মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০

ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়ে খুশি তামান্না মালিতার গোটা গ্রাম

 
এম এ হাকিম, বনগাঁ : উত্তর ২৪ পরগণার গোপালনগর থানা এলাকার গঙ্গানন্দপুর গ্রামের তামান্না মালিতা এবছর ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছে। তার ওই কৃতিত্বে গোটা গ্রাম ও সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষজন বেশ খুশি। ‘নিট’ পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৪,৪৮৩ র্যা ঙ্ক করেছে তামান্না। মোট ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৬৪৬ নম্বর পেয়েছে সে। 

দরিদ্র চাষি পরিবারের মেয়ে আল আমীন মিশনের ছাত্রী। পশ্চিম মেদিনীপুর ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করত তামান্না। মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে অম্বিকাপুর আলতাফ হোসেন হাইস্কুলে। ৭৮.৫৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে সকলের নজর কেড়েছিল। এরপরে আল আমীন মিশনের মেদিনীপুর ক্যাম্পাসে ভর্তি হয়ে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনা করেছে। ৮৩.৬০ শতাংশ নম্বর পায় তামান্না। নিট-এর জন্য আল আমীন মিশনের মেমারী ক্যাম্পাসে কোচিং নিয়ে মেডিকেলে সফল হয়েছে।   
বাবা রফিকুল মালিতা ও মা নিলুফা ইয়াসমিনের প্রথম সন্তান তামান্না। দুই ভাইবোন তারা। ভাই ইমন মালিতা আল আমীন মিশনের পশ্চিম মেদিনীপুর ক্যাম্পাসে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। রফিকুল মালিতা জানান, ‘আমার আড়াই বিঘা মত জমি আছে। মূলত জমির উপরেই সংসারের ব্যয় নির্বাহ হয়। মা আইসিডিএস কর্মী। পুজোর পরে রেজিস্ট্রেশন, ভেরিফিকেশন ও কাউন্সেলিং শেষে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হবে তামান্না। প্রথম থেকেই ও মেধাবী। কন্যাশ্রীতে জেলার মধ্যে ৪ লাইনের ছড়া লিখে প্রথম হয়েছিল। মেডিকেলে সফল হওয়ায় আমরা খুশি। এবার পরবর্তী ধাপে এগোনোর পালা।’  

তামান্না জানায়, ‘পড়াশোনার পিছনে, আমার সফলতার পিছনে আমার বাবা-মায়ের আন্তরিক উৎসাহ ও অবদান রয়েছে। একইসঙ্গে আল আমীন মিশনের শিক্ষকরা আমাকে প্রচুর সহযোগিতা করেছেন। মেমারি ক্যাম্পাস ও পশ্চিম মেদিনীপুর ক্যাম্পাসের শিক্ষকরা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন।’ তার এলাকার অম্বিকাপুর আলতাফ হোসেন হাই স্কুলের শিক্ষক রইস মণ্ডল মিশনে ভর্তি হওয়ার ফর্ম এনে দিয়েছিলেন, সহযোগিতা করেছিলেন সেকথাও জানাতে ভোলেনি তামান্না। 
গঙ্গানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জাফর আলী মণ্ডল জানান, তামান্নার সফলতায় গোটা এলাকাবাসী খুব খুশি। ও আমাদের গর্ব। খুব শীঘ্রই তাকে আমরা সংবর্ধিত করব। আমরা তার সাফল্য কামনা করছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only