শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

কোন পথে সিএএ-র ভবিষ্যৎ?



প্রদীপ মজুমদার

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জেরে লোকসভায় ও রাজ্যসভায় বিতর্ক ছাড়াই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করিয়ে নিয়েছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তারপর থেকে এই আইনের বিরোধিতা করে দেশজুড়ে প্রতিবাদের সুনামি আছড়ে পড়ে। তারপরই কি সিএএ নিয়ে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে বিজেপি সরকার? এখন সেই প্রশ্নই উঠে আসছে। কারণ, এখনও অবধি সংশোধিত আইনের বিধি রচনা সম্ভব হল না। ২ দিন পর সেই বিধি তৈরির সময়সীমা পেরিয়ে যাবে। সুতরাং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেই বিধি তৈরি সম্ভব কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।


অনেকেই বলছেন, একুশে বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র বিধি রচনার সম্ভাবনা কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। কারণ, এই আইনের বিজ্ঞপ্তি জারির পর নিয়মানুযায়ী ৬ মাসের সময়সীমার পরও অতিরিক্ত তিন মাসের সময় সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে শনিবার ১০ অক্টোবর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, এখনও সিএএ-র বিধি রচনা হয়নি। যেটুকু সময় হাতে আছে তার মধ্যে বিধি তৈরি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে আইনমন্ত্রকে পাঠানো, সেখানে খ‍ুঁঁটিনাটি খতিয়ে দেখে ফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেটা পাঠাবে কমিটি অন সাব-অর্ডিনেট লেজিসনেশনের কাছে---এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা মোটেই সম্ভব নয়।


কেন এখনও পর্যন্ত সিএএ আইনের বিধি তৈরি হয়নি তার কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অসম ও বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিএএ-র বিধি রচনা করে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তাতে ডিসেম্বরের মতো ধারালো আন্দোলন দানা বাঁধতে পারে। অনেকেই আবার মনে করছেন, এনআরসি-র মতো সিএএ-ও একটি রাজনৈতিক খেলা। অসমে এনআসি নিয়ে অদ্ভ‍ুত খেলা চলছে। থমকে রয়েছে পুরো বিষয়টি। ঠিক তেমনি অবস্থা সিএএ-রও। একে ঝুলিয়ে রেখেই ভোট বৈতরণি পার করতে চায় বিজেপি।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only