরফে শনিবার খানচান্দানী-সহ মোট ৬ জনকে সমন জারি করে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। খানচন্দানী ছাড়া যে অপর পাঁচজনকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল, তারা হলেন রিপাবলিক টিভির সিওও হর্ষ ভাণ্ডারি, প্রিয়া ম‍ুখার্জি, চ্যানেলের ডিস্ট্রিবিউশন শাখার প্রধান ঘনশ্যাম সিং, হান্সা রিসার্চ গ্র‍ুপের প্রবীণ নিঝারা এবং অন্য একজন কর্মী। 


মুম্বই পুলিশসূত্রের খবর, রিপাবলিক টিভির ম‍ুখ্য সম্পাদক অর্ণব গোস্বামীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ভাবছে মুম্বই পুলিশ। রিপাবলিক টিভি ছাড়া আরও দু’টি টেলিভিশন চ্যানেলের বিরুদ্ধে টিআরপি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। রিপাবলিক টিভির তরফে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা। ওই চ্যানেলের দাবি, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্য‍ুর তদন্তের ব্যাপারে তারা প্রশ্ন করেছিল বলেই পুলিশ কমিশনার মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। 


এ দিন মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, রিপাবলিক চ্যানেলের ডিস্ট্রিবিউশন শাখার প্রধান ঘনশ্যাম সিংকে দু’বার সমন পাঠানো হয়েছে। উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, তিনি ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মুম্বই শহরের বাইরে রয়েছেন। ইতিমধ্যে, রিপাবলিক চ্যানেল একটি ভিডিয়োপ্রকাশ করে দাবি করেছে, এফআইআর-এ রিপাবলিক চ্যানেলের নাম নেই। এ দিকে আবার রবিবার সকালে রিপাবলিক চ্যানেলের সিএফও (চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার) পুলিশকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি তদন্তের জন্য ১৪-১৫ অক্টোবর পর্যন্ত হাজির হতে পারবেন না। 


কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। যতদিন শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি হচ্ছে না, ততদিন তিনি আসতে পারবেন না। সুন্দরম তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, আমি তদন্তে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু মুম্বই পুলিশের কাছে আমার অনুরোধ, যতদিন সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদনের শুনানি হচ্ছে না ততদিন টিআরপি জালিয়াতির মামলায় পুলিশ তদন্ত বন্ধ রাখ‍ুক। মুম্বই পুলিশের দাবি, রিপাবলিক টিভি ছাড়া আরও দু’টি মুম্বইয়ের স্থানীয় চ্যানেল টিআরপি কারচুপিতে জড়িত। 


টিআরপি কারচুপি করা হয় চ্যানেলের দর্শক সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর জন্য। যে চ্যানেলের টিআরপি বেশি অর্থাৎ দর্শক সংখ্যা বেশি, সেই চ্যানেলগুলির বিজ্ঞাপনবাবদ টাকা বেশি পায়। এতে কোটি কোটি টাকা হেরফের হয়। মুম্বই পুলিশের অপরাধ শাখা টাকা লেনদেনে এই কারচুপি তদন্তের জন্য কাজে লাগিয়েছে ইকনমিক অফেন্সেস উইং (ইওডব্লিউ)-কে। 


মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, তারা জানতে পেরেছিল এই মামলায় অভিযুক্ত বোমপল্লি রাও মিস্ত্রি ওরফে সঞ্জীব রাওয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিগত দশ মাসে কোটি টাকার বেশি ট্রান্সফার করা হয়েছে। মুম্বই পুলিশের অর্থনৈতিক শাখা জিএসটি অফিস এবং আয়কর বিভাগকে চিঠি দিয়ে টিআরপি কেলেঙ্কারি মামলায় আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করতে অনুরোধ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে,অর্থ লেনদেনের উৎসের খোঁজ করতে গিয়ে তারা দেখেছেন উক্ত অ্যাকাউন্টে মোট ৫-৬ বার লেনদেন হয়েছে। 


কিছু টাকা জমা করা হয়েছিল বক্স সিনেমা এবং ফক্স টিভির তরফে। এই দু’টি স্থানীয় চ্যানেলের রিপাবলিক টিভির সঙ্গে টিআরপি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত বলে অভিযোগ পুলিশের। মুম্বই পুলিশের অপরাধ শাখার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মিস্ত্রি প্রতিমাসে অভিযুক্ত বিশাল ভাণ্ডারিকে ২০ হাজার টাকা করে দিত। 


এই অর্থ বিতরণ করা হত বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে যাদের বাড়িতে ব্যারোমিটার লাগানো ছিল। পুলিশের আরও বক্তব্য, এরকম ৮৩টি পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করতো ভাণ্ডারি। ভাণ্ডারিকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ৮৩টি পরিবারের মধ্যে ৩৩টি পরিবারের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। টাকা দিয়ে পরিবারগুলিকে বলা হত নির্দিষ্ট কোনও চ্যানেলে সারাদিন খালে রাখতে যাতে মনে হয় সেই টিভি চ্যানেল মানুষ দেখেছেন। এভাবেই ব্যারোমিটারের পয়েন্ট সংগ্রহ করে টিআরপি তথ্য প্রকাশ করা হত। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only