শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

কুঁড়িতেই ঝরে যাচ্ছে ফুলের মতো কাবুলি শৈশব, আফগানিস্তানে ৪ বছরে হতাহত ২৬ হাজার শিশু



কাবুল, ২৭ নভেম্বরঃ শিশুরা হল ফুলের মতো নিষ্পাপ। শিশু এবং ফুলকে ভালো না বাসলে তাকে মনুষ্য পদবাচ্য ভাবা হয় না। শিশুদের জন্য প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে মহা সমারোহে বিশেষ দিবস পালিত হয়। আফগানিস্তানের শিশুরা কিন্তু এসব শুনলে হাসবে। কারণ, প্রতিদিন গড়ে ৫টা শিশুর শৈশব কেড়ে নিচ্ছে পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ। ফুল হয়ে ফোটার আগে কুঁড়িতেই তাদের একটা বড় অংশ হয় বিকলাঙ্গ হচ্ছে, নতুবা পৃথিবী ছেড়ে চিরবিদায় নিচ্ছে। 


রাষ্ট্রসংঘের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ মাত্র চার বছরেই দেশটির ২৬ হাজারেরও বেশি শিশুকে হয় হত্যা করা হয়েছে, না হয় পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য প্রধানত দায়ী মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমাদের ন্যাটোজোট। ২০০১ সালের শেষ দিকে দেশটিতে কথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় তারা। সেই থেকে ২০১৫ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৪ বছরে কত শিশুর প্রাণ কেড়েছে ন্যাটোবাহিনী, তার হিসেব নেই। উল্লেখ্য, প্রথম (১৯১৪-১৯) এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-৪৫) থেকেও দীর্ঘমেয়াদি এই আফগান যুদ্ধ। 



শিশুকল্যাণে নিবেদিত লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর রিপোর্ট বলছে, আফগানিস্তানে শেষ ১৪ বছরে প্রতিদিন গড়ে ৫টা শিশুকে হয় নিহত, না হয় বিকলাঙ্গ হয়েছে। শিশু দিবস উপলক্ষ্যে সম্প্রতি জেনেভা বৈঠকে তারা এই শিহরণ জাগানো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, শিশুদের জন্য নরকগুলজার হয়ে উঠেছে দেশটি। এমনিতেই ১৯ বছরের যুদ্ধে দেশটির অর্থনীতি কোমায় চলে গিয়েছে। যার প্রভাব প্রত্যেক পরিবারে কমবেশি পড়েছে। ফলে হতদরিদ্র অভিভাবকদের পক্ষে কচিকাঁচা বিকলাঙ্গ শিশুদের চলাহাঁটার উপযুক্ত নকল হাত-পা লাগানোর মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা বা অপারেশনের খরচ জোগানো বিলাসিতার নামান্তর। তবে এই মর্মন্তুদ পরিণতির দায় কিছুটা চেপেছে আফগানিস্তানের ক্ষমতালিপ্সু বিভিন্ন গোষ্ঠী, সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন ও তালিবানের ওপরেও।



রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭-’১৯ অন্তত ৩০০ স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিমান ও বোমা হামলা হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের আফগান চ্যাপ্টারের প্রধান ক্রিস ন্যায়মান্ডি বলেছেন, হাজার হাজার শিশুর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। তাদের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে যতি টেনে দেওয়া হয়েছে। যারা বিকলাঙ্গ হয়ে অভিশপ্তের মতো জীবন কাটাচ্ছে, তাদের যন্ত্রণা নিহতদের থেকেও বেশি। এমন অনেক শিশু দুর্বিষহ জীবন অতিবাহিত করছে যাদের দেখলে চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসবে। যুদ্ধবাজ পশ্চিমাদের মিথ্যা অজুহাতে কয়েক হাজার শিশুকে বেঁচে থাকার জন্য জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়েছে। এদের ক্ষতিপূরণ কী হবে, কারা দেবে, এ প্রশ্ন তোলেন ক্রিস ন্যায়মান্ডি। তিনি আরও বলেন, যারা গুলি-বোমার আঘাতে অঙ্গহীন হয়েছে তারা হয়ত কিছুটা ভালো আছে। কিন্তু রাসায়নিক বোমায় যাদের অঙ্গহানি হয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের শরীরে যে কোনও মারাত্মক বিষক্রিয়া হবে না বা ভাইটাল কোনও অর্গ্যান বিকল হয়ে যাবে না, তার গ্যারান্টি কোথায়?


উল্লেখ্য, ১৯৯৬-২০০১ ক্ষমতাসীন ছিল তালিবান গোষ্ঠী। ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ আমেরিকায় সন্ত্রাসী হামলা হয়। ঠিক তার একমাস পর ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে বিমান হামলা শুরু করে মার্কিন নেতৃত্বে ন্যাটোবাহিনী। যার ফলশ্রুতিতে তালিবান ক্ষমতাচ্য‍ুত হয়। ২ মে ২০১১ মার্কিন সামরিক অভিযানে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের পাহাড়ি ডেরায় হত্যা করা হয় আল-কায়দা সুপ্রিমো ওসামা বিন লাদেনকে। অথচ তারপরেও লাগাতার যুদ্ধ চালিয়ে দেশটিকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করা হল। অথচ লাদেন সউদি বংশোদ্ভ‍ুত নাগরিক হলেও আরবদের সঙ্গে পশ্চিমাদের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only