শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০

'ভ্রান্ত' প্রচারে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের উষ্মা, ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত জানাল কলকাতা প‍ুলিশ



রাজ্যের পুলিশের হাতে শিখ সম্প্রদায়ের অপমানের ঘটনায় জাতীয় রাজনীতি উত্তাল। এবার এই বিষয় নিয়েই সরব হলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং ও শিরোমনি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদল। বৃহস্পতিবার 'নবান্ন চলো' অভিযানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ গ্রেফতার করে বলবিন্দর সিং নামে এক পাঞ্জাবী যুবককে। তাঁর কাছ থেকে পিস্তল উদ্ধার হওয়ায় তাঁকে গ্রেতার করে পুলিশ।  


গ্রেফতারের সময় পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তিতে তাঁর পাগড়ীটি খুলে পড়ে যায়। এই ঘটনাকে পাঞ্জাবী সমাজের অপমান বলে বিজেপির তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু হয়। বিজেপির তরফ থেকে বলা হয়, ওই ব্যক্তি ভাটিণ্ডার বাসিন্দা। এবং বন্দুকটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত তা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তিকে হেনস্থা করার জন্য লাইসেন্স ওয়ালা পিস্তলটি যেমন কেড়ে নেওয়া হয়, তেমনই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে খুলে নেওয়া হয় ওই শিখ যুবকের পাগড়ী। 


সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে ভাইরাল করে দেওয়ার ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিখ সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এই অবস্থায় পাঞ্জাবের কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংয়ের মিডিয়া উপদেষ্টা রবীন ঠুকরাল ট্যুইট করে এই ঘটনার সমালোচনা করেন।


তিনি লেখেন "পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং বলেছেন, এটা ঠিক হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে এক শিখ যুবকের গ্রেফতারির সময় তাঁর পাগড়ি খুলে ফেলা হয়েছে। ওই যুবকের মানহানির ঘটনায় স্তম্ভিত মুখ্যমন্ত্রী। এই কাণ্ড যিনি ঘটিয়েছেন সেই পুলিশকর্মী শিখ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।"


প্রসংঙ্গত, পলিশের তরফ থেকে ট‍্য‍ুইট করে জানান হয়, "পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সকল ধর্মকে সম্মান প্রদর্শন করে। পাগড়ি খোলার ঘটনাটি সম্প‍ুর্ণ অনিচ্ছাকৃত। অফিসার তাকে গ্রেফতারের আগে বিশেষভাবে তাঁর পাগড়ি পরে নিতে বলেছিলেন। থানায় নিয়ে যাওয়ার ঠিক আগেই সংযুক্ত ছবিটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only