রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০

‘প‍ুজোর আগে ট্রেন চাল‍ু না হলে মুর্শিদাবাদের পর্যটন শিল্প ম‍ুখ থ‍ুবড়ে পড়বে’



আবদুল ওদুদ

১১ দিন পরই দুর্গোৎসবের শুভারম্ভ। কিন্তু মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার মানুষ কি সেই উৎসবে শামিল হতে পারবে? দুর্গোৎসবে বিশেষ করে শহর কলকাতায় আসেন অনেকে প্রতিমা দর্শন করতে। তবে এবার কি সেই সুযোগ মিলবে? এই আশঙ্কায় রয়েছেন দুই জেলার হাজার হাজার মানুষ। পাশাপাশি পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই দুই জেলার পর্যটন শিল্পও। পুজোকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে চালু হতে চলেছে দার্জিলিং মেল, তিস্তা-তোর্সাসহ আরও কয়েকটি ট্রেন। উত্তরবঙ্গের ট্রেন চালুর প্রস্তুতি নিলেও শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার পর্যটন শিল্প কি আদৌ পুজোর আগে খুলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


দুর্গাপূজায় অনেকে যেমন প্রতিমা দর্শন করতে ট্রেনে ভ্রমণ করেন, তেমনি আবার পুজোর ছুটিতে মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি, নদিয়ার পলাশির প্রান্তর, ইসকনের মন্দির সফর করেন অনেকে। কিন্তু গত মার্চ মাসের পর কোভিড-১৯’এর কারণে সমস্ত ট্রেন বন্ধ রয়েছে। মুর্শিদাবাদের পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। 


হোটেল মালিক, গাইড, টাঙ্গাওয়ালা, অটো, ট্রেকার মালিকরাও গত ৮ মাস ধরে বসে রয়েছেন। বন্ধ রুজি-রোজগার। তাঁদের অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। লালবাগ স্টেশন লাগোয়া ইন্দ্রজিৎ হোটেলের মালিক ইন্দ্রজিৎ ধর বলেন, লকডাউন থেকেই ব্যবসার হাল-হকিকত খুব খারাপ। বর্তমানে হোটেলে তালা-চাবি মারা রয়েছে। কোনও ব্যবসা নেই। হাজারদুয়ারি খুললেও ট্রেন না চলার কারণে কোনও পর্যটক আসেন না। ফলে ৮ মাস যাবৎ কর্মীরা বসে রয়েছেন।


 তিনি বলেন, গোটা লালবাগ এলাকায় ৪০টির বেশি ছোট-বড় হোটেল রয়েছে। সকলেরই একই অবস্থা। পুজোর আগে যদি ট্রেন চলাচল না শুরু হয়, তাহলে পুরো সিজিনটাই মাটি হয়ে যাবে। তিনি হোটেল মালিকদের পক্ষে বলেন, পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে কিছু কিছু ট্রেন চলছে। কিন্তু কেবলমাত্র মুর্শিদাবাদের সমস্ত ট্রেন বন্ধ রয়েছে। দুই জেলার পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে অন্তত হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস, ভাগীরথী এক্সপ্রেস, ধনধান্য এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি চালানোর দাবি জানান তিনি।


অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি এ আর খান দাবি করেন, লালগোলা-শিয়ালদহ পর্যন্ত প্রতিদিন ১৭ জোড়া ট্রেন ছিল, যা এখন বন্ধ। দূরত্ববিধি মেনে সমস্ত ট্রেন চালানো হোক। তিনি বলেন, বর্তমানে সমস্ত পরিষেবা চালু হয়েছে। কেবলমাত্র রেলকে আটকে কী লাভ? তিনি আরও বলেন, লালগোলা-শিয়ালদহ শাখায় হাজার হাজার মানুষ রেলের উপর নির্ভর করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। গত ৮ মাসে লক্ষ লক্ষ মানুষ বে-রোজগার হয়েছেন। ট্রেন চালু হচ্ছে প্লাটফর্মগুলির হকার থেকে শুরু করে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা রুজি-রোজগার ফিরে পাবেন।


তিনি বলেন, বহরমপুর এবং শিয়ালদহর কয়েকজন রেলকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা জানিয়েছেন, রেলবোর্ড যখন ট্রেন চালাবে তখনই চলবে। তবে তারা আশ্বস্ত করেছেন, পুজোর আগেই হয়তো ক’টা ট্রেন চলতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only