শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০

কাজ করতে গিয়ে ইরানে আটকে ৯ বাঙালী স্বর্ণশিল্পী, দেশে ফেরাতে আর্জি মুখ্যমন্ত্রীসহ প্রশাসন বিভাগের



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ­ বিদেশে চাকরির প্রলোভন দিয়ে তাঁদের বলা হয়েছিল, মোটা টাকা বেতন। সঙ্গে ভালো খাওয়া-পরা। খরচ প্রায় নেই বললেই চলে। উপার্জিত অর্থের বেশিরভাগটাই জমিয়ে দেশের বাড়িতে পাঠানো যাবে। সেই প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করে কয়েক বছর আগে এজেন্টের হাত ধরে ইরানে গিয়েছিলেন এ রাজ্যের বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগণা, হুগলির ৯ স্বর্ণশিল্পী তাঁদের নাম, সেখ জুলফিকার, মহসিন সর্দার, জিয়াউল মণ্ডল, আখতার আলি, নাসিরুদ্দিন, গোলাম মোর্তাজা, সেখ বাদশা, মিরাজুল হক, সামসুদ্দিন। 


কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পরপরই শুরু হয় সকলের যন্ত্রনাক্লিষ্ট জীবন। ইরানে নিয়ে যাওয়ার আগে যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা তাঁরা পাননি। গত ৯মাস ধরে অর্ধাহারে, কোনওরকমে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। এখন তাঁদের টাকাও ফুরিয়েছে। তাই জুটছে না খাবারও। একইসঙ্গে যে সংস্থার হয়ে তাঁরা স্বর্ণগহনা প্রস্তুত করতেন ইরানের সেই ‘আলরুইস জুয়েলার্স কেসম’ সংস্থা এখন তাঁদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে। যার কারণে এখন ইরানে অনাহারে ও টাকার অভাবে দিন কাটাচ্ছেন ওই স্বর্ণশিল্পীরা। 


বৃহস্পতিবারই এ বিষয়ে জানতে পারে ন্যাশনাল অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটি। এই সংগঠনের কাছে অভিযোগটি জানান, পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা সেখ মুহাম্মদ জুলফিকার। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার ন্যাশনাল অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটির চেয়ারম্যান জিন্নার আলি বলেন, সম্প্রতি এ রাজ্য থেকে যাওয়া ওই ৯ স্বর্ণশিল্পীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তারপরই তাঁদের সংগঠনের তরফে বিষয়টি জানানো হয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্য প্রশাসনে আধিকারিকদের। 


এরমধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব ও এডিজি সিআইডি। এছাড়াও দেশের বিদেশমন্ত্রক এবং নিউদিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস, ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে এ ব্যাপারে জানানো হয়। তাঁরা যাতে নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে পারেন তারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জিন্নার আলি আরও জানান, তাঁরা ইতিমধ্যেই যে এজেন্টের ফাঁদে পা দিয়ে ইরানে স্বর্ণশিল্পীরা কাজে গিয়েছিলেন সেই এজেন্টদের গ্রেফতারের জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে। 


উল্লেখ্য, অনেক সময় বেশি টাকা রোজগারের লক্ষ্যে অল্প বয়সী যুবকরা বিদেশে কাজের সুযোগ খোঁজেন। আর এই প্রবণতার  সুযোগকেই এর আগেও কাজে লাগিয়েছিল প্রতারক এজেন্টরা। যারা কাজের নাম করে এ রাজ্য থেকে বিভিন্ন দেশে গরীব যুবকদের কাজের জন্য পাঠায় এবং বিদেশে পৌঁছে কর্মপ্রার্থীদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। শেষপর্যন্ত ফেরার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়। কারণ যে সংস্থায় এদেশের যুবকরা কাজ করতে যায় তারা অনেক সময় পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে রাখে। মালিক বা দালালের অনুমতি ছাড়া দেশে ফেরা সম্ভব হয় না। দমবন্ধ করা পরিবেশে একটি ছোট ঘরে একসঙ্গে এদেরকে জীবন কাটাতে হয়। শেষ পর্যন্ত অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে প্রশাসনের মদদ পেলে তবেই এই শ্রমিকদের দেশে ফেরা সম্ভব হয়। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only