বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

মাওবাদীরা যেন আর ফিরে না আসে‌: ম‍ুখ্যমন্ত্রী



সেখ জামাল, ঝাড়গ্রাম‌: দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের পর ঝাড়গ্রাম জেলার ঘোড়াধরা স্টেডিয়ামে বুধবার প্রশাসনিক বৈঠক করলেন ম‍ুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এই বৈঠকে জনপ্রতিনিধি ও সরকারির আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে উন্নয়ন পর্যালোচনা করেছেন। নতুন করে উদ্বোধন করেছেন ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ সহ বেশ কিছু প্রকল্প। পরে একাধিক বিষয়ে জনপ্রতিনিধি থেকে আধিকারিকদের সতর্ক করেছেন। ম‍ুখ্যমন্ত্রীর জানান, ঝাড়গ্রামে অনেক কিছু দেওয়া পরেও এখানে নোংরা রাজনীতি করছে একদল, যারা বলে তারা নিজেরা নিজেদেরটা করে দেখাক।  


ঝাড়গ্রাম ঘোড়াধরা স্টেডিয়ামের বৈঠকে উদ্বোধন, শিলন্যাস ছাড়াও বিভিন্ন মন্দির সংস্কার প্রকল্পে অর্থবরাদ্দ ঘোষণা করেছেন। সেইসঙ্গে মাওবাদী সন্ত্রাসে নিখোঁজ, হাতিতে মৃতদের পরিবারে চাকরির নিযুক্তিপত্র তুলে দেন এ দিন। বিলি করেছেন বেশ কিছু পরিষেবাও। 


এ দিন ম‍ুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে যত মন্দির, মসজিদ, গুরদোয়ার, চার্চের মতো পবিত্র স্থান রয়েছে, সেগুলিকে প্রয়োজনে সংস্কার করে একটি ধর্মতীর্থ ম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামে অনেক কিছুই করা হয়েছে। হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, রাস্তা, বিশ্ববিদ্যালয়, স্পোর্টস অ্যাকাডেমি সহ অনেক কিছুই হয়েছে। তাহলেও নোংরা রাজনীতি করচে একদল লোক, যারা এসব বলছে তারা নিজেদেরটা এবার নিজেরা করে দেখাক। 


এ দিন ঝাড়গ্রামে করোনা সংক্রমণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ম‍ুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু সতর্কতা উল্লেখ করে দিয়েছেন প্রশাসনকে। বহিঃরাজ্যের গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে বলেছেন তিনি। তিনি বলেন ঝাড়গ্রাম সীমানা এলাকা, মুম্বই, চেন্নাই, ঝাড়খণ্ড থেকেও লরির টায়ার হয়ে প্রবেশ করছে জীবাণু। আপনারা টোল ট্যাক্সে গাড়ির টায়ারগুলির নমুনা পরীক্ষা করুন। বাজারের থলে দিয়েও যদি প্রবেশ করে, তাহলে এভাবেও হতে পারে। বাইরে থেকে আসা লরিচালকদের ঝাড়গ্রামে দাঁড়িয়ে খাওয়া বা থাকার ক্ষেত্রে সতর্ক হোক প্রশাসন। হয় তারা বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসুক, না হলে যে ধাবা বা হোটেল খাবার দেবে তারা কড়াকড়িভাবে জীবাণুমুক্তকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করুক, তাতে অসুবিধা নেই। এ বিষয়ে নজরদিক সকলে।


এ দিন মাওবাদী প্রসঙ্গে জনপ্রতিনিধি থেকে রাজ্যপুলিশের ডিজি সকলকেই বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন ম‍ুখ্যমন্ত্রী। এ দিন তিনি বলেন, ‘আর যেন মাওবাদীরা ফিরে না আসে, জঙ্গলমহলে যেন শান্তি প্রতিষ্ঠা থাকে, এজন্য জনপ্রতিনিধিরা বেশি করে সময় দাও, অনেক টাকা বাইরে থেকে নির্বাচনের সময় চলে এল, এলাকাটাকে কিনে নিয়ে চলে গেল। তারপরে মানুষকে বিপদে ফেলে দিল মাওবাদীদের ঢুকিয়ে দিয়ে, তা যেন না হয়। অনেক কষ্টে রক্তের জায়গায় শান্তি এনেছি আমরা। 


সেই শান্তির স্থানে কেউ অশান্তি করলে মানুষ র‍ুখে দাঁড়াবে, লড়াই করবে শান্তির জন্য।’ রাজ্য পুলিশের ডিজির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বাইরের বিভিন্ন বহিরাগতরা আসছে টাকার বান্ডিল নিয়ে, টাকার বান্ডিল নিয়ে বাংলায় যাতে কোনো অশান্তি করতে না পারে এটা নজর রাূার দায়িত্ব আপনাদের। পুলিশকে একটু বেশি সক্রিয় হতে হবে। এতগুলো এজেন্সি থাকা সত্ত্বেও কেন তথ্য ঠিকমতো আসবে না কে  কাথায় টাকা বিলি করছে। বেলপাহাড়িতে শিখিয়ে পোস্টার লাগিয়ে এল। একটা দল নিয়ে কয়েকদিন আগে ঘুরে গিয়েছে, সেই তথ্য আমি আপনাকে দিয়েছি। তারা তো রাজনৈতিক দলের লোক। মাওবাদীদের পুরনো কয়েকজন নিয়ে এসে ঘুরে গেছে ঝাড়গ্রামে নতুন করে বদমায়েশি করার জন্য। পরিষ্কার বলছি, এসব বরদাশ্ত করব না। অনেক কষ্ট করে শান্তি ফিরিয়ে আনা হয়েছে, শান্তি যেন বজায় থাকে।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only