বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০

মথুরায় শাহী ঈদগাহ ও মসজিদ সরানোর দাবি খারিজ করল আদালত


মথুরা, ১ অক্টোবর‌: ‘মথুরায় কৃষ্ণ জন্মভূমির মাটির উপরই রয়েছে শাহি ঈদগাহ মসজিদ, তা অবিলম্বে সরাতে হবে’ এই দাবি জানিয়ে ‘শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান’ সংস্থা মামলা করে। বুধবার মথুরা জেলা আদালতের অতিরিক্ত বিচারক ছায়া শর্মা সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আদালত বলেছে, ১৯৯১ সালের ধর্মস্থান আইনের আওতায় এই আর্জি গ্রহণ করা যাবে না। তাই খারিজ করা হল। এই আবেদনে ১৩.৩৭ একর কৃষ্ণ জন্মভূমির মালিকানা চাওয়া হয়। 


শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান জানিয়েছে যে, শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমিতে মুঘল আমলে কবজা করে শাহী দরগাহ বানানো হয়েছিল। আবেদনে শাহী ঈদগাহ মসজিদকে হটানোর দাবি জানানো হয়। এই মামলা ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান, কটরা কেশব দেব খেবট, মৌজা মথুরা বাজার শহরের তরফ থেকে তাঁদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে আইনজীবী রঞ্জনা অগ্নিহোত্রী আর ছয় অন্য ভক্ত দাখিল করে। বুধবার, প্লেস অব ওয়ারশিপ অ্যাক্ট ১৯৯১ অনুযায়ী এই মামলার খারিজ হয়েছে।


১৯৯১ সালে পি ভি নরসিংহ রাওয়ের সরকার উপাসনাস্থল সংক্রান্ত একটি আইন পাস করেছিল। ওই আইনের চার নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, স্বাধীনতার দিন থেকে দেশে যেসব ধর্মীয় কাঠামো রয়েছে, তার চরিত্র কোনওভাবেই পালটানো যাবে না। কোনও মন্দিরের জায়গায় যেমন মসজিদ বানানো যাবে না, তেমনই মসজিদ সরিয়ে মন্দিরও বানানো যাবে না। 


অবশ্য পাঁচ নম্বর ধারায় বলা হয়, ওই আইন রাম জন্মভূমি বাবরি মসজিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কারণ ওই আইনি লড়াই স্বাধীনতার আগে থেকে চলছিল। কিন্তু গত জুন মাসে বিশ্ব ভদ্র পূজারি পুরোহিত মহাসংঘ আইনের চার নম্বর ধারাটি অসংবিধানিক বলে ঘোষণা করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে যায়। সংগঠনের পক্ষে বলা হয়, স্বাধীনতার আগে যেসব হিন্দু মন্দির, মঠ জবরদখল হয়েছিল, ওই আইনের ফলে সেগুলির পুনরুদ্ধার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে ধারাটি প্রত্যাহার করা হোক।


নব্বইয়ের দশকে বিজেপির বহুচর্চিত স্লোগান ছিল, ‘অযোধ্যা তো ঝাঁকি হ্যায়, মথুরা-কাশী বাকি হ্যায়’। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণের পথ তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়ার জানিয়েছেন, এবার মথুরায় শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির থেকে শাহি ইদগা ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দির চত্বর থেকে জ্ঞানবাপী মসজিদ হটানোর পালা।


বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য, অযোধ্যার পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে ‘মুক্ত’ করতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি তুলে আসছে তারা। তার জন্য এবার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। বিজেপি নেতৃত্ব এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। কিন্তু ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ‘শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান এর মতো একাধিক হিন্দু সংগঠন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only