বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০

কাঁচা চা-পাতার দাম নিম্নমুখী, অস্তিত্ব সংকটে উত্তরের ক্ষুদ্র চা-চাষিরা



রুবাইয়া, জলপাইগুড়ি­ 

টানা কয়েক মাসের লকডাউনের ফলে বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়েছিল উত্তরবঙ্গের বড়-ছোট সমস্ত চা-শিল্প। কারণ মার্চের প্রথম দিকে যে বহু মূল্যের ফার্স্ট ফ্লাশ চা উৎপাদন হয়, এবার তাও আসেনি। পাহাড় ও সমতলের চা-বাগানগুলো তুলতে পারেনি ফার্স্ট ফ্লাশের পাতা। প্রথম দফার লকডাউনের পর বাগানগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এই ক্ষতি ও কর্মহীন চা-শ্রমিকদের চরম অভাব অনটনের কথা ভেবে রাজ্য সরকার এপ্রিল মাসে লকডাউনে পাতা তোলায় ছাড় দেয়। কিন্তু পাতা তোলা শুরু হলেও প্রথম দিকে বেশিরভাগ বাগানের উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। কারণ বাগান বন্ধ থাকার ফলে পরিচর্যার অভাব। 


তবে পাতার দাম ভালো পাওয়ায় ক্ষতি সামলে ফের উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল উত্তরের চা-বাগানগুলো। কিন্তু পুজোর আগেই কাঁচা পাতার দাম কমতে শুরু করায় ফের বিপাকে উত্তরবঙ্গের প্রায় চল্লিশ হাজার ক্ষুদ্র চা-চাষি। কাঁচা চা-পাতার দাম হু-হু করে কমে যাচ্ছে। যে পাতা বিক্রি হত ৩৫ টাকা কিলো দরে সেই পাতাই এখন ২৫ টাকা কিলো দরে নেমেছে। ফলে চিন্তায় মাথায় হাত পড়েছে উত্তরের ক্ষুদ্র চা-চাষিদের। তাঁদের অভিযোগ, চায়ের বহুজাতিক প্যাকেটজাত সংস্থাগুলির জন্য দাম কমছে। এক শ্রেণির বহুজাতিক সংস্থা জলের দরে তৈরি চা কিনতে চাইছেন। যাতে দাম আরও কমে যায় তাই নিলামে চা কেনাও বন্ধ করে দিয়েছে। এটা ইচ্ছাকৃত তৈরি করা হয়েছে, যাতে চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করে।


প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গে বহু ছোট ছোট চা বাগান আছে। যেগুলোর নিজেদের কারখানা নেই। ওইসব বাগান থেকে পাতা বিক্রি করা হয় কারখানাগুলোতে। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র চা চাষিদের কাঁচা পাতার মূল ক্রেতা বটলিফ ফ্যাক্টরির চা কয়েক সপ্তাহ থেকে নিলামে বিকোচ্ছে গড়ে ১৮০ টাকা কিলো দরে। যেটা কিছুদিন আগেও ছিল ২৪০ টাকা। আবার বড় চা-বাগানগুলোর চায়ের দাম ৩২৫ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় নেমেছে। চায়ের চাহিদা যে ক্রমশ কমছে তা কার্যতই স্পষ্ট। ফলে উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না। এমন পরিস্থিতিতে ফের একবার সংকটে ক্ষুদ্র চা-চাষিদের ভবিষ্যৎ। পাতার দাম স্থিতিশীল করতে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ছোট বাগানগুলির অস্তিত্ব নিয়ে সংকট দেখা দেবে। এই ক্ষতির জেরে চা-চাষের কাজে জড়িত লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন হলেও চা-পর্ষদের কর্তারা নীরব দর্শক। 


চা-চাষিদের সংগঠন সূত্রে জানা যায়, উত্তরবঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার চা-চাষি রয়েছেন। শুধুমাত্র জলপাইগুড়ি জেলায় ৫ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ১৫ হাজার ক্ষুদ্র চা-বাগানের সঙ্গে জড়িত। পাতার দাম কমে যাওয়ায় তাঁরা ভাবতে পারছেন না, কেমন করে পরিস্থিতি সামলে উঠবেন। ময়নাগুড়ির চা-চাষি আবু মিঞা বলেন, একদিকে পাতার দাম কমছে অন্যদিকে ওষুধ, রাসায়নিক সারের দাম, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ছে। ওই পরিস্থিতিতে বাগান চালু রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন লকডাউনের জেরে পাতা তোলাও বন্ধ ছিল। জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা-চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয় গোপাল চক্রবর্তী বলেন, হঠাৎ করেই যেভাবে কাঁচা পাতার দাম কমতে শুরু হয়েছে তাতে চাষিরা শঙ্কিত। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only