সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

ইয়েমেন যুদ্ধে গৃহহীন ৪০ লক্ষ মানুষ চরম দুর্ভোগে



সানা ও এডেন, ১২ অক্টোবরঃ ইয়েমেন যুদ্ধে অন্তত ৪০ লক্ষ মানুষের মাথার ওপর কোনও ছাদ নেই। ঘরবাড়ি হারিয়ে তারা উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে এদের দিনরাত কাটছে। ফলে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জুটছে না। অনাহারে, অর্ধাহারে দিন গুজরান হচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিকে দুর্ভিক্ষ বললেও নেহাত অত্য‍ুক্তি হবে না। দেশটির সুপ্রিম মানবাধিকার কাউন্সিলের রিপোর্টে এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। 


সেখানে বলা হয়েছে, প্রায় ৬ লক্ষ ৬ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে। চলতি বছর আগস্টের শেষপর্যন্ত শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৪১ লক্ষের মতো। ১৫টা প্রদেশ সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চ ২০১৫ থেকে একতরফা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে সউদির নেতৃত্বে আরব জোট। সাড়ে ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আরবদেরকে যুদ্ধবিমান ও সমরাস্ত্র জোগাচ্ছে আমেরিকা, ইসরাইল ও ইউরোপের দেশগুলো। এমনিতেই আরব বিশ্বের সবথেকে গরিব দেশ হল ইয়েমেন। তাই যুদ্ধ নয়, ইয়েমেনের প্রয়োজন ছিল খাদ্য। এখন তো কার্যত চরম দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। 


তাই এখন আরও বেশি খাদ্য, ওষুধ সহ বিভিন্ন ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল। আরব কিংবা অস্ত্রের সওদাগর পশ্চিমারা এক কেজি ত্রাণও পাঠায়নি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে। অথচ সাড়ে ৫ বছর ধরে অবিরাম যুদ্ধ চালিয়ে নির্বিচারে নিরীহ মানুষদেরকে গণহারে হত্যা করা হচ্ছে। 


রাষ্ট্রসংঘের তরফে ইয়েমেনের দায়িত্বে থাকা রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর লিসে গ্র্যান্ডি বলেছেন, চলতি বছর বিভিন্ন দেশ ও বিদেশি সেবা সংস্থার তরফে ৪৫ দফা ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর কথা থাকলেও নানা কারণে ১৫ দফা বাতিল হয়েছে। উল্লেখ্য, ইয়েমেনে এখন কোনও সরকার নেই। আরবরা বকলমে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে দেশটিকে ধ্বংসস্ত‍ুপে পরিণত করেছে। ফলে কয়েক লক্ষ শিশু, মহিলা ও গরিবগুর্বো সাধারণ মানুষের চেহারা হাড্ডিসার হয়ে গিয়েছে। রক্ত-মাংসের মানুষগুলোকে দেখলে মনে হবে এক্স-রে কপি। রাষ্ট্রসংঘের তথ্য বলছে, ৮৫ শতাংশ মানুষের অবিলম্বে ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। আরবদের সাধের এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ১ লক্ষ ২২ মানুষ নিহত হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only