বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০

বিহার বিধানসভা নির্বাচন: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইয়ের মন্তব্যে মুসলিম ভোট হারানোর আশঙ্কা করছে জেডিইউ

 


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বিতর্কিত মন্তব্য করায় রাজ্যের শাসক জোটের শরিক জেডিইউ মুসলিম ভোট হারানোর আশঙ্কা করছে। জেডিইউয়ের নির্বাহী সভাপতি অশোক চৌধুরী বলেছেন, নিত্যানন্দ রাইয়ের এ ধরণের মন্তব্য পরিহার করা উচিত।


মঙ্গলবার বৈশালী জেলার মহানার বিধানসভা এলাকায় একটি নির্বাচনী সমাবেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই রাজ্যের  বিরোধী রাষ্ট্রীয় জনতা দলকে (আরজেডি) তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রীয় জনতা দল বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জিতে যায় তাহলে কাশ্মীরি জঙ্গিরা এই রাজ্যে আশ্রয় নেবে।’



এ ধরণের বিতর্কিত মন্তব্যের পরেই বিরোধীদল আরজেডি, কংগ্রেস ও অন্যদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন ওই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিজেপি নেতা ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, ‘এনডিএ সরকার কাশ্মীর থেকে জঙ্গিদের নির্মূল করছে। কিন্তু, আমি নিশ্চিত যে, যদি বিহারে আরজেডি ক্ষমতায় ফিরে আসে তাহলে জঙ্গিরা এখানে আশ্রয় নেবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছেন। আর আমরা  বিহারে এই জিনিস কোনওভাবেই বরদাশত করবো না।’



এ প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধীদল আরজেডি মুখপাত্র চিত্তরঞ্জন গগন বলেন, ‘নিত্যানন্দ রাই যে মন্তব্য করেছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একটি নির্বাচনী সমাবেশে কী ধরণের ভাষা ব্যবহার করছেন তিনি? এ জন্য বিহারের মানুষের কাছে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে রয়েছেন। কিন্তু, ওই পদে থাকার কোনও যোগ্যতাই তাঁর নেই।’


কংগ্রেস নেতা সন্তোষ কুমার বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ওই মন্ত্রীকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা। রাষ্ট্রপতির উচিত এই দেরি না করে বিষয়টি আমলে নেওয়া। বিজেপি নেতারা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে দূষিত করার চেষ্টা করছেন।’


অন্যদিকে, রাজ্যে জেডিইউ-বিজেপি জোট সরকার বিহারে ক্ষমতায় থাকলেও জেডিইউয়ের নির্বাহী সভাপতি অশোক চৌধুরী বলেছেন, নিত্যানন্দ রাইয়ের এ জাতীয় বক্তব্য এড়িয়ে চলা উচিত। জেডিইউ নেতারা মনে করছেন,  নিত্যানন্দ রাইয়ের মন্তব্যে জেডিইউ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারণ মুসলিম সমাজের একাংশ তাদের পক্ষে ভোট দেয়। কিন্তু এ জাতীয় বিতর্কিত মন্তব্যে মুসলিম ভোটারদের উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।


বিজেপি’র বিহার রাজ্যের দায়িত্বশীল এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ভূপেন্দ্র যাদব সাফাইতে বলেছেন, নিত্যানন্দ রাইয়ের বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।


বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা এবং মহাজোটের নেতৃত্ব দেওয়া আরেজেডি’র তেজস্বী যাদব বলেছেন, ‘বিহারে বেকারত্ব, অনাহার এবং পলায়নের সন্ত্রাস রয়েছে। বিজেপি কেবল এই সমস্ত এজেন্ডা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই জাতীয় বক্তব্য দিচ্ছে।’


তেজস্বী যাদব জেডিইউ-বিজেপি জোট সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, বিহারে বেকারত্বের হার ৪৬.৬ শতাংশ। বেকারত্ব, দরিদ্রতা, ক্ষুধা এবং মাইগ্রেশন  সন্ত্রাসে তাদের কী বলার আছে? তাদের ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ গত ১৫ বছরে কী করেছে? এটি তাদের এজেন্ডা থেকে সরে যাওয়ার প্রয়াস কিন্তু আমরা এজেন্ডা অনুযায়ী নির্বাচনে লড়তে চাই।’ 


আরেজডি’র সিনিয়র নেতা শিবানন্দ তিওয়ারি কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিজেপি নেতারা নীতীশ কুমারের উন্নয়নে বিশ্বাস করেন না,  তাই ধর্মীয় মেরুকরণের জন্য এ জাতীয় বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।’ বিহারে বিজেপি-জেডিইউ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী জেডিইউ প্রধান নীতিশ কুমার।  


বিহারে ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতারা কিশানগঞ্জেও বিতর্কিত বক্তব্য রেখেছিলেন। তখন সাবেক বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন, মহাজোট জিতলে পাকিস্তানে দেওয়ালি উৎসব উদযাপিত হবে, আতশবাজি ফোটানো হবে। এ নিয়ে সেসময় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। রাজ্যটিতে আগামী ২৮ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর এবং ৭ নভেম্বর মোট তিন দফায় নির্বাচন হবে। ফল ঘোষণা হবে ১০ নভেম্বর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only