বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

আধুনিক শিক্ষা ও স্মার্ট ক্লাসের জন্য মাদ্রাসাগুলিতে বাড়ছে অমুসলিম ছাত্রের সংখ্যা



আবদুল ওদুদ

রাজ্যের ম‍ুখ্য‍মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষার ব্যবস্থার উন্নয়নে আদিবাসী, দলিত, তপশিলি জাতি-উপজাতি, সংখ্যালঘ‍ু ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যাপারে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের হাইমাদ্রাসা, আলিম এবং ফাজিল পরীক্ষায় অমুসলিম ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তার প্রমাণ মিলেছে ২০২০ সালের হাইমাদ্রাসা, আলিম-ফাজিলের পরীক্ষায়।


দেখা গিয়েছে, হাই মাদ্রাসায় অমুসলিম জেনারেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩২২৪, এসসি- ৮৫৮ জন, এসসিএসটি- ২৫৪ জন এবং ওবিসি ১৪০২ জন। সবমিলিয়ে ৫ হাজার ৭৩৮ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। পাশের হার ছিল প্রায় ৮৮ শতাংশ। তবে হাই মাদ্রাসায় অমুসলিম ছাত্রদের থেকে ছাত্রীদের সংখ্যাই বেশি। ৫৭৩৮ জনের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যালঘ‍ু ৪০২২ জন। মোট ৫৭৩৮ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৪৬৮১ জন। অমুসলিম জেনারেলে ছাত্রীর সংখ্যা ২২৫৮, এসসিতে ৬০৮, এসটিকে ১৬৭, ওবিসিতে ৯৯০। 


এ ছাড়াও উর্দুভাষী ১০২১ জন হাই মাদ্রাসার পরীক্ষা দিয়েছিল তার মধ্যে ৬৩১ জন ছাত্রী। পাশ করেছে ৮৮৪ জন। ওখানেও ছাত্রীদের সংখ্যাই বেশি। পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাদ্রাসাগুলিতে কেন অমুসলিম ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে, এ প্রসঙ্গে মাদ্রাসা পর্ষদের সভাপতি ড. আবু তাহের কামরুদ্দিন বলেন, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের যে সিলেবাস, তাতে খ‍ুব ফারাক নেই। দু’একটি বিষয় বেশি থাকলেও সেগুলি ঐচ্ছিক বিষয় করা হয়েছে। 


ফলে অমুসলিম ছাত্রছাত্রীরা মাদ্রাসার শিক্ষার দিকেই বেশি ঝুঁকছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, উত্তর দিনাজপুর, বীরভূম, বর্ধমানের বেশ কিছু এলাকা আদিবাসী অধ্যুষিত। সেই সব এলাকায় মাদ্রাসার সংখ্যা যথেষ্ট রয়েছে। আদিবাসী ছাত্রছাত্রীরা স্কুলের থেকে মাদ্রাসাগুলির প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। 


সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যেখানে শিক্ষা দফতরের অধীনে থাকা বহু স্কুলেই স্মার্ট ক্লাস চালু হয়নি। কিন্তু ৬১৫টি মাদ্রাসার মধ্যে ৪৫৯টিতে স্মার্ট ক্লাস চালু হয়েছে। এই সমস্ত মাদ্রাসায় রয়েছে আধুনিক ও বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য উন্নত মানের ল্যাব গ্রন্থাগার এবং শরীর চর্চার জন্য জিম। দেখা গিয়েছে বহু মাদ্রাসায় অমুসলিম শিক্ষকও রয়েছে ফলে তাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হয় না। পাঠ দান ও পাঠ গ্রহণ দু’টোই অমুসলিম শিক্ষকরাই করে থাকেন। 


উদাহরণস্বর‍ূপ পর্ষদ সভাপতি বলেন, বর্ধমানের ওরগ্রাম মাদ্রাসায় ৬০ শতাংশের উপর অমুসলিম ছাত্র রয়েছে। বীরভূম বাঁকুড়ার ক্ষেত্রেও মাদ্রাসাগুলিতে অমুসলিম ছাত্রের সংখ্যা বেশি। উত্তর দিনাজপুরের বুদ্রা, উমেদিয়া হাইমাদ্রাসাতে রয়েছে প্রচুর অমুসলিম ছাত্র। এ বছর রাজু মুর্মু উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, সে কেন মাদ্রাসা কেন বেছে নিয়েছে? তার জবাব বাড়ির আশপাশে কোনও ভালো স্কুল নেই। তাছাড়া পারিবারিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে, দূরে গিয়ে পড়াশোনার করার মতো অর্থ নেই। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নত, মাধ্যমিকে সঙ্গে কোনও ফারাক নেই। তাই তিনি বেছে নিয়েছে মাদ্রাসাকেই। 


পুরুলিয়ার হুরা থানা এমএ অ্যাকাডেমি হাইমাদ্রাসায় এ বছর ভালো ফলাফল করেছে রুদ্র হাসদা। সে জানায় তাদের এখানে রয়েছে বয়েজ হোস্টেল, গার্লস হস্টেল-সহ নানা সুবিধা, তার বাড়ির পাশেও কোনও বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক আহমদুল্লা আনসারি জানান, তাঁর মাদ্রাসায় মোট ছাত্র সাড়ে সতেরোশোর মতো। কিন্তু অমুসলিম ছাত্রছাত্রী রয়েছে ৬০০। এ বছর শুভম মিশ্র ৬৯৮ নম্বর পেয়ে রেকর্ড করেছে। সে এখন এলাকায় আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only